working to establish khilafah

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: অসম্পূর্ণ গণঅভ্যুত্থানকে পূর্ণাঙ্গ করার লক্ষ্যে হিযবুত তাহ্‌রীর-এর আহ্বান

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

بسم الله الرحمن الرحيم

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: অসম্পূর্ণ গণঅভ্যুত্থানকে পূর্ণাঙ্গ করার লক্ষ্যে হিযবুত তাহ্‌রীর-এর আহ্বান

যালিম শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর সেই ঐতিহাসিক মুহুর্তের পর আজ দুই বছর পার হয়ে গেছে। দেশের জনগণের জন্য সেই মুহুর্তটি ছিল যেমন স্বস্তির, তেমনি ছিল গভীর আত্মউপলব্ধির—পূর্বের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার এবং ভবিষ্যতকে সঠিক পথে পরিচালিত করার। আজ যখন বিভিন্নজন এই অর্জনের বাহবা কুড়াতে ও নিজেদের জয়গানে ব্যস্ত, তখন আমরা হিযবুত তাহ্‌রীর সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সেই দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথটির কথা—যা আমাদেরকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

যালিম হাসিনার বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক লড়াই ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়নি; বরং স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে—যখন হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপর ভারতের সহযোগী হয়ে পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ভারতের সাথে তার সেই ঘৃণ্য আঁতাত আমরা জাতির সামনে প্রকাশ করেছি এবং তার সরকারের হুমকি, গ্রেফতার ও নির্যাতনের মুখে আপসহীন অবস্থান নিয়েছি। যখন সব রাজনৈতিক দল নীরব দর্শক ছিল, তখন আমরা হিযবুত তাহ্‌রীর অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, কিন্তু রাজপথ ছাড়িনি।  ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন গণঅভ্যুত্থানের দাবানল জ্বলে উঠল এবং রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠল, সেই সময়গুলোতেও আমরা দেশবাসী ও সামরিক অফিসারদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দিয়ে মাঠে ছিলাম।

এটা সত্য যে, স্বৈরাচার পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে; কিন্তু সেই বিজয় অর্জনটাই শেষ কথা ছিলনা। আরও স্পষ্টভাবে বললে বলতে হয়—এই গণঅভ্যুত্থান এখনো অসম্পূর্ণই আছে।

দেশের জনগণ কেবলমাত্র একজন ব্যক্তিকে সরানোর জন্য এই আন্দোলন করেনি। তাদের চিন্তা ও চেতনার মূল ছিল আরও গভীরে—অর্থাৎ, তাদের ইসলামী বিশ্বাস এবং প্রকৃত মুক্তির স্বপ্ন ঔপনিবেশিকদের আধিপত্য থেকে। দেশের জনগণ যেমন ভারতের গোলামি মেনে নেয়নি, ঠিক তেমনি তারা আমেরিকার পুতুল হতেও রাজি নয়। তারা বিদেশী আধিপত্যবাদের চির অবসান চায়। কিন্তু বর্তমানে বাস্তবতা দেখলে মনে হয়, ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত স্বাধীনতাকে তুলে দেওয়া হচ্ছে পশ্চিমা উপনিবেশবাদীদের হাতে। আমাদের তরুণরা এর জন্য  রক্ত দেয়নি, এটি তাদের কাঙ্ক্ষিত ‘প্রকৃত স্বাধীনতা’ হতে পারে না।

হে দেশবাসী! গণঅভ্যুত্থানের গতিপথ সংশোধন করার সময় ফুরিয়ে যায়নি, বরং এটাই উপযুক্ত সময়। কারণ বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদীগোষ্ঠীর প্রভাব-প্রতিপত্তি আজ ক্ষয়িষ্ণু। এটিই আমাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ, আর তাই বিলম্ব না করে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, আমরা হিযবুত তাহ্‌রীর আপনাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী নই। ‘অসম্পূর্ণ গণঅভ্যুত্থান’ থেকে এই জাতিকে ‘পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থানের’ দিকে পরিচালিত করার মতো স্পষ্ট রোডম্যাপ কেবল আমাদেরই প্রস্তুত করা আছে। আমাদের হাতে রয়েছে খসড়া সংবিধান, শাসনকার্য পরিচালনার সুনির্দিষ্ট নীতিসমূহ এবং একদল নিষ্ঠাবান তরুণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের সমন্বিত শক্তি।

বিগত দীর্ঘ বছরগুলোতে আমরা ইসলামী আদর্শের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করিনি এবং আজও করব না। নবুয়তের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই রাষ্ট্রকে একটি  নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দেয়ার পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও প্রস্তুতি উভয়ই আমাদের রয়েছে।

যদি জনগণ এবং দেশের নিষ্ঠাবান অংশ আজ হিযবুত তাহ্‌রীর-এর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চিরকালের জন্য এক অসম্পূর্ণ স্বপ্নই রয়ে যাবে। জনগণের এই মহান আত্মত্যাগকে আমরা কিছুতেই বৃথা যেতে দিতে পারি না।

এই ঐতিহাসিক সুযোগকে হাতছাড়া করবেন না। আল্লাহ্‌ ﷻ ও তাঁর রাসূল ﷺ এর আহ্বানে সাড়া দিন—কারণ তিনিই ﷻ প্রকৃতপক্ষে মৃতপ্রায় জাতিসমূহের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেনঃ

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের সেই আহ্বানে সাড়া দাও, যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করা হয় যা তোমাদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করে” [সূরা আল-আনফাল: ২৪]

হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস