working to establish khilafah

Weekly ISLAMIC VIEWPOINT 62

 

Weekly

ISLAMIC VIEWPOINT

….সপ্তাহের সংবাদ পর্যালোচনা

৬২ তম সংখ্যা ২৩ আগস্ট, ২০২২

 

 

 

 

এই সংখ্যায় থাকছে:

ভারতকে বলেছি শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

“উত্তরায় এটিএম বুথে ঢুকে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা”

গার্ডার চাপায় চিড়ে চ্যাপ্টা গাড়ি, ভেতরেই গেল প্রাণ

আর্মিদের মুখে আল্লাহ্শব্দ

বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বুয়েটে পুনরায় ছাত্র রাজনীতি চালুর অনুরোধ জয়ের

“আইএমএফ-এর ঋণ পেতে বাংলাদেশকে যেসব শর্ত মানতে হতে পারে”

দোষ কি সব আইএমএফের?”

 

 

 

 

 

ভারতকে বলেছি শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

খবরঃ

শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার, তা করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জেএমসেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি। (https://www.amadershomoy.com/national/article/18609/ভারতকে-বলেছি-শেখ-হাসিনা-স)

মন্তব্যঃ

আওয়ামী-বিএনপি নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদদের এখন রাজনীতিতে জনগণকে দেয়ার মতো আকর্ষণীয় আর কোন অফার নেই। ফলশ্রুতিতে পশ্চিমা ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দালালী করে ক্ষমতায় টিকে থাকাই দেউলিয়া হয়ে পড়া এসব রাজনীতিবিদদের প্রধান আদর্শ। তাই এসব রাজনীতিবিদদের কর্তৃক খোলামেলাভাবে ভারতের মত বিদেশী রাষ্ট্রের আশীর্বাদ ও সহায়তা কামনা করা দেখে খুববেশী আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। ইতিপূর্বে “ভারতের সাথে বাংলাদেশের রক্তের সম্পর্ক” কিংবা “স্বামীস্ত্রীর” সম্পর্ক ইত্যাদি বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে এসব শাসকদের নির্লজ্জ ভারত তোষণ নীতি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। সাম্প্রতিক লবিস্ট বিতর্ক থেকে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি এই আওয়ামী-বিএনপি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় থাকতে অথবা ক্ষমতায় আসীন হতে কিভাবে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে যাচ্ছে এবং তাদের বিদেশী প্রভুদের কাছে ধরণা দিচ্ছে। আমরা এটাও প্রত্যক্ষ করেছি, বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা RAB-এর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এবং তাদের প্রতি মনোভাব পরিবর্তনে কিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করুণা ভিক্ষা করেছে। হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতের করুণা ভিক্ষার ব্যাপক সমালোচনাকারী বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনীতিবিদরাও বিদেশী শক্তিসমূহের দালালীতে কোন অংশে কমে যায় না, যা ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপি কর্তৃক ভারতে প্রতিনিধিদল পাঠানোর ঘটনায় সুস্পস্ট। বিএনপিসহ ভারতবিরোধী রাজনীতিকদের ভারতীয় হাইকমিশনের ইফতারেও দেখা যায়। আমরা জানি, খালেদা জিয়া ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে তারা ক্ষমতায় এলে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিল, ‘পেছনে নয় তাকাতে হবে সামনে, এবং ভারত সফর নতুন দিনের সূচনা করেছে’।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, পশ্চিমা ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দালালী করে ক্ষমতায় আরোহণ ও টিকে থাকা বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ শাসকদের পুরনো ঐতিহ্য। ব্রিটিশরা ১৭৫৭ সালে এ উপমহাদেশে মুসলিমদের সাতশ বছরের বেশি সময়ের শাসন বিলুপ্ত করে তাদের ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, অতঃপর তাদের কাছে আনুগত্য বিক্রি করে প্রথম প্রজন্মের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ যেমনঃ মহাত্মা গান্ধী-নেহুরুর মত রাজনীতিকদের জন্ম হয়। এসব দালাল রাজনীতিকদের নেতৃত্বেই ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ গঠিত হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশরা স্বশরীরে এ উপমহাদেশ ত্যাগ করলেও এসব ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকদের হাতেই তাদের শাসনক্ষমতা ন্যস্ত করে এ উপমহাদেশে তাদের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিন্নাহ্‌’র মত দ্বিতীয় প্রজন্মের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্ম হয় যারাও মনে প্রাণে ছিলেন কাফির-মুশরিকদের অনুগত। শেখ মুজিবুর রহমানও ভারতের সমর্থন ও সহায়তা প্রার্থনা করেছিলেন, যা তৎকালীন ভারতীয় কুটনীতিক Sashanka S Banarjee’র বর্ণনায় প্রমাণ পাওয়া যায়, “To cut a long story short, Mujibur opened his book in a business-like manner into what he wanted from India. He wanted India’s ‘no-holds-barred’ support to a Bangladesh Liberation Struggle” (https://blogs.lse.ac.uk/southasia/2021/02/15/mujibur-rahmans-first-secret-meeting-with-an-indian-officer-me/) ঠিক একইভাবে, আওয়ামী-বিএনপি’র নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের পূর্বসূরীদের দালালীর ঐতিহ্যই বহন করে যাচ্ছে, যারা ইঙ্গ–মার্কিন ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সাহায্যে নিজেদের সিংহাসনকে সুরক্ষিত ছাড়া তাদের অন্য কোন রাজনীতি নেই।

অন্যদিকে ইসলাম এমন রাজনীতিবিদ তৈরি করে যারা রাসুলুল্লাহ (সাঃ), খুলাফায়ে রাশেদীন ও তৎপরবর্তী ১৪০০ বছরের অধিক সময় ধরে পরাক্রমশালী খিলাফত রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেয়া খলীফাগণের মধ্যে আমরা দেখতে পেয়েছি। খিলাফত রাষ্ট্রে শাসকদের ক্ষমতার উৎস কোন সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র নয়। এখানে রাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের অভ্যন্তরীণ বিষয়সমূহ তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি বহিঃশত্রুর আগ্রাসন থেকে জনগণকে রক্ষা করা। এবং তা শুধু মুসলিম উম্মাহ্‌’কে ঘিরেই নয়, বরং বিশ্বের নির্যাতিত-নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে ইসলামের ন্যায়ের শাসনের অধীনে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। অতীতে ইসলামী রাজনীতিবিদগণ কোন পরাশক্তির কাছে মাথা নত করেননি; বরং প্রশান্ত থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। কন্সটান্টিনোপল জয়কারী সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতেহ্‌ বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে শুধু রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ভবিষ্যতবাণীটিই সম্পন্ন করেননি, বরং তিনি সেই অঞ্চলের খ্রিস্টানদের ইসলামের ন্যায়ের শাসনের অধীনে এনেছিলেন। আমরা ম্যাগ্নিফিসেন্ট খ্যাত উসমানী খলীফা সুলাইমান আল কানুনির নাম জানি যিনি এক হুংকারে ফ্রান্সের রাজাকে তার দেশে অশ্লীল নৃত্যানুষ্ঠান বন্ধে বাধ্য করেন। আবার, মানবজাতির অবিভাবক হিসেবে আয়ারল্যান্ডের দুর্ভিক্ষ পীড়িত জনগণের জন্য সুলতান আব্দুল মাজিদ (I) সাহায্যবোঝাই জাহাজ দ্রগবা বন্দরে প্রেরণ করেন। আব্বাসীয় খলিফা হারুন অর রশীদের সময়কালে তৎকালীন রোমান সম্রাট নিকোফোরাস বাৎসরিক খাজনা দিতে অস্বীকার করলে খলীফা উদ্ধত রোমান সম্রাটকে শাস্তি দেবার লক্ষ্যে কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী রোমান শহর অবরোধ করে মাত্র সাত দিনের মাথায় সম্রাট নিকোফোরাসকে পুনরায় খাজনা দিতে বাধ্য করেন। যখন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর চরিত্রকে উপহাস করে ফ্রান্স ও ব্রিটেন ভলতেয়ারের লেখা অবলম্বনে “মোহাম্মদ বা ধর্মান্ধতা” শিরোনামের একটি নাটক মঞ্চস্থ করে, তখন উসমানী খলিফা দ্বিতীয় আবদুল হামিদের হুমকিতে তৎকালীন ফ্রান্স ও পরাশক্তি ব্রিটেন এই নাটক বন্ধ করে খলীফার কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। তাই দেশের জনগণকে পশ্চিমা ও ভারতীয় দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে হলে ইসলামী আদর্শ অনুসরণের সেই রাজনীতির ধারায় ফিরে যেতে হবে। ইসলামী জীবনাদর্শকে ধারণ করা রাজনৈতিক দল হিযবুত তাহরীর হতে আল্লাহ্‌’র ইচ্ছায় সেসব রাজনীতিবিদ তৈরি হচ্ছেন, যারা পশ্চিমা-ভারতীয়দের ষড়যন্ত্র উন্মোচন, উম্মাহ্‌’র স্বার্থরক্ষার রাজনীতিতে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। যারা খিলাফত রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র নীতিসহ সকল মানবিক সমস্যা সমাধানের শারীয়াহ নীতিমালা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রস্তুত। আল্লাহ্‌’র ইচ্ছায় অচিরেই তাদের নেতৃত্বে ইসলামী বিশ্বব্যবস্থার গোড়াপত্তণ ঘটবে। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, তিনিই আল্লাহ্‌, যিনি তাঁর রাসুলকে প্রেরণ করেছেন হেদায়েত সত্য জীবনব্যবস্থাসহ যাতে তা অন্য সকল জীবনব্যবস্থার উপর বিজয় লাভ করে(সুরা আস সফঃ ৯)

  • মোহাম্মদ সিফাত

 

 

“উত্তরায় এটিএম বুথে ঢুকে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা”

খবরঃ

রাজধানীর উত্তরায় এটিএম বুথে টাকা তোলার সময় শরিফ উল্লাহ্‌ (৪৪) নামের এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। শরিফ উত্তরার ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথে টাকা তুলতে যায়। সেসময় অভিযুক্ত হত্যাকারী আবদুস সামাদ (৩৮) বুথে ঢুকে শরিফের টাকা কেড়ে নিতে চায়। শরিফ বাধা দিলে সামাদ তাকে ছুরিকাঘাত করে। (https://bangla.thedailystar.net/news/bangladesh/crime-justice/news-381371)

মন্তব্যঃ

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জানান হত্যাকারী আবদুস সামাদ কোন পেশাদার ছিনতাইকারী নয়। বেশ কিছুদিন পূর্বে সে চাকুরী হারিয়ে বেকার হয়ে যায়। অভাবের তাড়নায় ও অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতে সে এটিএম বুথে ছিনতাই করতে উদ্যত হয়েছিল বলে জানা যায়। যে কারণেই হোক না কেন, ছিনতাই করতে উদ্যত হওয়া কিংবা মানুষ হত্যা করা নিঃসন্দেহে একটি জঘণ্য অপরাধ। তবে, অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন সাম্প্রতিক সময়ে কর্মসংস্থান হারিয়ে অনেক সাধারণ মানুষ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, গত ৬ মাসে রাজধানীতে খুন হয়েছে ৮২ জন; পাশাপাশি বেড়েছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। প্রতারণার মাধ্যমেও কেউ কেউ অর্থ উপার্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চুরি-ডাকাতির পাশাপাশি ঠুনকো বিষয়ে খুনোখুনির মতো ঘটনাও ঘটছে। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদুল হক বলেন, “কর্মসংস্থানের অভাব ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। নিম্নআয়ের মানুষের আয়-ব্যয়ের হিসাব যখন আর মিলছে না তখন তারা চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে। অর্থনীতির গতিপ্রবাহ বলছে এই অপরাধ সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে।” গত ১১ আগস্ট ‘অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রি করতে বাজারে তুললেন মা, দাম হাঁকিয়েছেন ১২ হাজার টাকা’ শিরোনামে একটি সংবাদ বেশ আলোচিত হয়, যা মূলতঃ দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থার প্রতিবিম্ব।

সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যাপক অগ্রগতির গল্প শোনালেও গত এক দশক ধরে চাকুরি কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। ২০১০ সালের পূর্বে কর্মসংস্থানের বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩২% (চাহিদার তুলনায় এক-পঞ্চমাংশ); গত ১২ বছরে যা আরো কমে হয়েছে ১.৩৩%। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা ‘ন্যাশনাল জবস স্ট্র্যাটেজি ফর বাংলাদেশ’ বলছে, বেকারত্ব দূর করতে হলে প্রতিবছর পাঁচ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পাশাপাশি দেশে অন্তত ১৮ লাখ ৪০ হাজার করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। অথচ, বছরে নতুন চাকুরি সৃষ্টি হচ্ছে মাত্র দুই লাখের মত (এক দশক ধরে চাকরি কমছে, দেশ রুপান্তর)।

মূলতঃ অনুৎপাদনশীল মেগা প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও বর্তমান সরকার জনগণের জন্য ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এমন কোন খাতে অর্থ বরাদ্ধ করছে না, কারণ বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় জনগণের কল্যাণের চেয়ে অল্পকিছু পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া এই প্রকল্পগুলোতে চুক্তি অনুসারে বিদেশীদেরকে অগ্রাধীকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কারণে দেশের মানুষ কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং প্রতিবছর বিদেশি শ্রমিকরা নিয়ে যাচ্ছে ৩-৪ বিলিয়ন ডলার (কর্মসংস্থান বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জে দেশ, যুগান্তর)। দেশে মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৪০% এর অধিক মানুষ এখন কোন কাজ পাচ্ছে না। ক্রমাগত বাড়ছে বেকারত্ব ও সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধপ্রবনতা। নিরব দুর্ভীক্ষ চলছে দেশে, এধরণের সহিংস অপরাধ তারই অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে বারবার। তার উপর সরকার কৃষিখাতকে পুঁজিপতিদের হাতে পুরোপুরিভাবে তুলে দিতে এই খাতকেও পিপিপি-র আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে যা নিশ্চিতভাবে অবস্থাকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হল বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অপসারণ করে ইসলামী শাসনব্যবস্থা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। নাগরিকদের কর্মসংস্থান ও ভরণপোষণের জন্য খিলাফত রাষ্ট্রের রয়েছে সুস্পষ্ট নীতিমালা। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেন: তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং (শেষ বিচারের দিন) প্রত্যেককেই তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবেখলিফা হচ্ছে জনগণের উপর দায়িত্বশীল [বুখারী]। খলিফার দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হল কর্মক্ষম নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্রে সমরনীতি ভিত্তিক ভারী শিল্পে এবং এর সাথে সম্পৃক্ত ফরওয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আত্মনির্ভরশীল অর্থনৈতিক নীতির কারণে কৃষি তার প্রাণ ফিরে পাবে এবং এই খাতের সাথে জড়িত শিল্পগুলো গড়ে উঠার কারণে বাংলাদেশ তখন পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে। তাছাড়া ব্যবসা-বানিজ্যকে বড়-পুঁজির দখল থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহনের অবারিত সুযোগ করে দেওয়া হবে, ফলে কোন অর্থ অলস পরে থাকবে না এবং অর্থনীতি দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলবে। এর মাধ্যমে বেকারত্বতো দূর হবেই, বরং এর পাশাপাশি ইসলামী দাওয়াহ্‌‘কে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে খিলাফত রাষ্ট্র লাভ করবে প্রচন্ড সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিমত্তা।

  • রিসাত আহমেদ

 

 

 

 

গার্ডার চাপায় চিড়ে চ্যাপ্টা গাড়ি, ভেতরেই গেল প্রাণ

খবরঃ

ঢাকার উত্তরায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেইন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫০ টন ওজনের কংক্রিটের গার্ডার আছড়ে পড়ে থেঁতলে গেছে রাস্তায় থাকা একটি গাড়ি, ভেতরেই প্রাণ গেছে এক পরিবারের পাঁচজনের। ওই পরিবারের আরও দুই সদস্যকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে জসীম উদ্দীন এলাকার প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই গাড়িতে থাকা সাত জনের মধ্যে নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) জানালার ধারে থাকায় তাদের টেনে বের করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হলেও দুই শিশুসহ বাকি পাঁচজন ভেতরেই আটকা পড়ে থাকেন তিন ঘণ্টা। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রথমে গাড়ি কেটে ভেতর থেকে যাত্রীদের বের করার চেষ্টা করেন। পরে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আরেকটি বড় ক্রেন এনে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে গার্ডার সরিয়ে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। (https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/171zlwp0q0)

মন্তব্যঃ

দেশে তথাকথিত উন্নয়নের জোয়ার বয়ে গেলেও স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে এ কেমন উন্নয়নের রোল মডেল যেখানে উদ্ধারকারী সরঞ্জামাদির অভাবে মানুষের উপর নির্মমভাবে থেতলে দেয়া একটি গার্ডার সরাতে সময় লাগল সাড়ে তিন ঘন্টা! সরকারের দাবী করা একোন বেহেশতে আমরা বাস করছি যেখানে প্রতি পদক্ষেপেই অপেক্ষা করছে মৃত্যু! রাষ্ট্রীয় যুলুমের পাশাপাশি জনগণ প্রত্যক্ষ করছে অগ্নিকান্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, রেলক্রসিংয়ে মৃত্যু, লঞ্চডুবি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া, বৃষ্টির পানি জমে ম্যানহোলে পড়ে মারা যাওয়া….. এবং এসকল মৃত্যুফাঁদের তালিকা খুবই দীর্ঘ এবং বেদনাদায়ক। ক্রেন চালকের লাইসেন্স ছিল না কিংবা ঠিকাদাররা কথা শুনেনা, কিংবা মেয়র আতিকুলের মঞ্চায়িত নাটক কোনভাবেই বর্তমান শাসকদের অপরাধকে ঢেকে দিতে পারে না। এটা নিছক দুর্ঘটনাই ছিল না, বরং ছিল প্রকাশ্য হত্যাকান্ড, যার দায় তারা এড়াতে পারেন না। কারণ ইতিপূর্বে এধরণের যত ঘটনা ঘটেছে, তারা সেগুলোর ব্যাপারে তথাকথিত শোক প্রকাশ, তদন্ত কমিটি গঠন আর ঘটনা বেশী আলোচিত হলে লোক দেখানো কিছু গ্রেফতার ছাড়া কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যেমন, গত মাসে গাজীপুরে একই প্রকল্পের ‘লঞ্চিং গার্ডার’ চাপায় এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। গত বছরের ১৪ মার্চ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার পড়ে চারজন আহত হন। ৭ই জুন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর গার্ডার ধসে পড়ে এবং ২৮শে এপ্রিল রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কে নির্মাণাধীন সেতুর গার্ডার ধসে একজন শ্রমিক নিহত হন। প্রকল্পে দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৩ জন প্রাণ হারানোর ঘটনাটি। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর চান্দগাঁও থানায় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা হলেও আজও শেষ হয়নি মামলার বিচার কাজ। এই হচ্ছে বর্তমান শাসকদের বেহেশতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা! যেখানে কোনরকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই ৫০ টন ওজনের গার্ডার সরানো হয় কম ক্ষমতার ক্রেন দিয়ে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে এই শাসকরা জনগণের দেখভালের ক্ষেত্রে কেন এতটা উদাসীন, যেখানে জনগণকে দমনের ক্ষেত্রে তারা র‍্যাব, ডিজিএফআই, পুলিশ, ছাত্রলীগ, ইত্যাদি সবকিছু দিয়েই বিরুদ্ধ মত দমনে সিদ্ধহস্ত? এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত আছে তাদের আদর্শিক বিশ্বাস আর তা থেকে উদ্ভুত রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যে। এদের রাজনৈতিক দর্শনও গড়ে ওঠে মুনাফাকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনাকে কেন্দ্র করে। এরা যখন ক্ষমতার স্বাদ পায় তখন নিজেদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্ত করতে তা ব্যবহার করে। এরা কখনোই জনগণের সেবায় রাজনীতি করে না। তাই উড়াল সড়ক নির্মাণ এবং এসব প্রোজেক্ট দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে নিজেদের মুনাফা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এরা যতটা আগ্রহী ততটাই অনাগ্রহী জনগণের নিরাপত্তা বিধানে। উপরন্তু এদের সেকুলার চিন্তা এদেরকে পরকাল বিমুখ করে দুনিয়ার প্রতি আসক্ত করে তোলে যা তাদেরকে চরম দুর্নীতিবাজ শাসক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।

সুতরাং, অন্ধকারের এই শাসন থেকে মুক্তি লাভের উপায় হচ্ছে এমন শাসনব্যবস্থার অধীনে প্রবেশ করতে হবে যা উমরের মত শাসক তৈরী করবে যিনি বলতেন, ইরাকের রাস্তায় একটি প্রাণীও যদি হোচট খায়, তাহলে আমি উমর ভয় করি আল্লাহ্‌ আমাকে জিজ্ঞেস করবেন কেন আমি প্রানীটি চলার জন্যে রাস্তা প্রশস্ত করিনি উমরের মত শাসকদের রাজনৈতিক দর্শন এমন হওয়ার কারণ ছিল তারা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) অনুসরন করতেন। তারা শাসনকার্যকে পরকালের জবাবদিহিতার সাথে সংযুক্ত করতেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, কেউ যদি মুসলিমদের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয় কিন্তু সে বিষয়ে অমনোযোগী থাকে এবং তাদের প্রয়োজন ও দারিদ্রতার বিষয়ে খামখেয়ালী করে, আল্লাহ্‌ তার ব্যাপারে কিয়ামতের মাঠে উদাসীন থাকবেন এবং তার প্রয়োজন দারিদ্রতার বিষয়ে অমনোযোগী থাকবেন (আবু দাউদ)।

  • মো. হাফিজুর রহমান

 

 

 

 আর্মিদের মুখে আল্লাহ্শব্দ

খবরঃ

১৩ আগস্ট ২০২২ তারিখে ‘MH MAHIN 360’ নামের একজন ফেসবুক ব্যববহারকারী ও মটো-ভ্লগার তার ফেসবুক পেইজে “আর্মিদের মুখে আল্লাহ শব্দ 😍😍! ৪০ কিলোমিটার লংমার্চ 😱😱” শিরোনামে একটি ভিডিও আপলোড করে যা জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত পাঁচ দিনে (১৮ আগস্ট পর্যন্ত) ১৪ লাখ ১০ হাজারের বেশি ফেসবুক ব্যববহারকারী ভিডিওটি দেখেছেন এবং ১ লাখ ৪৯ হাজার জন লাইক ও লাভ রিয়েক্ট দিয়েছেন। ১ হাজার ৬০০ কমেন্টের পাশাপাশি ৪ হাজার ৪০০ জন ভিডিওটি তাদের নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে শেয়ার করেছেন। (https://web.facebook.com/mhmahin360/videos/537403934809869/)

মন্তব্যঃ

বর্তমান সরকার গত এক যুগ ধরে আমাদের সামরিক বাহিনীকে দুর্বল ও পদানত করার ভারতীয় ষড়যন্ত্র এবং এটিকে ভাড়াটে বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করতে চাওয়ার মার্কিন কূটচালে সহায়তা করে এই বাহিনী সম্পর্কে জনমনে নানান নেতিবাচক ধারনার জন্ম দিয়েছে। দেশের জনগণ ভুলতেই বসেছিল যে, এটি একটি ‘মুসলিম সেনাবাহিনী’। আর্মস কমান্ডো প্রশিক্ষণ চলাকালীন ৪০ কিলোমিটার স্পীড-মার্চের সময় সেনাসদস্যদের মুহুর্মুহু নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার ধ্বনী শুনে জনসাধারনের মধ্যে যেন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে দ্বীন আল-ইসলাম তাদের প্রিয় বাহিনীর সদস্যদের অন্তরের গভীরে প্রোথিত। হাতের আঙ্গুলে গোনা যায় এমন সংখ্যক ভারতপন্থী জেনারেল, সমসংখ্যক আমেরিকাপন্থী জেনারেল এবং হাসিনার কিছু দলীয় ও পারিবারিক অনূচর বাদ দিলে এই বাহিনী আল্লাহ্‌’র আনুগত্য ও ইবাদতের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয় এবং জীবন অতিবাহিত করে। যেমনটি ভিডিওর কমেন্টে একজন লিখেছেন, আর্মির সকালটা শুরু হয় কুরআন তিলাওয়াত দিয়ে, দৌড়ের প্রথম কদমে মুখে থাকে আল্লাহ্‌’ নাম ব্যারাকের বিভিন্ন স্থানে কুরআনএর আয়াত হাদিস লিখা অসহ্য পরিশ্রমে যখন দেহ পরিশ্রান্ত আর ক্লান্ত হয় তখনআল্লাহ্‌’ নামে তারা জোশ খুঁজে পায়, পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার শক্তি খুঁজে পায় এককথায় তাদের এই ৪০ কিলোমিটার স্পীডমার্চেআল্লাহ্‌’ শব্দ উচ্চারণ বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, বরং তাদের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের একটা প্রতিচ্ছবি মাত্র

৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদীনায় ‘মুসলিম সেনাবাহিনীর’ যাত্রা শুরু হয়েছিল আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সাঃ)-এর হাত ধরে, যিনি নিজে স্বশরীরে এই বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আল্লাহ্‌’র রাসূলের (সাঃ) মৃত্যুর পর খোলাফায়ে রাশিদুনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই বাহিনী বিশ্ববিজয়ে বের হন এবং মাত্র ১২ বছরের মধ্যে অর্ধ-পৃথিবী ইসলামের সুশীতল ছায়ায় নিয়ে আসেন। পরবর্তী খলিফারা এই ধারা অব্যাহত রাখেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় খলিফা আল-ওয়ালিদের শাসনামলে আরবের তায়েফ আঞ্চলের বানু-সাকিফ গোত্রে জন্ম নেওয়া জেনারেল মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে এই মুসলিম বাহিনীর একটি ‘কন্টিনজেন্ট’ রাজা দাহিরকে পরাজিত করে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করে ইসলামী শাসনের সূত্রপাত করেন। পরবর্তীতে ১২০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরেক মুসলিম বীর ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর নেতৃত্বে ১৭ জনের একটি মাত্র অগ্রবর্তী ‘কোম্পানি’ বাংলা বিজয় করেন। এরপর মুসলিম সেনাবাহিনী ১৩০৩ ও ১৩৪০ সালে যথাক্রমে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিজয় করে। সুতরাং বর্তমান বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী হলো আল্লাহ্‌’র রাসূল (সাঃ)-এর স্বশরীরে নেতৃত্ব দানের স্মৃতি বিজড়িত ইসলামী আদর্শের সেনাবাহিনী, মুহাম্মদ বিন কাসিমের সীন্ধু বিজয় ও  ইখতিয়ারউদ্দীন বখতিয়ার খিলজীর বাংলা বিজয়ের স্মৃতি বয়ে বেড়ানো সেনাবাহিনী।

খিলাফত ব্যবস্থা ধ্বংস করে জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা নামক কলুষিত চিন্তা দিয়ে এই মুসলিম বাহিনীকে ধোঁকায় ফেলে রেখে কাফির-সাম্রাজ্যবাদীরা মুসলিম উম্মাহ্‌’র উপর অশুভ থাবা বিস্তার করে রেখেছে। এই অবস্থায় দ্বীন আল-ইসলাম প্রতিষ্ঠায় নুসরাহ্‌ প্রদান করে মুসলিম উম্মাহ্‌‘কে পুনরায় বিজয়ের পথে পরিচালিত করার সকল সক্ষমতা এই সেনাবাহিনীর রয়েছে। এই বাহিনীতেই রয়েছে আগামী দিনের সাদ বিন মু’য়াজ ও খালিদ বিন ওয়ালিদ, যারা সকাল-সন্ধা ‘আল্লাহু আকবারধ্বনীতে চারপাশ প্রকম্পিত করে নিজেদেরকে বিজয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন। সুতরাং, এই বাহিনী তাগুত কিংবা সরকারের কেনা গোলাম এজাতীয় নেতিবাচক প্রচারণাকে পরিত্যাগ করে সচেতন মুসলিমদের উচিত নিষ্ঠাবান সেনাঅফিসারদেরকে তাদের উপর অর্পিত ইসলামী দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া। বেশি দেরী হয়ে যাওয়ার পূর্বেই। কেননা কাফির-মুশরিক রাষ্ট্র আমেরিকা-ভারততো আর বসে নেই, তারা আত্মপরিচয় ভুলে যাওয়া কিছু জেনারেলদের কাঁধে ভর করে এদেশের মুসলিমদের উপর জাল বিস্তারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইনশা’আল্লাহ, এই প্রতিযোগীতায় ‘আল্লাহ্‌ শব্দে’ নির্ভর করা মুসলিমদেরই বিজয় হবে। আর সেদিনের লাখো কন্ঠের সম্মিলিত নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবারধ্বনী প্রতিধ্বনিত হবে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে এবং বিদ্ধ করবে প্রতিটি কাফির-মুশরিকের অন্তরকে। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, সুতরাং (আল্লাহ্‌’ সাহায্যের জন্য) অপেক্ষা কর; তারাও (কফিররাও তাদের পরিণতির) প্রতীক্ষায় রয়েছে [আদ-দুখান: ৫৯]

  • রিসাত আহমেদ

 

 

 

 

বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

খবরঃ

বৈশ্বিক মন্দার এই সময়ে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত বছর জিডিপির গ্রোথ হয়েছে ৬.৯ শতাংশ। এ সময় তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন – কোথায় মন্দা পেলেন? এখনো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি কম। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনা করলে বাংলাদেশের মানুষ সুখে আছে, বেহেশতে আছে বলতে হবে। (https://www.jugantor.com/national/583097/বাংলাদেশের-মানুষ-সুখে-আছে-বেহেশতে-আছে-পররাষ্ট্রমন্ত্রী)

 

মন্তব্যঃ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যয় মেটাতে যখন দেশের মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম, সে সময়ে বাংলাদেশের মানুষ অন্যান্য দেশের মানুষের তুলনায় ‘বেহেশতে’ আছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিষ্ঠুর বিদ্রুপ ছাড়া আর কিছুই নয়। মন্ত্রী সাহেবরা হিসাব করেন তাদের ও তাদের দোসর ক্ষুদ্র পুঁজিপতিগোষ্ঠীর অবস্থা, এবং সেখানে তারা তাদের তৈরি বেহেস্তের সুখ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না। জনগণের অর্থ লুটপাটের অবারিত সুযোগ পেয়ে তারা বেহেস্তের সুখ অনুভব করলেও দেশের ১৩-১৪ কোটি মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষকে মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট হয়ে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সৃষ্ট দোজখের আগুনের তাপ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু এব্যাপারে শাসকগোষ্ঠী বিন্দুমাত্রও চিন্তিত নয়, কারণ তারা এখন জনক্ষোভ মোকাবেলা করতে জিডিপি, জিএনপি, মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি নামক হঠকারি বিভিন্ন সূচককে ঢাল হিসেবে উপস্থাপন করে। তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সামগ্রিক উন্নয়ন এবং মাথাপিছু আয়কে কেবলমাত্র গাণিতিক যোগ-ভাগের হিসাব হিসেবে গণ্য করে, যার সাথে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নাই। মন্দের মধ্যে কম মন্দ হচ্ছে তাদের সর্বোচ্চ সফলতার মাপকাঠি। সুতরাং, তাদেরকে গায়েল করতে হলে তাদের এসব ঢালকে উন্মোচন করতে হবে এবং বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে বুঝতে হবে ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইসলাম প্রত্যেক ব্যক্তির চাহিদাগুলো এবং এগুলো পূরণে তার ক্রয়ক্ষমতাকে (সক্ষমতাকে) স্বতন্ত্রভাবে বিচার করে। পণ্যের মূল্য কম না বেশী সেটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রতিটি নাগরিক তার চাহিদাসমূহ পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত করা। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা খিলাফত রাষ্ট্রের উপর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকটি নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার মত মৌলিক চাহিদা পূরণকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেনঃ প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীলশাসক তার জনগণের জন্য দায়িত্বশীল, তাকে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করা হবে [বুখারী, মুসলিম]। তাই খলিফা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জনগণের এসব মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করবেন এবং এই ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র অবহেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শাসক উম্মাহ্’র সেবক হিসেবে জনগণের সেবা করবেন, যার প্রতিফলন আমরা দেখেছি পূর্ববর্তী খিলাফাহ্‌ রাষ্ট্রে। খলিফা হারুন আর-রাশীদ যখন খলিফা তখন একবার সিরিয়ার ‘রাকাহ’ শহরের বিচারক অসুস্থ থাকায় তিনি নতুন বিচারকের ব্যবস্থা করলেন, প্রহরীরা একজন বৃদ্ধা মহিলাকে আসামি হিসেবে দরবারে হাজির করলেন। বৃদ্ধা শহরের এক রেস্তোরাঁ থেকে কিছু রুটি আর মধু চুরি করার সময় ধরা পড়েন। বিচারে বৃদ্ধা স্বীকার করলেন তিনি গত এক সপ্তাহ যাবত অভুক্ত ছিলেন এবং তার সঙ্গে থাকা ইয়াতিম দুই নাতিও না খেয়ে ছিল। বৃদ্ধার কথা শুনে বিচারক পুরো দরবারে চোখ বুলালেন। ঘোষণা দিলেনঃ কাল যেন নগর, খাদ্য, শারী’আহ্‌, পুলিশ প্রধান ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন, সবার সামনে রায় দেওয়া হবে। পরদিন সবার উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করলেন। বৃদ্ধা মহিলার চুরির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৫০টি চাবুক, ৫০০ রৌপ্য মুদ্রা ও তা অনাদায়ে এক বছর কারাদন্ড দেওয়া হলো। বিচারক প্রহরীকে চাবুক আনার নির্দেশ দিয়ে নিচে নেমে ওই বৃদ্ধা মহিলার পাশে দাঁড়ালেন এবং বললেন, যে নগরে একজন ক্ষুধার্ত বৃদ্ধ মহিলা না খেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় চুরি করতে বাধ্য হয় সেখানে সবচেয়ে বড় অপরাধী সে দেশের খলিফা। আর আমি এসেছি খলিফার প্রতিনিধি হয়ে, তাই ৫০টি চাবুকের ২০টি আমাকে মারা হোক। আদেশ অনুযায়ী বিচারককে ২০টি চাবুক মারা হলো। এরপর বিচারক বললেন ‘যে শহরে নগর প্রধান, খাদ্যগুদাম প্রধান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একজন অভাবগ্রস্ত মহিলার ভরণ-পোষণ করতে পারেন না, সেই নগরে তারাও অপরাধী। তাই বাকি ৩০টি চাবুক সমানভাবে তাদের মারা হোক। এরপর বিচারক নিজ পকেট থেকে রুমাল বের করে তার উপর ৫০টি রৌপ্য মুদ্রা রাখলেন এবং অন্যদেরকে বললেনঃ ‘যে সমাজ একজন বৃদ্ধ মহিলাকে চোর বানায়, যে সমাজে এতিম শিশুরা উপবাস থাকে, সে সমাজের সবাই অপরাধী। তাই সবাইকে ১০০ রৌপ্য মুদ্রা জরিমানা করা হলো। তারপর মোট ৫০০টি রৌপ্য মুদ্রা থেকে ১০০ রৌপ্য মুদ্রা জরিমানা বাবদ রেখে বাকি ৪০০টি রৌপ্য মুদ্রা থেকে ২০টি চুরি যাওয়া দোকানের মালিককে দেওয়া হলো, বাকি ৩৮০টি রৌপ্য মুদ্রা বৃদ্ধাকে দিয়ে বললেনঃ ‘এগুলো আপনার ভরণ-পোষণের জন্য। আর আগামী মাসে আপনি খলিফা হারুন আর-রাশীদের দরবারে আসবেন, খলিফা হারুন আর-রাশীদ আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থী।’ এক মাস পরে বৃদ্ধা খলিফার দরবারে গিয়ে দেখেন; বিচারক সেই লোকটিই খলিফার আসনে বসা। খলিফা চেয়ার থেকে নেমে এসে বললেনঃ আপনাকে ও আপনার এতিম দুই নাতিকে উপোস রাখার জন্য সেদিন বিচারক হিসেবে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আজ দরবারে ডেকে এনেছি নাগরিকের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে না পারা অধম এই খলিফাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য। আপনি দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন। এভাবে আল্লাহ্‌’র বিধান অনুযায়ী পরিচালিত খিলাফত রাষ্ট্রে জনগণকে তার অধিকার পাইয়ে দেয়ার মাধ্যমে শাসকরা সম্মানিত হয়েছিলেন এবং খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আবারও সেই সম্মানের শিকড়ে অধিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব।

  • সুজন হোসেন

 

 

 

 

বুয়েটে পুনরায় ছাত্র রাজনীতি চালুর অনুরোধ জয়ের

খবরঃ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র রাজনীতি পুনরায় চালু করার অনুরোধ জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় রোববার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাবি ছাত্রলীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অনুরোধ জানান আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, বুয়েট প্রশাসনকে আবারও বিবেচনা করতে অনুরোধ করব। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি সচল করে বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করার জন্য আপনারা পদক্ষেপ নেবেন। আপনাদের উদ্দেশে তরুণ প্রজন্মের আলোকবর্তিকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আপনাদের অনুরোধ করছে। (https://www.dhakapost.com/campus/135075)

মন্তব্যঃ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি সচেতন ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে আবরার ফাহাদের ঘাতক বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী ছাত্রলীগ গত ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়। আর এর মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের দ্বারা বুয়েটে গেস্টরুম নামক টর্চার সেল, হলে ফাও খাওয়া, র‍্যাগিং, জোরপূর্বক মিছিলে নিয়ে যাওয়া, অবৈধভাবে হলের সীট দখল ইত্যাদির মত অপকর্মের আপাত অবসান হয়। কিন্তু ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী সরকার যেহেতু ক্ষমতাসীন, তাই তারা বিভিন্ন কর্মসূচির আড়ালে তাদের লাঠিয়াল বাহিনী ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাসে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা অব্যহত রেখেছে। তারই প্রেক্ষাপটে গত ১৩.০৮.২০২২ ইং শনিবার ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক ব্যানারে বুয়েট প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বুয়েটের অডিটোরিয়ামে কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে আবারো ক্যাম্পাসে তাদের উপস্থিতির জানান দেয়, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বাধার মুখে পড়ে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই প্রতিরোধ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। তারা যেটা করেছেন এটাই রাজনীতি, কারণ রাজনীতির প্রকৃত মানে হচ্ছে মানুষের স্বার্থের তত্ত্বাবধান করা। তাই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছাত্র রাজনীতি কেন কুলষিত হলো, সেটার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমেই আবরার ফাহাদের হত্যার প্রকৃত প্রতিবাদ হবে এবং ছাত্রদের স্বার্থের প্রকৃত সংরক্ষণ সম্ভব হবে। ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির মূল লক্ষ অর্থ ও ক্ষমতা যা আওয়ামী/বিএনপির মত শাসকদের জন্ম দেয়। এসকল শাসকরা তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ/ছাত্রদলকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রীদের দমন-নিপীড়ন করে যাতে তাদের এবং সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ করে করে। আমরা যদি একটু লক্ষ্য করি তাহলে দেখব, তারা আমাদের দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও প্রকৌশল খাতকে বিকোশিত করেনি, দেশে নতুন কোন শিল্প কারখানা গড়ে তুলেনি, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের হাতে গোনা যে কয়েকটি শিল্প-কারখানা ছিল সেগুলোকেও সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে ধ্বংস করেছে। আমাদের পেট্রোলিয়াম শিল্পকে উৎপাদন বন্টন চুক্তির আওতায় সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দিয়েছে। বেসরকারিকরণ নীতির আওতায় আমাদের টেলিযোগাযোগ শিল্প, পারমাণবিক গবেষণা, মহাকাশ গবেষণা, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, জ্বালানী শিল্প ইত্যাদি এখন দেশী-বিদেশী ক্ষুদ্র পুঁজিপতি ও সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানিগুলোর দখলে। ফলশ্রুতিতে, বুয়েটসহ দেশের সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কর্মসংস্থান অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিদেশী শ্রমিকদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অত্যন্ত নিচু স্তরের চাকরিগুলোকে তারা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। তাই, শাসকদের এসকল অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুয়েটের মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যূনতম প্রতিবাদ ধর্মনিরপেক্ষ শাসক ও তাদের বিদেশী প্রভুদেরকে ভীত করে। বুয়েটের মত মেধাবীদের শিক্ষাঙ্গণেও তারা লাঠিয়াল বাহিনী তৈরির এজেণ্ডা বাস্তবায়ন হতে পিছপা হয়নি। আমরা দেখতে পেয়েছি, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবরার ফাহাদের সামান্যতম একটি প্রতিবাদী পোস্ট সরকার ও তার মুশরিক প্রভু ভারতের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আবরার ফাহাদের হত্যাকারীরাই বলেছে, তারা সিনিয়রদের নির্দেশে কাজ করেছে। (আবরারের মৃত্যুর জন্য সবাই আমাকে দোষ দিচ্ছে কিন্তু আমি তো শুধু সিনিয়রদের নির্দেশনামতো কাজ করছিলাম”—জানালেন অনিক সরকার, The Business Standard,13 October, 2019)।

বুয়েটসহ দেশের সকল উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ সংরক্ষণ নীতি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যে নীতির উদ্দেশ্য তাদের স্বার্থে মেধা পাচার নিশ্চিত করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদেরকে লাঠিয়াল বাহিনীরুপে ব্যবহার করা। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির জুলুম-নিপীড়ন থেকে মুক্ত হতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের মত ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন নয়, বরং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ইসলামের আদর্শিক রাষ্ট্রব্যবস্থা খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলাই চলমান সমস্যার একমাত্র সমাধান হতে পারে।

  • আবি আব্দুল্লাহ্

 

 

 

 

“আইএমএফ-এর ঋণ পেতে বাংলাদেশকে যেসব শর্ত মানতে হতে পারে”

খবরঃ

বাজেট সহায়তা বাবদ প্রত্যাশিত ঋণ পেতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর দেওয়া শর্ত পরিপালনে বাংলাদেশের তেমন সমস্যা হবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, শর্তগুলো পুরনো। এগুলো বাস্তবায়নে আগে থেকেই সরকার আন্তরিক। তবে এর পাশাপাশি সরকারকে রিজার্ভ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফ-এর ঋণ পেতে বাংলাদেশকে শর্ত হিসেবে অর্থনীতিতে কিছু সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- রাজস্ব খাতে অটোমেশন চালু, আর্থিক খাতে ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ওপর আরোপিত ক্যাপ তুলে নেওয়া, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ে একটি ফর্মুলায় এনে তা ঘোষণা করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে বাজেট থেকে আলাদা করা এবং কৃষিতে ভর্তুকির পরিমাণ কমানো। তবে এসব শর্ত ও সংস্কার সরকার নিজে থেকেই করছে বলে দাতা সংস্থা নতুন করে আর সমস্যায় ফেলবে না বলেও জানায় সূত্র। (www.banglatribune.com/business/industry-and-trade/757509)

মন্তব্যঃ

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক হচ্ছে পরোপকারী প্রতিষ্ঠান প্রচলিত এধরণের বয়ান খুবই অযৌক্তিক এবং হাস্যকর, কারণ বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানসমূহ হচ্ছে পশ্চিমা ধনী দেশসমূহের ‘ঋণের রাজনীতি’র উপকরণ যেগুলোকে ব্যবহার করে তারা দরিদ্র দেশসমূহের উপর তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং তা বজায় রাখে। বিশ্বের বিভিন্ন দূর্বল অর্থনীতির দরিদ্র দেশসমূহকে আই.এম.এফ শর্তযুক্ত ঋণ প্রদান করে এবং সেই শর্তসমূহ পালনের ফলস্বরূপ সেসকল দেশসমূহকে দেশীয় শিল্প ধ্বংস করে বিদেশী পণ্য আমদানী নির্ভর হতে হয় এবং এর পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে পশ্চিমাদের লুটপাটের জন্য সুযোগ করে দিতে হয়। তথাকথিত মুক্তবাজার অর্থনীতিতে অংশগ্রহন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের বেসরকারীকরণ ইত্যাদি এসকল দেশের অর্থের Flow-কে দেশী-বিদেশী ক্ষুদ্র পুঁজিপতিশ্রেণী এবং বড় বড় কর্পোরেশনমুখী করে তোলে। ফলে গরিব দেশ আরো গরিব হতে থাকে। এগুলো মূলত দরিদ্র দেশের সম্পদ লুটপাটের উপকরন বৈ আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইএমএফ যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে যার ফলে আইএমএফ-এর ঋণের কিস্তি ও সুদের সুনিশ্চয়তা তৈরী হলেও সাধারণ জনগণ তীব্র দারিদ্রতার মুখে পড়বে। উদাহরণস্বরূপ, রাজস্ব খাতে যদি অটোমেশন চালু হয় তবে ব্যাপক ভিত্তিতে ভ্যাট ও আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাবে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্য ও সেবার মূল্য আরও কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। উপরন্তু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি (যা সম্প্রতি করে ফেলা হয়েছে) ও কৃষিতে ভর্তুকি হ্রাস করলে একই সাথে শিল্প ও কৃষিতে উৎপাদন কমে যাবে। ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে, দেশ আমদানি নির্ভর হবে ও দেশীয় কৃষি ও শিল্প ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। তাছাড়া, আর্থিক খাতে ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ওপর আরোপিত ক্যাপ তুলে দেয়া নিয়ে পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরাই যুক্তি দিচ্ছেন যে, সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রেসক্রিপসন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্থবির করে এবং দেশকে মন্দা অবস্থার দিকে ধাবিত করে।

এটি দৃশ্যমান যে, আইএমএফ-এর ঋণের শর্ত ও Structural Adjustment Programs (SAPs) যেমন, বিভিন্ন খাতে (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও অন্যান্য মৌলিক বিষয়সমূহের উপর ভর্তুকি কমানো) রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো এবং কর বৃদ্ধি করা ইত্যদি মূলত দারিদ্রতা বৃদ্ধি করে, অর্থনৈতিক উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করে, সম্পদ বন্টনে অসামঞ্জস্যতা তৈরী করে। ফলে, জনগণের কাছ থেকে যে পরিমাণ কর সংগ্রহ করা হয় তা জনগণের প্রয়োজনীয় বিষয়াদীতে খরচ না করে, বরং ঋণ পরিশোধে খরচ করা হয়। এর ফলে একটি দেশ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হতে থাকে। কিছু বাস্তবিক উদাহরণ দিয়ে আমরা বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারি। যেমন, আইএমএফ ২০১০ এর দিকে গ্রীসকে ঋণ দেয় যার মধ্যে শর্ত ছিল, সরকারী ব্যয় কমানো। ফলশ্রুতিতে পানি, স্যানিটেশন, জ্বালানি খাত, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষকদের বেতন ও পেনশনে খরচ কমানো হয় এবং এথেন্সের পানি ও পয়নিস্কাশন ব্যবস্থাকে বেসরকারীকরন করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই বেকারত্ব বৃদ্ধি পায় এবং দেশকে অধিকতর অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পতিত হয়। ২০১৭ সালের অক্টোবরে ‘Parliamentary Assembly of the Council of Europe’ রিপোর্ট করে, “The austerity measures infringed the rights to healthcare, to an adequate standard of living, to work and to social security, with a “disproportionate impact on the most vulnerable.” ১৯৯৭ সালে Asian crisis এর সময় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের উপর আইএমএফ এর আরোপিত রাজস্ব নীতি এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে অর্থনৈতিক মন্দা এবং ব্যাপক বেকারত্বের সৃষ্টি হয়। একইভাবে ২০০১ সালে আর্জেন্টিনাতে আরোপিত একই ধরনের রাজস্ব নীতি বাস্তবায়নের ফলে পাবলিক সার্ভিস যেমন, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদিতে বাজেট কমানো হয় ফলে জনগণের ব্যয়ভার বৃদ্ধি পায়। ঘানার উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা ঘানার জন্য প্রয়োজনীয় চাল উৎপাদনে সক্ষম থাকা স্বত্বেও আইএমএফ যখন ঘানাকে ঋণ দেয় তখন তারা শর্ত দেয় যে, ঘানা যাতে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে ভর্তুকি না দেয় এবং ঘানাকে বাধ্য করা হয় পশ্চিমা দেশসমূহ থেকে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাল আমদানী করতে। ফলে ঘানার স্বনির্ভর চাল উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়ে পশ্চিমাদের উপর নির্ভর হয়ে পড়ে।

এসকল উদাহরণ আমাদেরকে শুধুমাত্র একটিমাত্র শিক্ষাই দিচ্ছে যে, মুসলিমদের সফলতা, প্রগতি ও উন্নতি আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, জাইকা, এডিবি কিংবা কোন পশ্চিমা দেশের ঋণ গ্রহনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। আর না তা সম্ভব এই মানবরচিত পুঁজিবাদী ব্যবস্থা অনুসরনের মাধ্যমে। কারণ আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেন, যারা আল্লাহ্‌‘কে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে তাদের দৃষ্টান্ত হল মাকড়সার মত। সে ঘর বানায়, আর ঘরের মধ্যে মাকড়সার ঘরই সবচেয়ে দুর্বল; যদি তারা জানত! [আল-আনকাবূতঃ ৪১]। শুধুমাত্র ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বর্তমান এই অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশসমূহ মুক্তি পেতে পারে। এবং সেই ভিশনারী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শুধুমাত্র ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থা অর্থাৎ নবুয়তের আদলে খিলাফত ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব। কারন খিলাফত ব্যবস্থার রয়েছে আদর্শিক শক্তি ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা যেখানে আমরা দেখেছি কিভাবে মুসলিমরা খিলাফত রাষ্ট্রের অধীনে উন্নতির শিখরে পৌছেছিল এবং সকল নাগরিকদের প্রয়োজন পূরণ করার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দারিদ্রপীড়িত অঞ্চলকেও সাহায্য করেছিল।

  • মো. হাফিজুর রহমান

 

 

 

 

দোষ কি সব আইএমএফের?”

খবরঃ

ফেসবুকসহ পত্র-পত্রিকায় আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা আইএমএফের বিরুদ্ধে ব্যাপক মুণ্ডপাত চলছে। অনেকের ধারণা, সংস্থাটির ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেওয়ার জন্যই নাকি সরকার তেলের দাম নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়েছে। হ্যাঁ এটা সত্যি, সবসময় জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এর মূল্য নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয় আইএমএফ। কেন তেলের দাম বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা বলে আইএমএফ? এই বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। যদি তেলের ওপর ভর্তুকি দেয় সরকার, তাহলে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত জনগণের পকেট থেকেই যায়। জনগণের দেওয়া ট্যাক্সের টাকা থেকেই সেই ভর্তুকির টাকা আলাদা করা হয়। ফলে তাদের পরামর্শ হচ্ছে, ভর্তুকি কমানোর মাধ্যমে সেই ট্যাক্সের টাকা যাতে জনগণের কাছ থেকে না নেওয়া হয়। কিন্তু, আমাদের সরকারগুলো কি তা করে? ফলে ভর্তুকি প্রত্যাহার নিয়ে আইএমএফের যুক্তির বিষয়ে আমরা অর্ধেকটা জানি। আজকের এই পরিস্থিতি আমাদের অযৌক্তিক পলিসি ও অব্যবস্থাপনার জের ধরে উদ্ভব। আমাদের পকেট থেকে নেওয়া টাকা দিয়েই যেমন ভর্তুকির টাকা আলাদা করা হয়, তেমনি তেলের বর্ধিত মূল্যও আমাদের থেকে নেওয়া হয়। ফলে তেলের ভর্তুকি নিয়ে আইএমএফের এসব কথা অযৌক্তিক কিনা সেটা ভাববার বিষয়। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট খাতে অবশ্যই ভর্তুকির বণ্টন থাকা উচিত।  (https://bangla.thedailystar.net/opinion/views/news-379646)

মন্তব্যঃ

এবার জ্বালানি তেলের ৪০-৫০% মূল্যবৃদ্ধির বিশেষ দিক হচ্ছে সরকার যে আই.এম.এফ-এর ঋণের শর্ত পুরণের জন্য এটি করেছে তা সবার কাছে উন্মোচিত। এমতাবস্থায় পশ্চিমাপন্থী কতিপয় বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক চোখে টিনের চশমা পরে সমস্যার মূল কারণকে পাশ কাটিয়ে তাদের সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভর্তুকির সুষ্ঠু ব্যবহার ও সরকারের অব্যবস্থাপনার মত সমস্যার শাখা-প্রশাখাকে হাইলাইট করার মাধ্যমে আই.এম.এফ-এর মত নব্য উপনিবেশবাদী প্রতিষ্ঠানের ডিফেন্ডারের ভূমিকা পালন করছে। তারা বলছে, তেলের ভর্তুকি নিয়ে আই.এম.এফ-কে দোষারোপ করা অযৌক্তিক। তারা ভর্তুকি কমানো বাড়ানো ও সমন্বয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনে যেন ভর্তুকিই সকল সমস্যার গোড়া! অথচ তাদের ভন্ডামীর মূল জায়গাটা হল এসব যুক্তির মাধ্যমে তারা দেশের জ্বালানি খাতে আই.এম.এফ-এর চাপিয়ে দেয়া বেসরকারীকরণ করার পুঁজিবাদী নীতিকে কৌশলে আড়াল করে। মূলত, আইএমএফের আরোপিত বেসরকারীকরণ নীতি অনুসরণ করে দেশের পূর্ববর্তী সকল সরকার জ্বালানি খাতকে বেসরকারীকরণ ও আমদানিনির্ভর করে তুলেছে যা তেল-গ্যাসকে-বিদ্যুৎকে ব্যয়বহুল করেছে। তারা উৎপাদন বন্টন চুক্তির (পিএসসি) মাধ্যমে বিদেশী উপনিবেশিক কোম্পানিগুলোকে আমাদের দেশের জ্বালানি সম্পদ লুট করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই বেসরকারীকরণ নীতি মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল প্রকল্পের কবলে ফেলে সরকার ও তার সহযোগী ক্ষুদ্র একটি পুঁজিপতিগোষ্ঠী ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লোপাট করছে। আইএমএফ জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারে সরকারকে চাপ দিলেও দেশী-বিদেশী ক্ষুদ্র পুঁজিপতিগোষ্ঠীকে ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান বন্ধ করতে সরকারকে চাপ দিচ্ছেনা। ২০২১-২২ অর্থ বছরে সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়েছে ৯৫০০ কোটি টাকা (বণিকবার্তা, ২৯ মে ২০২১) অথচ একই সময়ে কুইক রেন্টালগোষ্ঠীকে প্রায় ১৯০০০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছে। তাহলে তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে ভর্তুকির প্রশ্ন কি অপ্রাসঙ্গিক নয়, যেখানে ভর্তুকির চেয়ে ক্যাপাসিটি পেমেন্টে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে? তাছাড়া সরকার জ্বালানি তেল আমদানির উপর ৩৭% কর আরোপ করে রেখেছে যা বাদ দিলে ভর্তুকীর প্রসঙ্গই আসত না। এখানে ভর্তুকির আলোচনা মূলত মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই না। তাই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুকে নেহায়েত অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে চলবে না, বরং ইস্যুটিকে আই.এম.এফ কর্তৃক চাপিয়ে দেয়া বেসরকারীকরণ নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সম্পদের উপর পশ্চিমা কাফির রাষ্ট্রসমূহের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ঘৃণ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের আলোকে পর্যালোচনা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, পশ্চিমাপন্থী এসব বুদ্ধিজীবিরা আজকের এই পরিস্থিতির জন্য রাষ্ট্রের অযৌক্তিক পলিসি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে; প্রশ্ন হচ্ছে, এই অব্যবস্থাপনা ও অযৌক্তিক পলিসি কে এদেশে অনুমোদন করেছে? আইএমএফ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কি এতে সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলনা? আইএমএফ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মত প্রতিষ্ঠান ধরেই নেয় যে পাবলিক সেক্টর হচ্ছে অদক্ষ ও অকার্যকর; তাই সকল সুযোগ-সুবিধা প্রাইভেট সেক্টরকে দিতে হবে। তারা কখনোই দেশের পাবলিক সেক্টরের উন্নয়নে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে না। তারা কখনো তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাপেক্সেকে শক্তিশালী করার জন্য ঋণ প্রদান করে না। তারা যাদেরকে (পাবলিক সেক্টর অর্থাৎ সরকার) অদক্ষ বলছে কেনইবা আবার তাদের কাছ থেকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা আশা করছে?! কার্যত, আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে পশ্চিমা পূঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সেই উপনিবেশিক হাতিয়ার যাদের ঋণ ও ঋণ প্রদানের কঠোর বিভিন্ন শর্ত যেমনঃ বেসরকারী খাতকে শক্তিশালী করা, পণ্য ও সেবাখাতে কর বৃদ্ধি এবং শিল্প ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার ইত্যাদি দেশের শিল্প ও জ্বালানি খাতকে পঙ্গু করেছে, প্রকৃত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং জনজীবনে নিয়ে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ। সুতরাং, একটা দেশের পুরো পাবলিক সেক্টরকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র প্রাইভেট সেক্টরকে সমৃদ্ধ করার ফলাফলস্বরুপ যে অব্যবস্থাপনা হচ্ছে তা বর্তমান পশ্চিমা পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থারই অংশবিশেষ।

ইসলামী ব্যবস্থায় তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদসমূহ গণমালিকানাধীন সম্পদ, এগুলোকে বেসরকারীকরণ করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেয়ার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক। ইসলামী রাষ্ট্র শুধুমাত্র গণমালিকানাধীন সম্পদ উত্তোলন বা ব্যবহার উপযোগী করার ব্যয় নাগরিকদের কাছ থেকে গ্রহণ করবে। সুতরাং, নাগরিকরা নামমাত্র মূল্যে গণমালিকানাধীন সম্পদ (যেমন: তেল-গ্যাস) ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। কাফির-সাম্রাজ্যবাদী দেশ এবং আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো তাদের প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে কোন চুক্তিই ইসলামে বৈধ নয়, তাই এগুলোকে অর্থনৈতিক লাভ-লোকসানের দৃষ্টিকোন থেকে দেখার কোন সুযোগ নেই।

  • মোহাম্মদ সিফাত