working to establish khilafah

‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (ART)’ বাংলাদেশকে উপনিবেশবাদী মার্কিনীদের ‘প্রক্সি রাষ্ট্রে’ পরিণত করার অপচেষ্টা; রাজনৈতিক স্বদিচ্ছাই এই গোলামী চুক্তি থেকে বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

بسم الله الرحمن الرحيم

‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (ART)’ বাংলাদেশকে উপনিবেশবাদী মার্কিনীদের ‘প্রক্সি রাষ্ট্রে’ পরিণত করার অপচেষ্টা; রাজনৈতিক স্বদিচ্ছাই এই গোলামী চুক্তি থেকে বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট

ট্রাম্পের একতরফা শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত “পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি” (ART) কোনোভাবেই সাধারণ চুক্তি নয়, বরং এটি এক অভূতপূর্ব দাসত্বমূলক চুক্তি। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্য-কৃষি, সাইবার সিকিউরিটি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামরিক বাহিনীর উপর উপনিবেশবাদী মার্কিনীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এই চুক্তিটি পতিত হাসিনার আমলে স্বাক্ষরিত (নভেম্বের ২৫, ২০১৩), বিতর্কিত “Trade and Investment Cooperation Forum Agreement (TICFA) চুক্তির নব্য সংস্করণ। এই চুক্তির অধীনে দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি: ‘জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট’ (GSOMIA) এবং ‘অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ (ACSA) দ্রুত কার্যকরের পথ তৈরি করা হলো। GSOMIA স্বাক্ষরিত হলে আমাদের সামরিক স্থাপনাগুলো বিদেশী নজরদারীর আওতায় চলে যাবে, আর ACSA কার্যকর হলে দেশের ভূখণ্ডকে কার্যত একটি অঘোষিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করার পথ খুলে যাবে। এতে মার্কিন অস্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেশকে কৌশলগতভাবে এক ধরনের ফাঁদে  আবদ্ধ করে ফেলা হবে। এক কথায়, ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (ART)’-এর আড়ালে উপনিবেশবাদী মার্কিনীরা বাংলাদেশকে তার প্রক্সি রাষ্ট্রে পরিণত করার মাধ্যম তার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। অর্থাৎ, চীনের উত্থানকে নিয়ন্ত্রণ এবং মুসলিম উম্মাহ্‌’র রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা-খিলাফত রাষ্ট্রের আবির্ভাবকে প্রতিহত করতে চায়। সুস্থ মস্তিষ্কের কোন সচেতন নাগরিকের পক্ষে এই চুক্তিকে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ্‌ ﷻ বলেন, “…যদি তারা তোমাদের উপর আধিপত্য অর্জন করতে পারে, তবে তারা তোমাদের বন্ধুত্ব ও চুক্তির কোন মর্যাদা দেবে না …” [সূরা আত-তাওবাঃ ৮] ।

দেশবিরোধী এই বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে দেশের সর্বস্তরের সচেতন জনগণ তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে, কিন্তু রহস্যজনকভাবে সরকারী ও বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলসমূহ এই বিষয়ে নিষ্ক্রিয়-নিশ্চুপ। তাই জনগণের প্রশ্ন, তারা কি ক্ষমতায় টিকে থাকতে জনগণের শক্তির উপর নির্ভরশীল না হয়ে মার্কিনীদের সমর্থনের উপর নির্ভরশীল? তাহলে তাদের জেনে রাখা উচিত, অতীতে মার্কিনীদের স্বার্থ রক্ষার পরও ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে হতে হয়েছে মার্কিনীদের লক্ষ্যবস্তু! ইরানের ডিজিটাল খাত (বিশেষ করে, স্টার লিংকের অবস্থান) মার্কিনীদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে তারা ইরানের উচ্চপদস্থ শাসক, সামরিক কমান্ডার ও বিজ্ঞানীদের হত্যার সুযোগ পেয়েছে। “ফলে আল্লাহ্‌ তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ভোগ করালেন, আর আখিরাতের শাস্তি তো আরো কঠিন। যদি তারা জানত!” [আয-যুমারঃ ২৬] ।

প্রকৃতপক্ষে, রাজনৈতিক স্বদিচ্ছাই এই গোলামী চুক্তি থেকে বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট। যেখানে আমাদের প্রবাসীরা বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশী বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে, সেখানে মার্কিনীদের সাথে ৭.২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির তোয়াক্কা না করাই সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত- যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদেরকে স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। পোশাক শিল্পের উপর একক নির্ভরতাকে কমিয়ে, প্রবাসী শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান,  চামড়া শিল্পসহ স্থানীয় কাঁচামালনির্ভর রপ্তানীমুখী শিল্পকে পৃষ্টপোষকতা প্রদান এবং রপ্তানী বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশের তেল-গ্যাস খাতে শেভরন-এক্সিলারেটেড এনার্জি যে লুটপাট করছে সেখান থেকে দেশকে মুক্ত করে এসব সম্পদ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসতে হবে। হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ  ইতিপূর্বে জাতির সামনে স্বনির্ভর অর্থনীতির রূপকল্প প্রদান করেছে, যা সচেতন মহলে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে। তাই, দেশের নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদদেরকে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে এবং এই চুক্তি বাতিল করতে সক্রিয় হতে হবে। এবং জনগণকেও এই চুক্তির বিষয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের নিকট সুস্পষ্ট অবস্থানের  দাবী জানাতে হবে।

হে দেশবাসী, আপনারা জানেন, একমাত্র হিযবুত তাহ্‌রীর-এর নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক নেতৃত্ব খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্‌‘কে কাফির উপনিবেশবাদীদের কবল থেকে মুক্ত করতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। তাই, আপনাদেরকে আল্লাহ্‌ ﷻ প্রতিশ্রুত খিলাফতে রাশিদাহ্‌ প্রতিষ্ঠায় হিযবুত তাহ্‌রীর-এর নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই কাজকে বেগবান করতে হবে। আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র মুসলিম উম্মাহ্‌‘কে ঐক্যবদ্ধ করবে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বর্তমান যুলুমের পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থাকে প্রতিহত করে ইসলামের ভিত্তিতে ন্যায়পরায়ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলবে, ইনশা‘আল্লাহ্‌।

﴿يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱسْتَجِيبُوا۟ لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ۖ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের সেই আহ্বানে সাড়া দাও, যখন তোমাদেরকে এমনকিছুর দিকে আহ্বান করা হয় যা তোমাদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করে[সূরা আল-আনফালঃ ২৪]

হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস