ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে, সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যমুক্ত স্বনির্ভর ইসলামী বাজেটের রুপরেখা তুলে ধরতে হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ, অনলাইন সম্মেলনের আয়োজন করে
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
بسم الله الرحمن الرحيم
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে, সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যমুক্ত স্বনির্ভর ইসলামী বাজেটের রুপরেখা তুলে ধরতে
হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ, অনলাইন সম্মেলনের আয়োজন করে
পতিত হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে, ছাত্র-জনতার লাশের উপর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, বরং তারা শেষ মুহুর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি সই করে দেশের অর্থনীতির উপর মার্কিনীদের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি সরকার ৯.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রথম বাজেট ঘোষণা করেছে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই বাজেটে কোন কাঠামোগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি—সাম্রাজ্যবাদী ঋণের বেড়াজাল এবং শোষণমূলক ভ্যাট-ট্যাক্স নির্ভর রাজস্ব কাঠামো আগের মতই আছে। এমন প্রেক্ষাপটে, হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ, ২৪ জুলাই, ২০২৬, রোজ শুক্রবার, সন্ধা ৭:৩০ মিনিট, “ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্বনির্ভর ইসলামী বাজেটের রূপরেখা” শীর্ষক অনলাইন সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনটি আল-ওয়াকিয়া টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
ভিডিও লিঙ্কঃ https://rumble.com/v7d6nne-national-budget-conference-blueprint-for-a-self-reliant-islamic-budget.html?start=98
সম্মেলনের প্রথম বক্তা বলেন: অতীতের বাজেটগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ সেগুলো পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক এর প্রেসক্রিপসনে করা হয়েছে, এবং সেখানে শোষণমূলক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করা হয়েছে। অতীতের বাজেটগুলোতে, প্রধান রাজস্বখাত ছিল ভ্যাট-ট্যাক্স, বর্তমানেও তাই আছে। অতীতেও, ঋণ ও ঋণের সুদ ছিল, বাজেট ঘাটতি ছিল, বর্তমানেও তাই আছে। অতীতের বাজেটে ADP, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও কর-জিডিপি অনুপাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতো, এবারের বাজেটেও ঠিক একই খাতগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাজেটের খাতগুলো হুবহু একই আছে, শুধু পরিবর্তন হয়েছে সংখ্যায় ও বরাদ্দে এবং শ্লোগাণে; কিন্তু কাঠামো আগের মতোই রয়ে গেছে। বক্তা শোষণমূলক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক মডেল এবং সাম্রাজ্যবাদী ঋণের ফাঁদে আবদ্ধ বর্তমান বাজেটের স্বরূপ উন্মোচন করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন:
- ট্রিকল-ডাউন অর্থনৈতিক মডেল এবং কতিপয় পুঁজিপতির হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূতকরণ
- রাষ্ট্রের শোষণ মূলক কর কাঠামো
- ঋণের ফাঁদ
- ঋণের শর্ত এবং অর্থনৈতিক দাসত্ব
পাশাপাশি বক্তা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী এবং কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণাকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার ও জনগণের প্রকৃত মুক্তির পথ নয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। সরকার বাজেটে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, হেলথ কার্ডসহ, দেশব্যাপী স্থানীয় সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ‘খাল খনন’ ইত্যাদি কর্মসূচী গ্রহন করেছে। প্রকৃতপক্ষে, এসকল কর্মসূচী জনগণের সমস্যার তুলনায় খুবই সীমিত এবং মূল সমস্যাকে আড়াল করার বৃথা চেষ্টা। একদিকে, সরকার হকারের উপর ট্যাক্স বসাচ্ছে আর অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণার জন্ম প্রকৃতপক্ষে জনগণের প্রতি ভালোবাসা থেকে নয়, বরং পশ্চিমা বিশ্বে পুঁজিবাদী শোষণে পিষ্ট সাধারণ জনগণের ক্ষোভকে প্রশমিত করতে তৎকালীন শাসকশ্রেণীর রাজনৈতিক কৌশল ছিল।
সম্মেলনের দ্বিতীয় বক্তা, ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক নীতিসমূহ এবং এর ভিত্তিতে প্রণীত ইসলামী বাজেটের রূপরেখা তুলে ধরেন—যার লক্ষ্য স্বনির্ভর অর্থনীতি ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোর সম্পূর্ণ বিপরীতে, ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম মৌলিক নীতি হচ্ছে: সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা এবং কতিপয় পুঁজিপতির মধ্যে সম্পদের একটিয়া কেন্দ্রীকরণকে প্রতিরোধ করা। আল্লাহ্ ﷻ বলেন, كَىْ لَا يَكُونَ دُولَةًۢ بَيْنَ ٱلْأَغْنِيَآءِ مِنكُمْ “…যাতে সম্পদ তোমাদের ধনী শ্রেণীর মধ্যেই আবর্তিত না হয়” (সূরা আল-হাশর: ৭)।
ইসলামী অর্থব্যবস্থার আরেকটি মূলনীতি হচ্ছে, প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত পর্যায়ে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং তার সাথে সম্পর্কিত শিক্ষা-চিকিৎসা-নিরাপত্তার মত মৌলিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করা। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন: لَيْسَ لِابْنِ آدَمَ حَقٌّ فِي سِوَى هَذِهِ الْخِصَالِ: بَيْتٌ يَسْكُنُهُ، وَثَوْبٌ يُوَارِي عَوْرَتَهُ، وَجِلْفُ الْخُبْزِ وَالْمَاءِ“আদম সন্তানের জন্য তিনটি বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর অপরিহার্য অধিকার নেই—বসবাসের জন্য একটি ঘর, লজ্জা নিবারণের জন্য পোশাক এবং জীবনধারণের জন্য রুটি ও পানি।” (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪১)। ইসলামী অর্থব্যবস্থায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণকেই নিশ্চিত করা নয়, বরং বৈধ উপায়ে নাগরিকদের স্বচ্ছল, মর্যাদাপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
দ্বিতীয় বক্তা, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, ইসলামী অর্থনৈতিক মডেলের উপর ভিত্তি করে প্রণীত বাজেট কীভাবে জনকল্যাণ নিশ্চিত করবে এবং দেশকে স্বনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত করবে তার একটি রূপরেখা তুলে ধরতে গিয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন:
- গণমালিকানাধীন সম্পদ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব
- খারাজ
- রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ভারী শিল্পের মুনাফা থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব
- জিযিয়া—অমুসলিম নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিনিময়ে রাষ্ট্রের রাজস্ব
- যাকাত ফান্ড—সম্পদের পুনর্বণ্টন ও দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর ব্যবস্থা
আল্লাহ্ ﷻ বলেন,
﴿وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنْ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ﴾
“আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করত তবে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম; কিন্তু তারা (সত্যকে) প্রত্যাখ্যান করল, কাজেই তাদের কৃতকর্মের জন্য আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম” [সূরা আল-আ’রাফ: ৯৬]
হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস