working to establish khilafah

সমকামিতা ও জেন্ডারিজম হল সেক্যুলার মূল্যবোধ!

হে দেশবাসী, সমকামীতা জেন্ডারিজম হলো সেক্যুলার মূল্যবোধ!

এসব পশ্চিমা সংস্কৃতির ক্রুসেড থেকে রক্ষা পেতে খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন

 

ইসলামের পুনঃজাগরণকে ঠেকাতে “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ”-এর নামে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিনীরা ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা সেক্যুলার (ধর্মনিরপেক্ষ) শাসকগোষ্ঠীর সহায়তায় আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসলামের আক্বীদা ও মূল্যবোধ মুছে ফেলতে শিক্ষা কারিকুলামে LGBTQ+ তথা সমকামীতা ও জেন্ডারিজমের মত ঘৃণ্য মূল্যবোধসমূহ চাপিয়ে দেয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সরকার নতুন শিক্ষাক্রমে সপ্তম শ্রেণীর ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান’বইয়ে “শরিফার গল্প” অন্তর্ভুক্ত করে। এই গল্পের মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডারিজম শিক্ষা দেয়ার কারণে দেশের জনগণ ক্ষোভে ফুঁসে উঠে। ট্রান্সজেন্ডারিজম হচ্ছে সমকামীতা ও জেন্ডারিজমের (লিঙ্গবাদ) প্রতিফলন। শিক্ষামন্ত্রী জনরোষ থেকে রক্ষা পেতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সাথে তুলনা করে বিষয়টিকে লুকানোর অপচেষ্টা করেছে এবং সেক্যুলার মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা ‘সহনশীলতা’ (Tolerance) ও ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ’ (Inclusive Society)-এর মোড়কে এই বিষয়টি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

মুসলিম অধ্যুষিত এই ভূখণ্ডে পশ্চিমাদের সেক্যুলার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এই সরকারের ষড়যন্ত্র শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। ইতিমধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এডিবি (Asian Development Bank)-এর সহায়তায় “ট্রান্সজেন্ডার অধিকার সুরক্ষা আইন-২০২৩” নামক একটি আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে, যা ২০২৪ সালের শেষের দিকে আইন হিসাবে চূড়ান্ত হবার অপেক্ষায় আছে। হাসিনা সরকার সেক্যুলার মূল্যবোধ বাস্তবায়নে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তা প্রমাণ হয় যখন সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি ‘প্রধানমন্ত্রীর’ সাথে দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার (কৃত্রিমভাবে লিঙ্গ পরিবর্তনকারী) ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক সাক্ষাত হয়। (প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডার হো চি মিনের সাক্ষাৎ, সময় নিউজ, আগস্ট ১০, ২০২৩)। আপনারা জানেন, LGBTQ-দের সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে পশ্চিমাদের তথাকথিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের অংশ। আপনারা জানেন, বিএনপিগোষ্ঠী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মানবাধিকারের ত্রাণকর্তা হিসেবে প্রচার করে; অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের নামে LGBTQ-কে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, LGBTQ-দের জন্য বাংলাদেশে কোন আইন নাই এবং বাংলাদেশ তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারছেনা। আমেরিকার দালাল বিএনপিগোষ্ঠী তাদের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ২৭ দফার রূপকল্পে “RAINBOW NATION” দর্শন গ্রহণ করেছে, অথচ “RAINBOW” হলো বিশ্বব্যাপী খএইঞছ-এর প্রতীক। মুসলিমগণ জানেন, লুত (আঃ)-এর সময় আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সেই গোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছিলেন যারা লুত (আঃ)-এর সতর্কতা উপেক্ষা করে সমকামীতায় লিপ্ত ছিল। অবশেষে যখন আমার নির্দেশ এসে পৌঁছালো, তখন আমরা উক্ত জনপদকে উল্টে দিলাম এবং তার উপর ক্রমাগত বর্ষণ করলাম পাকা মাটির গুচ্ছ পাথর [সূরা হুদ : ৮২]।

প্রিয় দেশবাসী, জেন্ডারিজম হচ্ছে তথাকথিত খএইঞছ কমিউনিটির একটি মতবাদ। সামগ্রিকভাবে “LGBTQ” বলতে বোঝায় Lesbian, Gay, Bisexual, Transgender and Queer; অর্থাৎ নারী সমকামী, পুরুষ সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী ও বিকৃতকামী হচ্ছে লিঙ্গবাদ (Genderism) ধারনা, যা পশ্চিমা স্রষ্টাবিবর্জিত ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের ব্যক্তি-স্বাধীনতা (Personal Freedom) নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। জেন্ডারিজম ধারনাটির মাধ্যমে পশ্চিমারা দাবী করে মানবজাতিকে নারী ও পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা একটি সামাজিক ধারনা (Social Construct) যার বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা (Objective Reality) নাই। প্রকৃতপক্ষে জেন্ডারিজম ধারনাটিই তাদের কল্পনাপ্রসূত একটি সামাজিক ধারনা (Social Construct) যার মূল ভিত্তি হচ্ছে লিঙ্গ স্বাধীনতা অর্থাৎ “My gender, my choice”। পশ্চিমারা নিজেদের বিজ্ঞানমনস্ক দাবী করে অথচ তাদের এই ধারনাটিই অবৈজ্ঞানিক (Unscientific), কল্পনাপ্রসূত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন যার কোন বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা (Objective Reality) নাই, যার কারণে তারা নিজেরাই এই বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত এবং চরম বিভক্ত। পশ্চিমাগোষ্ঠী এবং তাদের দালাল শাসকগোষ্ঠী ও ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীরা ট্রান্সজেন্ডার (রূপান্তরিত পুরুষ ও রূপান্তরিত নারী)-কে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সাথে তুলনা করে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে, একজন হিজড়া হলো লিঙ্গগত শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করা একজন ব্যক্তি, অন্যদিকে ট্রান্সজেন্ডার হচ্ছে সুস্থ পুরুষ বা নারী যারা স্বেচ্ছায় কৃত্রিমভাবে বিপরীত লিঙ্গে রূপান্তরিত হতে চায়। পশ্চিমাদের ধোঁকাবাজীর কোন সীমা নাই, কারণ ট্রান্সজেন্ডার নিজেদেরকে রূপান্তরিত পুরুষ অথবা নারী দাবী করলেও প্রকৃতপক্ষে কখনোই তারা পূর্ণাঙ্গ পুরুষ বা পূর্ণাঙ্গ নারী হতে পারে না। এভাবে পশ্চিমারা পুরো মানবজাতিকে মহাবিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদের বিষয়ে বলেন, অথবা তাদের কাজগুলো গভীর সমুদ্রের অন্ধকারের মতো, ঢেউয়ের উপর ঢেউ দ্বারা আবৃত, অন্ধকার মেঘ দ্বারা আবৃত অন্ধকারের উপর অন্ধকার! যখন কেউ তার হাত বের করে, তখন তা একেবারেই দেখতে পায় না  আর আল্লাহ্ যাকে নূর দান করবেন না তার কোন নূর (আলো) থাকবে না!” [সূরা আন-নূর : ৪০]।

প্রিয় দেশবাসী, যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই কি জানেন না, অথচ তিনি সূক্ষ্মজ্ঞানী, সম্যকজ্ঞাত?” [সূরা আল-মুলক : ১৪]। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, হে মানবসম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি (আদম) থেকে সৃষ্টি করেছেন তার থেকে তার সঙ্গিনী (হাওয়া)-কে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দুজন থেকে (পৃথিবীতে) বহু নরনারী বিস্তার করেছেন [সূরা আন-নিসা : ০১]। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মানবকুলে নারী ও পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, প্রতিযোগী হিসেবে নয়; আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, “যথার্থই, নারী পুরুষ একে অপরের পরিপূরক(তিরমিজি : ১১৩)। ফলে মুসলিমদের সমাজে লিঙ্গ-সমতা বা লিঙ্গ-স্বাধীনতা নিয়ে কোন বিতর্ক নাই। সুতরাং, ইসলামে লিঙ্গ পরিবর্তন করে শরিফ থেকে শরিফা হওয়াতো দূরের কথা, কোন নারী পুরুষের বেশ ধারণ করা বা কোন পুরুষ নারীর বেশ ধারণ করাই নিষিদ্ধ। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) নারীর বেশধারী পুরুষদের এবং পুরুষ বেশধারী নারীদের লানত করেছেন। ইসলামে তৃতীয় লিঙ্গ বলতে কিছু নাই, বরং যাদের জন্মগতভাবে লিঙ্গ ত্রুটি রয়েছে অর্থাৎ তথাকথিত হিজড়াদের সম্পর্কে ইসলামের বিধান সুস্পষ্ট। হযরত আলী (রা.) রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর কাছে প্রসূত বাচ্চা পুরুষ নাকি নারী তা নির্ধারণ করতে না পারলে তার বিধান কী জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) জবাব দিলেন, সে মিরাস (উত্তরাধিকার) পাবে যেভাবে সে প্রস্রাব করে (সুনানে বায়হাকি)। সুতরাং, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাদের মধ্যে পুরুষের বৈশিষ্ট্য বেশী বিদ্যমান তাদেরকে পুরুষ এবং যাদের মধ্যে নারীর বৈশিষ্ট্য বেশী রয়েছে তাদেরকে নারী হিসেবে চিহ্নিত করে তার উপর শারী’আহ্ হুকুম অনুসরণ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম দেশসমূহে লিঙ্গ পরিবর্তন বা ট্রান্সজেন্ডার নীতি ইসলামের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র, এর মাধ্যমে তারা ইসলামের শারী’আহ্ কাঠামো ভেঙ্গে ফেলতে চায়। ইসলামে উত্তরাধিকার আইন, বিবাহ আইন, নারী-পুরুষের পর্দার বিধান সহ অনেক শারী’আহ্ আইন নারী-পুরুষের পরিচয়ের উপর নির্ভরশীল। যেসব বুদ্ধিজীবীরা “সহনশীলতা” (Tolerance) বা “অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ” (Inclusive Society) এর ধোঁয়া তুলে “এই বিষয়ে আলোচনার সুযোগ আছে” বলে মন্তব্য করে, তারা মূলতঃ ইসলামবিদ্বেষী ও পশ্চিমাদের ক্রয়কৃত দালাল। তারা এই মুসলিম ভুকূখণ্ডে পশ্চিমাদের LGBTQ এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

হে ঈমানদারগণ, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ হলো “Sugar-Coated Poison”, যার মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী-বিএনপি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের অনুগত বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন মোড়কে মুসলিমদেরকে “Slow Poisoning” করে তাদের ঈমান-আক্বীদা ধ্বংস করছে। প্রকৃতপক্ষে, এর মাধ্যমে তারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ক্রুসেড পরিচালনা করছে। মুজিবের “এই জাতিকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশা’আল্লাহ্”, জিয়ার “সংবিধানে বিসমিল্লাহ্ সংযোজন” এবং এরশাদের “রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম” এর মাধ্যমে ইসলামের আক্বীদা পরিপন্থী তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দ্বারা দশকের পর দশক আপনাদেরকে শাসন করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এখন হাসিনার “গণতান্ত্রিক-ক্রুসেড” কিংবা বিএনপির “রেইনবো ন্যাশন” ধারনার মাধ্যমে তারা তাদের ভন্ডামির খোলস থেকে বের হয়ে তাদের প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং আমাদের উপর পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ চাপিয়ে দিচ্ছে। তাই বর্তমান কুফর “ধর্মনিরপেক্ষ-গণতান্ত্রিক” ব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেয়া আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। রাসূলুল্লাাহ্ (সাঃ) আমাদেরকে সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলো যে তার কাঁধে কোনো খলিফার নিকট আনুগত্যের শপথ (বাইআত) নেই, তবে তার মৃত্যু হচ্ছে জাহেলী যুগের মৃত্যু (সহীহ্ মুসলিম)। এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অগ্রগামী না হলে আমাদের ঈমান, আক্বীদা, পরিবার-পরিজন দুনিয়া ও আখিরাতে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। একমাত্র খিলাফত ব্যবস্থা পশ্চিমা সংস্কৃতির ক্রুসেড থেকে আপনাদেরকে রক্ষা করবে। তাই খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার দায়িত্ব অনুধাবন করে সত্যনিষ্ঠ দল হিযবুত তাহ্রীর-এর নেতৃত্বে খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে শামিল হতে হবে। আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র শুধুমাত্র ইসলামের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ক্রুসেডই বন্ধ করবে না, বরং সমগ্র বিশ্বকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে ইসলামের আলোতে নিয়ে আসবে।

আলিফলামরা; এটি একটি কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি যাতে আপনি মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেনপরাক্রমশালী, সর্বপ্রশংসার যোগ্য পালনকর্তার নির্দেশে তাঁরই পথের দিকে [সূরা ইব্রাহীম : ০১]।

রবিবার, ০৮ শাবান, ১৪৪৫ হিজরী

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ