working to establish khilafah

Weekly ISLAMIC VIEWPOINT 61

Weekly

ISLAMIC VIEWPOINT

….সপ্তাহের সংবাদ পর্যালোচনা

৬১ তম সংখ্যা ৭ আগস্ট, ২০২২

 

 

 

 

এই সংখ্যায় থাকছে:

 

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিঃ ডিজেল লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪, অকটেন ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা

“ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেলে লাখ টাকার আইসক্রিম খেতে ক্রেতার অভাব নেই!”

ক্যাপাসিটি চার্জের শক: তিন বছরে হাওয়া ৫৪ হাজার কোটি টাকা

“বিদেশি ঋণ ১০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল”

মূল্যস্ফীতির পেছনে মূলত টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিই দায়ী

ট্রেন কাউকে ধাক্কা দেয় না, অন্যরা ট্রেনকে ধাক্কা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়: মন্ত্রী

“কোনো মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাতে পারে না: বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম”

“বনানী ২৭ নম্বরের পার্ক এখন কামাল আতাতুর্ক পার্ক”

 

 

 

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিঃ ডিজেল লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪, অকটেন ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা

খবরঃ

আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার। ডিজেল ও কেরোসিন লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ৮০ থেকে ১১৪ টাকা, অকটেন লিটারে ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ৮৯ থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রল লিটারে ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ৮৬ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘জনবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কথা চিন্তা করেনি। অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়ে কিছুটা এডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশ নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করে থাকে। বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন গত ৬ মাসে (ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রয়ে (সকল পণ্য) ৮০১৪.৫১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।(http://bangla.thedailystar.net/news/bangladesh/news-379011)

মন্তব্যঃ

বাংলাদেশের জনগণ যখন ভয়াবহ লোডশেডিং এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির যাতাকলে নিষ্পেষিত তখন ডিজেল-অকটেনসহ সমস্ত জ্বালানি তেলের ৪০-৫০% রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ জনগণের দুর্ভোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশের পেট্রোল-অকটেন মজুদ পরিস্থিতি সম্পর্কে গত ২৮ জুলাই গর্বের সাথে বলেছিল, “আমরা যে গ্যাস উত্তোলন করি সেখান থেকে বাই-প্রোডাক্ট হিসাবে রিফাইন করা পেট্রোল ও অকটেন পাই। যতটুকু চাহিদা তার থেকে অনেক বেশি পেট্রোল এবং অকটেন আমাদের আছে। এগুলো অনেক সময় বাইরে বিক্রিও করি (যুগান্তর, ২৮ জুলাই ২০২২)”। এই বক্তব্যের পর সাত দিন অতিক্রম না করতেই সকল জ্বালানি তেলের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি দেশবাসীর সাথে সরকারের প্রতারণার সকল সীমা পরিসীমা অতিক্রম করেছে। সরকার কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে কখনও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কথা বলছে, অথচ এই মূহুর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে ৯০ ডলারেরও নিচে নেমে এসেছে। আবার অন্যদিকে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর লোকসানের তথ্যও সত্য নয় কারণ গত আট বছরে তেল বিক্রিতে বিপিসি প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে (নয়া দিগন্ত, ২১ জুন ২০২২)। তাছাড়া সরকার জ্বালানী পাচার ঠেকানোর উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে দাম সমন্বয়ের যুক্তি দিচ্ছে, অর্থাৎ তারা পাচার ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় নিচ্ছে না, অথচ অতিরিক্ত দামের বোঝা ঠিকই জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

 

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জনগণকে তোয়াক্কা না করে সরকার কোন কারণে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি করেছে? কার্যত, জ্বালানি তেলের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বিশ্ববাজার পরিস্থিতি কিংবা বিপিসির লোকসান দায়ী নয়। এগুলো মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত কারণকে আড়াল করার অজুহাত মাত্র। প্রকৃতপক্ষে, বৈদেশিক ঋণ নির্ভর মেগা প্রকল্পগুলো যখন দেশের মুদ্রার মান ও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করার পাশাপাশি দেশকে ক্রমাগত ঋণের দুষ্টু চক্রে আবদ্ধ করছে তখন সাম্রাজ্যবাদীদের দালাল এই শাসকগোষ্ঠী দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় কুখ্যাত নব্য-উপনিবেশবাদী প্রতিষ্ঠান আইএমএফ-এর কাছে নতুন করে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ গ্রহণের জন্য দ্বারস্থ হয়েছে। আর এই উপনিবেশবাদী প্রতিষ্ঠান আইএমএফের ঋণ প্রদানের শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম কঠোর শর্ত হচ্ছে জ্বালানি খাতে ভর্তুকী প্রত্যাহার (ঋণে আইএমএফের পাঁচ শর্ত, https://www.bd-pratidin.com/first-page/2022/08/02/794401)। তাই প্রতারক এই সরকার আইএমএফ-এর কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার কঠিন শর্ত পূরণে দেশের সমস্ত জ্বালানি তেলের উপর ভর্তুকী প্রত্যাহার করে তেলের দাম ৪০-৫০% বৃদ্ধি করল। উল্লেখ্য যে, বাস্তবে জ্বালানি তেল থেকে সরকার ৩৭% কর পায়, অর্থাৎ সরকার আমদানিকৃত তেলে ৩৭% কর ধরে দাম নির্ধারণ করে। তাহলে এখানে ভর্তুকির কথা কিভাবে আসে, বরং এই কর বাদ দিলে বিপিসি’র লোকসান বা ভর্তুকির প্রসঙ্গই আসত না। তারা একদিকে অনুৎপাদনশীল মেগা প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে দেশকে ঋণের চক্রে আবদ্ধ করছে এবং অন্যদিকে পূর্বের ঋণের দায় মেটাতে তেল-গ্যাসে ভর্তুকী প্রত্যাহার করার মত কঠিন শর্তে আবারও কুখ্যাত প্রতিষ্ঠান আইএমএফ-এর কাছে ঋণের জন্য ধরণা দিচ্ছে। প্রকৃতই এসব ধর্মনিরপেক্ষ শাসকেরা দুই ধারী তলোয়ারের মত, তারা দুর্নীতি করে দেশকে ক্ষতবিক্ষত করেছে, আবার সেই গর্ত থেকে উত্তোলনে এখন শকুনের সহায়তা নিয়ে আবারও ক্ষতবিক্ষত করছে। এটা সর্বজনবিদিত যে,  আইএমএফ-এর মত উপনিবেশবাদী প্রতিষ্ঠান কখনোই কোন উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা কিংবা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য ঋণ প্রদান করে না। আইএমএফ-এর ঋণের উদ্দেশ্য হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।

 

একমাত্র নব্যুওয়াতের আদলে প্রতিষ্ঠিতব্য আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র আইএমএফ-এর মত পশ্চিমা উপনিবেশবাদীদের প্রতিষ্ঠানের সাথে কৃত দাসখতের সকল ঋণচুক্তি থেকে বের হয়ে আসবে। এবং দেশের জ্বালানি খাতের উপর পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহের আধিপত্যের চির অবসান ঘটিয়ে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করবে। খিলাফত রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদীদের চাপিয়ে দেয়া সুদভিত্তিক ঋণনীতি থেকে বের হয়ে আসবে যার ফলে দেশ বৈদেশিক ঋণের ফাঁদ থেকে মুক্ত হবে। জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনের লক্ষ্যে আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র দেশের জ্বালানি সম্পদ উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্সের সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে যার সক্ষমতা ইতিমধ্যে অন্যান্য বিদেশী কোম্পানির চেয়েও বেশি বলে প্রমাণিত। তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে খিলাফত রাষ্ট্রের ব্যাপকভিত্তিক বিনিয়োগ একদিকে যেমন ব্যাপক কর্মসংস্থান ও রাজস্ব সৃস্টি করবে অন্যদিকে জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জন ভারী শিল্পায়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে যার মাধ্যমে খিলাফত রাষ্ট্র অচিরেই বিশ্বের বুকে প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে বি-ইয-নিল্লাহ্‌।

  • মোহাম্মদ সিফাত

 

 

 

 

“ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেলে লাখ টাকার আইসক্রিম খেতে ক্রেতার অভাব নেই!”

খবরঃ

আইসক্রিমের দাম লাখ টাকা হলেও ঢাকার একটি ‘পাঁচতারকা’ হোটেল অর্ডার সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। ২৪ ক্যারেট ভোজ্য (এডিবল) সোনার তৈরি ৯৯,৯৯৯ টাকা দামের ‘গোল্ডেন আইসক্রিম’ নিয়ে হোটেল সারিনার মার্কেটিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মেহরান হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে অসংখ্য অর্ডার হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে এসে গেছে। ওভারবুকড হয়ে যাওয়ায় এখন আর নতুন কোনো অর্ডার নেওয়া যাচ্ছে না। ভাবতেই পারিনি এত সাড়া পাব। ভাবিনি একদিনেই এত অর্ডার আসবে যে অফারটি বন্ধই করে দিতে হবে। আমরা অভিভূত! (https://www.deshrupantor.com/capital/2022/07/19/371159)

 

মন্তব্যঃ

হোটেল সারিনায় দেশের এক শ্রেণীর মানুষের আইসক্রিম বিলাস বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং দেশের ১৭ টি পাঁচতারকা হোটেলের চিত্র মোটামুটি একই রকম। ঐতিহাসিকভাবে বিদেশি অতিথিরা এসকল হোটেলের মূল টার্গেট হলেও বর্তমানে দেশীয় অতিথিরাই এসকল হোটেলের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে (Luxury hotels recovering thanks to local guests, The Daily Star, July 18, 2022)। এই দেশীয় অতিথিরা হল নব্য-পুঁজিপতি শ্রেণীর সদস্য যারা সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গিয়েছে। ২০১২-১৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশে অতিধনী (ultra-rich) বৃদ্ধির হার ছিল ১৭.৩% যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনে এই হার ১৩.৪% এবং ৮.১% বৃদ্ধির হার নিয়ে এই তালিকার দশ নম্বরে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ডেইলি স্টার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১)। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৯৭৬ জনে, যা ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন (বাংলা ট্রিবিউন, ২২ জুন ২০২২)। সম্পদের এই একমূখী প্রবাহের কারণে দেশে আয়-বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য পরিমাপক গিনি কো-ইফিশিয়েন্ট (Gini Coefficient) সর্বকালের সর্বোচ্চ এবং তা ক্রমেই আরো বাড়ছে। ২০২২ সালের বৈশ্বিক অসমতা প্রতিবেদন (Global Inequality Report) বলছে, বাংলাদেশে মোট জাতীয় আয়ের ৪৪% নিয়ন্ত্রণ করছে সমাজের মাত্র ১০% মানুষ। এর মধ্যে শীর্ষ ১% ধনীর হাতে আছে মোট জাতীয় আয়ের ১৬.৩% (ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১)।

 

বর্তমান পুঁজিবাদী সরকার মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ছাড়াও ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীকে একচেটিয়া ব্যবসা (monopoly) কিংবা কলিউসিভ অলিগোপলির (Collusive Oligopoly) মাধ্যমে দেশের সকল লাভজনক ব্যবসায়ের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছে। যারা সরকারি আনুকূল্যে ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছে তারাই ব্যাংক থেকে বড় ঋণ পাচ্ছে, তারাই আবার ঋণখেলাপি হচ্ছে। একদিকে সরকারের নীতি তাদেরকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করে বিপুল ও নিরবিচ্ছিন্ন মুনাফা পাইয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে তারা ঋণখেলাপি হয়ে ঋণ-সুদ উভয়ই মওকুফ পাচ্ছে। আর মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির অর্থায়নের জন্য সরকার যে ট্যাক্স আরোপ করছে তার দায়ভার বহন করতে করতে হচ্ছে মূলত নিম্ন আয়ের সাধারণ জনগণকে। ফলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে এবং দেশের বেশিরভাগ মানুষ আর্থিক নিষ্পেষনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 

পৃথিবীতে ইসলামই একমাত্র জীবনব্যবস্থা যেখানে সমাজে কারো ধনী হওয়ার মানে এই নয় যে সমাজের বেশিরভাগ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে চলে যাবে। ইসলামী খিলাফতের ইতিহাসের শুরু থেকেই অসংখ্য ধনী লোকের অস্তিত্ব আমরা দেখতে পাই এবং পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমানও ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে এমন পর্যায়ে পৌছেছিল যে যাকাত নেওয়ার মত দরিদ্র কাউকে পাওয়া যায়নি। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন: “…সম্পদ যেন শুধুমাত্র তোমাদের বিত্তবানদের মধ্যে আবর্তন না করে” (সুরা হাশর: ০৭)। শীঘ্রই প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া খিলাফত রাষ্ট্রের খলিফা ‘শুধুমাত্র’ ধনীদেরকে সুবিধা দেয় এমন সকল নীতিমালা প্রত্যাহার করবেন, যা এতদিন যাবৎ বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা দিয়ে আসছে। ইসলামের দৃষ্টিতে “মূল অর্থনৈতিক সমস্যা হচ্ছে রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুবিধাসমূহ সকল নাগরিকদের মধ্যে বন্টন করা এবং এসকল সম্পদ ও সুবিধাসমূহ যাতে নাগরিকগণ (সার্বিকভাবে) অর্জনে কাজ করতে পারে এবং মালিক হতে পারে তার সুযোগ করে দেয়া”।

  • রিসাত আহ্মেদ

ক্যাপাসিটি চার্জের শক: তিন বছরে হাওয়া ৫৪ হাজার কোটি টাকা

খবরঃ

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ) এখন দেশের অর্থনীতির গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৯০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ১৬ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ভাড়া দেয়া হয়েছে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১৮ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১৮ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। প্রায় তিন বছরে মোট ভাড়া দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, “বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ক্যাপাসিটি চার্জ একটা স্বীকৃত পদ্ধতি। কিন্তু বাংলাদেশে যা হয়েছে তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লাভবান করার জন্য করা হয়েছে। প্রথমত, ক্যাপাসিটি চার্জ অনেক বেশি ধরা হয়েছে। দ্বিতীয়ত অপ্রয়োজনে চুক্তি করা হয়েছে। বিশেষ করে কুইক রেন্টালের ক্ষেত্রে রীতিমত লুটপাট করা হয়েছে। (www.dw.com/bn/ক্যাপাসিটি-চার্জের-শক-তিন-বছরে-হাওয়া-৫৪-হাজার-কোটি-টাকা/a-62540245)

মন্তব্যঃ

ভাড়াভিত্তিক অলস কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ জনগণের জন্য এখন গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার সঙ্গে তাদের দিতে হয় নির্দিষ্ট ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ), এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও। উল্লেখ্য প্রায় ৬০% রেন্টাল ও কুইক রেন্টালভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে অলস বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হচ্ছে। শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ হিসাবে এই কুইক রেন্টাল গোষ্ঠীকে গত তিন বছরে ৫৪ হাজার কোটি টাকা এবং গত ১১ বছরে (২০১১-১২ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর)  ৯০ হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে (সমকাল, ২৫ জুলাই ২০২২)। ফলশ্রুতিতে, গত এক দশকে বিদ্যুতের দাম ১০ দফা বেড়েছে যে উচ্চমূল্যের বোঝা জনগণকেই বহন করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এসব ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বৈধতা দিতে ইনডেমনিটি আইনের পাশাপাশি তাদের আশীর্বাদপুষ্ট কুইক রেন্টাল গোষ্ঠীদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত উন্নীত করাসহ নতুন নতুন বিদ্যুতকেন্দ্র অনুমোদন দেয়া অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে নতুন করে আরও ৩৫টি বেসরকারী বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদনে আসার জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। সম্প্রতি বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের এ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে সামিট, ইউনিক ও রিলায়েন্স গ্রুপের এলএনজিভিত্তিক আরো তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র (বণিকবার্তা, ২৩ জুলাই ২০২২)।

 

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কোন যুক্তিতে এসকল ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে মোটা তাজা রাখার প্রকল্পে জনগণের টাকা অপচয় করা হচ্ছে? কেন পুরো দেশে লোডশেডিংয়ের প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও ক্ষুদ্র পুঁজিপতিগোষ্ঠীর ব্যবসার চাকা সচল রাখার এই ক্যাপাসিটি চার্জকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে না? বরং উল্টো বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণকে অন্ধকারে নিমজ্জিত রেখে বিদ্যুৎ সংকটকে জিইয়ে রাখছে যাতে এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কুইক রেন্টাল গোষ্ঠীসহ দেশীয় পুঁজিপতি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে আমদানিনির্ভর এলএনজি ব্যবসার সুবিধাভোগী করা যায় এবং তাদের লুটপাটের প্রকল্প সচল রাখা যায়। আর এসবই সম্ভব হচ্ছে বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে, যেখানে সরকার কারও নিকট দায়বদ্ধ নয়, বরং এমন সার্বভৌম ক্ষমতা ভোগ করছে যা দিয়ে তারা তাদের ও তাদের সহযোগী ক্ষুদ্র পুঁজিপতিগোষ্ঠীর স্বার্থে ইচ্ছামত আইন প্রণয়ন করছে এবং যখন ইচ্ছা যেকোন প্রকার দায়মুক্তি নিচ্ছে। কার্যত, এভাবেই ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সার্বভৌম ক্ষমতা শাসকগোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়ে দেশকে গভীর সঙ্কটের দিকে ধাবিত করে।

 

ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিপরীতে খিলাফত ব্যবস্থায় শাসকগোষ্ঠী থাকে শারীয়াহ্‌’র শৃঙ্খলে আবদ্ধ। খলীফা কেবল সে আইনই প্রয়োগ করতে পারেন যা কুর‘আন ও সুন্নাহ্‌ থেকে উদ্ভুত ও নির্ধারিত। তাই খিলাফত রাষ্ট্রের খলীফার পক্ষে কোন বিশেষ ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর স্বার্থে ও আনুকূল্যে আইন প্রণয়নের কোন সুযোগ নেই। মুসলিমগণ বিষয়ে অংশীদার আগুন, পানি চারণ ভূমি(আবু দাউদ-এই হাদীসে অন্তর্ভুক্ত “আগুন” শব্দটি আবাসিক, শিল্প কারখানা, মেশিন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্টে ব্যবহৃত সব ধরনের শক্তিকে নির্দেশ করে যা গণমালিকানাধীন সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে “Manufacturing takes the rule of what it produces”- এই শারীয়াহ্‌ মূলনীতি অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র/বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট গণমালিকানাধীন সম্পত্তির হুকুম অনুসরণ করে। তাই খিলাফত রাষ্ট্রে কোন ব্যক্তি বিশেষকে ব্যক্তিগতভাবে এই সম্পদের দখল ও ইজারা দেয়ার অনুমতি প্রদান করা রাষ্ট্রের সংবিধান পরিপন্থী। কুরআন-সুন্নাহ্‌’র আলোকে হিযবুত তাহ্‌রীর প্রণীত খিলাফত রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪০ এ বলা হয়েছে, গণমালিকানাধীন সম্পদ থেকে প্রত্যেক নাগরিকের সুফল ভোগ করার অধিকার রয়েছে কোন ব্যক্তি বিশেষকে ব্যক্তিগতভাবে এই সম্পদের দখল ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা রাষ্ট্রের জন্য নিষিদ্ধ তাই আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র- প্রথমত,  জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জন করতে জ্বালানি খাতে বেসরকারীকরণ নীতির অবসান ঘটাবে এবং দেশী-বিদেশী পুঁজিপতিগোষ্ঠীর কাছে ইজারাকৃত গ্যাস-বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলোকে পুনরুদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসবে। দ্বিতীয়ত,  খিলাফত রাষ্ট্র একটি বিশ্বমানের সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো তৈরি করবে এবং গ্যাস–বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর শুধুমাত্র ব্যব্যস্থাপনা খরচ আরোপ করে জনগণের মাঝে এগুলোর নিরিবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে। তৃতীয়ত, শুধুমাত্র জ্বালানির স্থানীয় চাহিদা নয় বরং জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র হাইড্রো কার্বন জ্বালানি অনুসন্ধান সহ নবায়নযোগ্য জ্বালানী যেমনঃ সোলার ইলেক্ট্রিসিটি, বায়ু বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, জলবিদ্যুৎ সহ সম্ভাব্য অন্যান্য নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন অব্যাহত রাখার মাধ্যমে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জন করবে কারণ খিলাফত রাষ্ট্রের থাকবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার প্রবল রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা।

  • মোহাম্মদ সিফাত

 

 

 

“বিদেশি ঋণ ১০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল”

খবরঃ

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-ইআরডি জানিয়েছে, ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ১ হাজার কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো অর্থবছরের এত বেশি বিদেশি ঋণ আসেনি। তবে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলা আমেরিকান মুদ্রা ডলারের অস্থির বাজারে টাকার অব্যাহত দরপতনে এই বিদেশি ঋণ নিয়ে চিন্তিত অর্থনীতির গবেষকরা। (www.jugantor.com/economics/578037)

 

মন্তব্যঃ

একটা সময় ছিল যখন পশ্চিমা উপনিবেশবাদীরা তাদের নৌবহর আর সৈন্য-সামন্ত নিয়ে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের কর্তৃত্ব স্থাপন করত এবং সম্পদ লুটপাট চালাতো। যেমন, ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটেন দুইশত বছর ধরে লুটপাট করে প্রায় ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার (৪২,৪৫,৮১,৭৫০ কোটি টাকা)। ফলে, লন্ডন আর ম্যানচেস্টার উন্নত হলেও কলকাতা-ঢাকা-দিল্লী পতিত হয় চরম দারিদ্রে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তাদের স্টাইলেও পরিবর্তন আসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ক্ষমতার পালাবদলের ফলে নব্য-উপনিবেশবাদের মোড়ল হিসেবে আমেরিকা আবির্ভূত হয় এবং স্বশরীরে উপস্থিতির বদলে বিভিন্ন দালাল শাসক, জাতিসংঘ, আইএমএফ কিংবা বিশ্বব্যাংক-এর মত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদকে জারী রাখে। উন্নয়নশীল দেশসমূহকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন থেকে দূরে রাখতে যেসকল উপায়-উপকরণ তারা ব্যবহার করে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে “ঋণ”। আর এই ঋণ প্রদানের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আইএমএফ কিংবা বিশ্বব্যাংক-এর মত প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

মূলত, ১৯৪৪ সালে ব্রেটন-উডস কনফারেন্সের মাধ্যমে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের উৎপত্তি হয়। বিশ্বব্যাপী মুদ্রাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও অর্থনৈতিক সংকটে পরা দেশসমূহকে সহায়তার নামে আইএমএফ (International Monetary Fund) গঠিত হলেও এটি মূলত সারাবিশ্বে ডলার সন্ত্রাস তৈরী ও বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক পলিসি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সেসকল দেশকে ডলার আয়ের প্রতি জোর প্রদানের মাধ্যমে আত্ননির্ভরশীল অর্থনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে কোন দেশের মুদ্রার মান কত হবে তাও এই আইএমএফ নির্ধারণ করে থাকে। অপরদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ দিয়ে থাকে বিশ্বব্যাংক। মূলত বিশ্বব্যাপী ডলারের আধিপত্য বজায় রেখে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে দীর্ঘায়িত করাই এদের মূল লক্ষ্য।

 

অপরদিকে, সাম্রাজ্যবাদীদের দাসে পরিণত হওয়া বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশসমূহ নিজের দেশের তেল-গ্যাসের মত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানীসমূহ তাদের কাছে স্বল্পমূল্যে কিংবা প্রায় বিনামূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, নিজেরা তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান ও উত্তোলন না করে বিদেশ থেকে এগুলো আমদানি করছে। ফলে বিদেশী ঋণের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। পাশাপাশি, এসকল প্রতিষ্ঠানের প্রেস্ক্রিপশন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদন থেকে ভর্তুকি উঠিয়ে দেওয়ার ফলে তার উৎপাদনে বিপত্তি ঘটে এবং এগুলো আমদানি করতে গিয়ে বিদেশ নির্ভর হয়ে পড়ে। ফলে আরো অধিক ঋণের প্রয়োজন পড়ে। অর্থাৎ, জ্বালানি এবং মৌলিক খাদ্য ও পণ্যের আমদানীর কারণে অধিকতর ডলারের প্রয়োজন পড়ে। ফলে আবারো ঋণ গ্রহন করতে হয়। উপরন্তু উন্নয়নের নামে লুটপাটের মেগা প্রজেক্টেও এসকল প্রতিষ্ঠান ঋণ দিয়ে থাকে। ফলে, এর সুদসহ আসল পরিশোধের ব্যয়ভার গ্রহণ করতে হয় সাধারণ জনগণকে। এবং যেহেতু, এসকল আমদানি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধ করতে হয় ডলার দিয়ে, সেহেতু বাংলাদেশের মত দেশকে অধিকতর ডলার আয় কিংবা আরো ঋণ নিতে আগ্রহী করে তোলা হয়। ফলে এই দালাল শাসকরা দেশের টেকসই উন্নয়নের কথা চিন্তা না করে শুধুমাত্র ঋণ নিয়ে নিজেদের লূটপাটের পথ জারী রাখে আর সাধারণ জনগণের দিন যায় এসকল ঋণের কিস্তি আর সুদ পরিশোধে।

 

বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠান ও দেশসমূহের ঋণের এই আবর্ত থেকে দেশকে উদ্ধারের একমাত্র উপায় হচ্ছে খিলাফতে রাশিদাহ্‌ প্রতিষ্ঠা করা যেখানে খলীফা এসকল প্রতিষ্ঠান কিংবা দেশ থেকে ঋণ গ্রহন করে দেশকে কাফির রাষ্ট্রসমূহের অনুগত দাসে পরিণত করবেন না। খিলাফত রাষ্ট্র দেশের জ্বালানীকে জনগণের কাজে ব্যয় করবে। এর উত্তোলন, পরিশোধন, বন্টন সবই রাষ্ট্র করবে। উপরন্তু দেশের কৃষি ও শিল্পকে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য ও দ্রব্যাদী দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে আমদানি কমবে, উপরন্তু রপ্তানী বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে ডলার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারকে পরিবর্তিত করে দিয়ে স্বর্ন-রৌপ্য ভিত্তিক মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচলন করবে। বৈদেশিক বানিজ্য করার ক্ষেত্রেও একই মুদ্রা ব্যবহার করা হবে। ফলে বিদেশী ঋণ নির্ভরতা বিলুপ্ত হয়ে দেশ একটি আত্বনির্ভরশীল অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

  • মো. হাফিজুর রহমান

 

 

 “মূল্যস্ফীতির পেছনে মূলত টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিই দায়ী

খবরঃ

সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরো (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, যেখানে খাদ্যপণ্যের হার ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে এ হার আরও অনেক বেশি। দেশের অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১৫ শতাংশ এবং সার্বিকভাবে এ হার প্রায় ১২ শতাংশ। এ মূল্যস্ফীতির পেছনে মূলত টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি দায়ী। রিজার্ভ সংকট আরও তীব্র হলে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম এবং মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। (www.jaijaidinbd.com/feature/borshopurti/279413)

 

মন্তব্যঃ

চলমান ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির মূল কারণ হিসেবে যারা শুধুমাত্র ডলারের মূল্যবৃদ্ধিকে চিহ্নিত করে তারা আরও বেশি ডলারের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ঝাপিয়ে পড়ার পরামর্শ ছাড়া আর কিইবা দিতে পারে। রফতানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নেয়া, প্রবাসী আয় বাড়ানো, আমদানি ব্যয় কমানো অথবা আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম কমার জন্য দোয়া করা ইত্যাদিই তাদের পক্ষ থেকে জনগণের জন্য একমাত্র করণীয়। রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দিয়ে, লোডশেডিং বাড়িয়ে, উন্নয়ন প্রকল্পে গতি কমিয়ে, আইএমএফ থেকে ঋণ নেয়ার উদ্যোগ নিয়ে এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের দিন গুণে তেমনটিই করছে বর্তমান সরকার।

 

কিন্তু বাস্তবে ডলার আসলে সমূদ্রের মধ্যে থাকা ক্রমবর্ধমান একটি বরফের পর্বতসৃংগের পানির উপরে দেখতে পাওয়া ছোট অংশ কেবল। আর যেকারণে বাংলাদেশসহ পুরোবিশ্ব মূল্যস্ফীতিসহ ভয়ংকর সব অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রায় অচল হয়ে পড়ছে সেটি হলো পশ্চিমাদের বিশেষত আমেরিকার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থা। তাই ভয়ংকর এই স্থবিরীকরণ থেকে মুক্তি চাইলে পুঁজিবাদের সমুদ্রের মধ্যে থেকে ডলার নামক দ্বীমুখি তলোয়ারের সাথে লড়াই করলে মৃত্যু অবধারিত। বরং আমাদের দ্রুত এই সমুদ্র ত্যাগ করতে হবে এবং অগ্রগতির নতুন পথ খুঁজতে হবে। বাস্তবতার গভীরে না গিয়ে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পরিচালিত আমাদের দেশের সরকার, বিরোধীদল এমনকি তথাকথিত কিছু থিংক-ট্যাংকরা প্রতিনিয়ত কেবল ডলার রিজার্ভ ধরে রাখার নানান পথ বাতলে দিচ্ছেন। কিন্তু তারা এটা বলছেন না যে, এই ডলার একটি কাগুজে ফিয়াট মুদ্রা যেটি আসলে অন্যান্য সত্যিকার পণ্যের মত নয়। তারা এটা বলে না যে আমেরিকা প্রতারণামূলকভাবে পুরো বিশ্বের মানুষকে একটি প্রিন্টেট কাগজের উপর জিম্মি করেছে।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা ১৯৪৪ সালে বিভিন্ন দেশের দুর্বলতার সুযোগে ব্রেটনউড সন্মেলনে পাশ করিয়ে নেয় যে এখন থেকে অন্যান্য মুদ্রার পিছনে স্বর্ণের আনুপাতিক রিজার্ভ রাখতে হবে না, আনুপাতিক পরিমাণ ডলার রাখলেই চলবে। আর কেবলমাত্র ডলারের পিছনে আমেরিকা প্রয়োজনীয় পরিমাণ স্বর্ণ মজুত রাখবে। তখন থেকে অফিসিয়ালি ডলার পুঁজিবাদী বিশ্বের একচ্ছত্র আন্তর্জাতিক মূদ্রায় পরিণত হয়। এভাবেই ডলারের নিয়ন্ত্রক আমেরিকার নেতৃত্বে চালু হয় নব্য উপনিবেশবাদ যার প্রকাশ্য অস্ত্র হচ্ছে ডলার, আর এই ডলার সন্ত্রাস প্রতিষ্ঠিত করার মূল চিন্তা, আদর্শ বা ভিত্তি হচ্ছে পুঁজিবাদ। এবং এই ডলারকে ধার দেয় ও টিকিয়ে রাখে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা বা জাতিসংঘ ইত্যাদি সব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মূল অর্থনৈতিক নিয়ামক হচ্ছে প্রবৃদ্ধি। আমেরিকা ব্রেটনউড সন্মেলনে পুঁজিবাদী চিন্তার ভিত্তিতে অকল্পনীয় প্রবৃদ্ধি, গ্রোথ বা ডেভেলপমেন্টের প্রতারণামূলক গল্প এঁটে সবাইকে ডলার নামক ধারালো অস্ত্রের মালা পরায়।

 

এই কৃত্রিম প্রবৃদ্ধির নেশা এতই ভয়ংকর যে আমেরিকা ডলার দ্বারা সবাইকে জিম্মি করেই ক্ষান্ত হয়নি ১৯৭১ এসে বাস্তবিক অর্থে অন্য সকলের শ্বাস রোধ করে বসে। ১৯৭০ সালের গ্রেট ডিপ্রেশনের পর বিশ্বের দেশগুলোর আরেক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৯৭১ সালে আমেরিকা ডলারের পিছনে স্বর্ণের রিজার্ভ রাখাকেও তুলে দেয় বা ডলার রিজার্ভ রাখা দেশগুলোকে দেয়া প্রতিশ্রুতি চাহিবামাত্র স্বর্ণ বিনিময় দেয়ার দাবিকে অস্বীকার করল। ফলে তৎক্ষনাৎ একটি কাগজ দ্বারা বাকি সবাই লুট হয়ে গেলো। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হলো আমাদের মতো প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ মুসলিম দেশগুলো। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার এই আগ্রাসনের ফলে স্বনির্ভরভাবে বেঁচে থাকার মত সবকিছু থাকার পরও আজ আমাদেরকে ‘ডলার রিজার্ভ’ নামক অক্সিজেন ট্যাংক নাকে লাগিয়ে মূমুর্ষের মত বেঁচে থাকতে হচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে আমেরিকার ডলার দ্বারা বিশ্বের অন্য প্রতিটি দেশ প্রতিনিয়ত লুন্ঠিত হচ্ছে। যদি বিশ্বে দ্রুত একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার আবির্ভাব না ঘটে যা মানবতাকে এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে মুক্ত করতে পারে তাহলে অতিসত্ত্বর পশ্চিমারা এমনকি আমেরিকাসহ সকলেই ধ্বংস হবে।

 

একমাত্র ইসলামী ব্যবস্থায়ই রয়েছে সেই সমাধান যা মিথ্যা প্রবৃদ্ধির নামে করা স্পষ্ট লুন্ঠনের হাত থেকে এই মানবজাতিকে মুক্ত করতে পারে। ইসলাম প্রকৃত সম্পদ ছাড়া অন্য যেকোন ধরনের লেনদেনকে নিষিদ্ধ করে। যে মুদ্রার পেছনে প্রকৃত ন্যয্য পরিমান স্বর্ণ বা রৌপ্যের রিজার্ভ থাকবেনা, ইসলামী খিলাফত সেই মূদ্রাকে স্বীকৃতি দিবে না। অতএব খিলাফত ফিয়াট মুদ্রা ডলারকেই শুধু প্রত্যাখ্যান করবে তা নয়, UN, WB, WTO, IMF সহ ইত্যাদি উপনিবেশবাদী সংস্থাগুলোকেও পরিত্যাগ করবে এবং সর্বোপরি মানবরচিত ও মানবতাকে লুন্ঠনকারী ব্যবস্থা পুঁজিবাদকে এই বিশ্ব থেকে এমনভাবে উপড়ে ফেলবে যেন এটা কখনও ছিলই না। আল্লাহ্সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন,আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নেয়ামত সমূহ উম্মুক্ত করে দিতাম(সুরা আল-আরাফ ৯৬)।

  • মোহাম্মদ তালহা হোসেন

 

 

 

 

 

 “ট্রেন কাউকে ধাক্কা দেয় না, অন্যরা ট্রেনকে ধাক্কা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়: মন্ত্রী

খবরঃ

সম্প্রতি রেল দুর্ঘটনায় ১১ তরুণের মৃত্যুতে শোক ও সম‌বেদনা জা‌নি‌য়ে রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন ব‌লে‌ছেন, ট্রেন কখ‌নো কাউকে ধাক্কা দেয় না। অন‌্যরা (বিভিন্ন যানবাহন) এসে ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। ট্রেনকে ধাক্কা দি‌য়ে কেউ য‌দি দুর্ঘটনা ঘটায়, এ দায় কি রে‌লের? মন্ত্রী ব‌লেন, রে‌লে ব‌্যা‌রি‌কেড বা গেট দেওয়া হয় অন্যের নিরাপত্তা দেওয়ার জন‌্য না, রেল‌কে কেউ যা‌তে অনিরাপদ কর‌তে না পা‌রে, রে‌লের নিরাপত্তার জন‌্যই এসব গেট দেওয়া হয়। রে‌ললাইনের ওপর দি‌য়ে পথ বা‌নি‌য়ে যারা চলাচল ক‌রেন, তাদের উচিত নিরাপত্তার ব‌্যবস্থা করা। কারণ ট্রেন যখন চ‌লে, তখন ১৪৪ ধারা জা‌রি থাকে। ১৪৪ ধারা অমান‌্য ক‌রে কেউ য‌দি লাইনে উঠে যায়, তাহ‌লে অপরাধ তার, ট্রেনের নয়।  (https://banglanews24.com/national/news/bd/947712.details)

 

মন্তব্যঃ

অন্যেরা কেন ট্রেনকে ধাক্কা দেয়, কোন অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফলাফল হিসেবে অন্যান্য যানবাহন ট্রেনের উপর আচড়ে পড়ে, রেলমন্ত্রী কিন্তু সেটা বলেননি! রেলের মত গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন খাতটি শুধুমাত্র দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায়ই নিমজ্জিত নয়, বরং জনগণের জন্য এটি একটি মৃত্যুফাঁদ। দেশে বর্তমানে ২,৯৫৯ কি.মি. রেলপথে রেলক্রসিং রয়েছে মোট ২,৮৫৬টি; এর মধ্যে ১,৪৯৫ টি বৈধ এবং ১,৩৬১ টি অবৈধ। মোট রেলক্রসিংয়ের ৯৬১টির মধ্যে কোন গেটম্যান নেই। সে হিসেবে দেশে ৮২ শতাংশ রেলক্রসিংই অনিরাপদ বলে মনে করে সেচ্ছাসেবী সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সর্বশেষ চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বর্তমান সরকার বিগত একযুগে ১ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও রেলখাতের ন্যূনতম দূর্দশা দূর করতে পারেনি, বরং তাদের ব্যর্থতার দায় এখন তারা জনগণের উপর চাপাচ্ছে। আল্লাহ্‌’র রাসূল (সাঃ) এসকল শাসকদের ব্যাপারে বলেন, তোমাদের মধ্যে নিকৃষ্ট শাসক হচ্ছে তারাই যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর, আর তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে। তোমরাও তাদেরকে অভিশাপ দাও, আর তারাও তোমাদের অভিশাপ দেয় (সহীহ মুসলিম)।

 

পন্য পরিবহণ, যাত্রী ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে রেলওয়ে অতিগুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কোন সরকারই এই খাতটির উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ নেয়নি, বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছে যাতে বেসরকারী সড়ক ও নৌপরিবহন মালিকদের পুঁজিবাদী স্বার্থ রক্ষা হয়। চাহিদার তুলনায় কম রেল পরিচালনায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়কে পুঁজি করে রেলওয়ে খাতে গড়ে উঠেছে টিকিট কালোবাজারি। ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী ব্যবস্থা যা রেলমন্ত্রীর মত শাসকবৃন্দ এবং পরিবহন খাতের দুর্নীতিগ্রস্ত মালিক ও কর্মকর্তাদের বেপরোয়া ও জনগণের প্রতি দায়িত্বহীন করে তুলেছে। এ ব্যবস্থা যেহেতু সৃষ্টিকর্তা বিবর্জিত, তাই এ ব্যবস্থার অধীনে শাসকদের দুনিয়া কিংবা পরকালে কারও নিকট জবাবদিহিতার পরোয়া নাই। তাদের নিকট দায়িত্ব মানে হচ্ছে সম্পদ তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম। তাই যখন তাদের ব্যর্থতার দিকে আঙ্গুল তোলা হয়, তখন তারা এটাকে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে দায়মুক্তি নেয়ার চেষ্টা করে। এ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ইসলামের দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিবহন খাতে নৈরাজ্য থেকে জনগণের আর কোন পরিত্রাণ নাই। খিলাফত রাষ্ট্র জনসেবামূলক খাতসমূহকে, যেমন রেলওয়ে, মুনাফার দৃষ্টিতে দেখেন না বরং জনগণের প্রতি ফরয দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। মুনাফা না হওয়ার অজুহাতে খলিফা রেলখাতকে অব্যবস্থাপনার দিকে ঠেলে দিবেন না। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, কেউ যদি মুসলিমদের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয় কিন্তু সে বিষয়ে অমনোযোগী থাকে এবং তাদের প্রয়োজন দারিদ্রতার বিষয়ে খামখেয়ালী করে, আল্লাহ্তার ব্যাপারে কিয়ামতের মাঠে উদাসীন থাকবেন এবং তার প্রয়োজন দারিদ্রতার বিষয়ে অমনোযোগী থাকবেন (আবু দাউদ)। রেল এবং রেল লাইন, মহাসড়ক প্রকৃতিগতভাবে গণমালিকানাধীন সম্পত্তি। খলিফা জনগণের তত্ত্বাবধায়ক হয়ে এ সকল সম্পত্তির যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ও দক্ষ জনবল নিয়োগ করবেন যাতে জনগণের সর্বোচ্চ সেবাসহ জান-মালের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়। খলিফা ওমর (রা.) সড়ক পথে জনগণের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করেছিলেন, এমনকি তিনি একটি প্রানীর নিরাপদ যাত্রা নিয়েও চিন্তা করতেন। তিনি বলেছিলেন, ইরাকের মাঠে একটি প্রানীও যদি হোঁচট খায়, তাহলে আমি ওমর ভয় করি আল্লাহ্আমাকে জিজ্ঞেস করবেন, কেন আমি প্রানীটি চলার জন্য রাস্তা প্রশস্ত করিনি

  • আবি আব্দুল্লাহ

 

 

 

 

 

“কোনো মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাতে পারে না: বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম”

খবরঃ

…সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি, দোকান ও মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রসঙ্গে কথা বলেন মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। তিনি বলেন, ‘আমাদের পবিত্র দায়িত্ব হলো, কেউ যদি আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে খারাপ কথা বলে, আমরা তার সমালোচনা করবো এবং প্রতিবাদ করবো৷ কিন্তু এই ধরনের প্রতিবাদ জানানোর জন্য ইসলামের কিছু নিয়ম আছে।’ ‘এই ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অন্তর থেকে ঘৃণা প্রকাশ করবো এবং মৌখিকভাবে প্রতিবাদ করবো। সেই প্রতিবাদের মানে এই নয় যে আমরা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেব। রাষ্ট্রের আইন, ইসলামের নিয়ম-কানুন কোনোটিই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থন করে না। ‘আমি বিশ্বাস করি কোনো মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাতে পারে না,’ বলেন তিনি। (https://bangla.thedailystar.net/সংবাদ/বাংলাদেশ/কোনো-মুসলিম-সংখ্যালঘুদের-ওপর-হামলা-চালাতে-পারে-না-বায়তুল-মোকাররমের-পেশ-ইমাম-374001)

 

মন্তব্যঃ

সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর হামলা-নির্যাতনের সাথে ইসলামের দূরবর্তী কোন সম্পর্ক নাই তবুও এই ঘটনাগুলোর দায় ইসলাম ও মুসলিমদের উপর চাপিয়ে সেক্যুলার শাসকগোষ্ঠী ও বুদ্ধিজীবিদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা অনেকদিন যাবৎ চলছে। এই ধারায় মনে হচ্ছে এবার জাতীয় মসজিদের খতিবের ব্যবহারকেও বাদ দেয়া হচ্ছে না। রাষ্ট্রের নাগরিকদের সংখ্যালঘু হিসাবে চিহ্নিত করা একটি সেক্যুলার ধারণা। সেক্যুলার-গণতান্ত্রিক সমাজে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। তাই শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগুরু মানুষের সমর্থন লাভে সংখ্যালঘু বিরোধী আবেগকে উস্কে দেয়। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগণের সমর্থন পেতে সেখানকার শাসকগোষ্ঠী কাশ্মীর, গুজরাট, আসামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের উপর হামলা-নির্যাতনকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এমনকি তথাকথিত সভ্য পশ্চিমা বিশ্বের সেক্যুলার শাসকগোষ্ঠীরাও “ইসলাম বিদ্বেষকে“ ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা অর্জনের চেষ্টা করছে। ফ্রান্সে মুসলিমদের প্রতি রাজনৈতিক দলসমূহের বিদ্বেষ নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে (newsbangla24.com, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯)। এটা সর্বজনবিদিত যে, বাংলাদেশে যে কয়টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে পরবর্তীতে সেখানে সরকারদলীয় লোকজন জড়িতের প্রমাণ মিলেছে, যে বিষয়টি এখন সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন প্রতিনিধিরাও প্রকাশ্যে এসে বলছেন। তাই জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে বিষয়টিকে কেবল মুসলিমদের ধর্মীয় উম্মাদনা হিসেবে উপস্থাপন করা একেবারেই বেমানান, বরং তার উচিত প্রকৃত সত্যকে সাহসের সাথে জনগণের সাথে তুলে ধরা।

 

ইসলামে জনসংখ্যা বা অন্যকোন ভিত্তিতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সংখ্যালঘু বলে চিহ্নিত করার সুযোগ নাই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল জনগণ খিলাফত রাষ্ট্রে নাগরিকের মর্যাদা নিয়ে সম্মানের সাথে বসবাস করার সুযোগ পায়। রাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য শারীয়াহ্‌ দ্বারা বিধিবদ্ধ। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। শারীয়াহ বিধান হিসাবে সামর্থ্যবান অমুসলিম নাগরিকদের নিকট থেকে নিরাপত্তা কর (যিজিয়া কর) আদায় করা হবে। তার বিনিময়ে তাদের নিরাপত্তাসহ সকল প্রয়োজনীয় অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এমনকি যদি, কোন নাগরিক অক্ষম হয় রাষ্ট্র তার ভরণ-পোষণেরও দায়িত্ব গ্রহণ করবে। রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেছেন, “জেনে রাখো, যে মুসলিম কোন চুক্তিবদ্ধ (অর্থাৎ অমুসলিম) নাগরিকের ওপর জুলুম করবে, কিংবা তার অধিকার হরণ করবে, কিংবা তার ওপর সামর্থ্যের চেয়ে বেশি বোঝা চাপিয়ে দিবে, কিংবা তার কোন জিনিস জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিবে, সেই মুসলিমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগে আমি আল্লাহ্‌’র আদালতে অমুসলিম নাগরিকের পক্ষে দাঁড়াব” (আবু দাউদ)।

 

অমুসলিম নগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার খিলাফত রাষ্ট্রের এই নীতির কারণে খিলাফত হয়ে উঠেছিল অমুসলিমদের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক। অমুসলিমরা মুসলিমদের দ্বারা শাসিত হতে অধিক নিরাপদ অনুভব করতো। আবু উবাইদা (রাঃ) সিরিয়ার গভর্নর থাকাকালীন সময় সেখানকার খ্রিস্টানদের নিকট থেকে নেয়া জিজিয়া কর ফেরত দেন, কারণ তখন তার সেনাবাহিনীকে খলিফার নির্দেশে ইয়ারমুকে স্থানান্তরিত হতে হয়েছিল। তখন অমুসলিম নাগরিকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রার্থনা করতে থাকেন যেন মুসলিমরা বিজয়ী হয়ে আবার শাসক হিসেবে তাদের নিকট ফিরে আসে। কারণ তাদের পূর্বের শাসকদের তুলনায় মুসলিমরা তাদের নিকট শাসক হিসেবে অধিকতর জনপ্রিয় ছিলেন। যার কারণে অমুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও খিলাফত ব্যবস্থায় শাসিত রাষ্ট্রগুলোতে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সম্প্রীতি বিরাজ করত।

  • মো: জহিরুল ইসলাম

 

 

 

 

 

“বনানী ২৭ নম্বরের পার্ক এখন কামাল আতাতুর্ক পার্ক”

খবরঃ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বনানী ২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত পার্কটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে কামাল আতাতুর্ক পার্ক। তুরস্কে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের নাম অনুসারে এ নাম রাখা হয়। ইতোমধ্যে নামের ফলকটি পার্কে বসানো হয়েছে। (www.banglatribune.com/others/capital-city/754939/বনানী২৭নম্বরেরপার্কএখনকামালআতাতুর্কপার্ক)

 

মন্তব্যঃ

খিলাফত রাষ্ট্র ধ্বংসের অন্যতম ক্রীড়ানক কামাল আতাতুর্কের নামে পার্কের নামকরণ করার অর্থ হচ্ছে ইসলামের এক প্রকাশ্য শত্রুকে মহিমান্বিত করা। পশ্চিমা কাফির রাষ্ট্রসমূহ এবং তাদের অনুগত শাসকগোষ্ঠী তাকে মহান নেতা ও তুরস্কের মুক্তির দূত হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলেও এটা সর্বজন স্বীকৃত সে ছিল পশ্চিমাদের স্বার্থরক্ষায় নিবেদিত প্রাণ, ইসলাম এবং মুসলিম উম্মাহ্‌’র শত্রু। তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পশ্চিমা কাফিররা ১৯২৪ সালে মুসলিম উম্মাহ্‌’র অভিভাবক ও ঢাল খিলাফত রাষ্ট্রকে বিলুপ্ত করতে সক্ষম হয়। তারা খিলাফত রাষ্ট্র ধ্বংসে সহযোগীতার পুরস্কার হিসেবে তাকে তুরস্কের শাসন কর্তৃত্ব প্রদান করে। শাসন ক্ষমতায় এসে সে তার পশ্চিমা প্রভুদের খুশি করতে তথাকথিত “কামালবাদের নামে” ইসলামী আইনগুলোকে পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষ আইন দ্বারা প্রতিস্থাপন করে। যেমনঃ ইসলামী উত্তরাধিকার আইন, হিজাব পরিধান, আরবি ভাষার ব্যবহার, কুরআন পাঠ, ইসলামি বই-পুস্তক নিষিদ্ধ করা, ইত্যাদি। এছাড়াও সে সামরিক পতাকা থেকে কলেমা শাহাদাহ্‌কে সরিয়ে দেয়, আযানকে তুর্কি ভাষায় পরিবর্তন করে, অনেক মসজিদকে জাদুঘর, পাব ও ক্যাসিনোতে রূপান্তর করে। তার সরকারের ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধীতার অপরাধে সে বহুসংখ্যক আলীমকে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, পরবর্তী প্রজন্মকে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন করতে মিডিয়া ও স্কুল পাঠ্যক্রমে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর সমালোচনা ও অপবাদকে বৈধ করে।

 

যখন উম্মাহ্‌ ঘৃণাভরে কামালবাদের মোড়কে থাকা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে প্রত্যাখান করেছে, তখন বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এখনও তথাকথিত জাতির পিতা, আধুনিক তুরস্কের জনক ইত্যাদি ভ্রান্ত নামে তাকে মহিমান্বিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে যাতে ইসলামের স্বঘোষিত শত্রু কামাল আতাতুর্কের নামে পার্কের নামকরণের মাধ্যমে পশ্চিমাদের নিকট নিজেদেরকে আরও গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিযোগীতায় এগিয়ে থাকা যায়। পশ্চিমারা চায় মুসলিমরা যাতে ধীরে ধীরে ধর্মনিরপেক্ষ আর্দশের সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠে, এসকল প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে কৌশলে ইসলামের শত্রু ও সাম্রাজ্যবাদের দালালদের মহিমান্বিত করা মাধ্যমে তাদের অনুসৃত আদর্শকে মহিমান্বিত করা, এবং নিবেদিতপ্রাণ দালাল হিসেবে বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ সরকার সেই এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে।

 

মুসলিমদের অবশ্যই সাম্রাজ্যবাদীদের চাপিয়ে দেয়া ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থাকে মহিমান্বিত করার সকল প্রকার প্রকল্প যেমনঃ কামালবাদ, মুজিববাদের, লালনবাদকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করতে হবে কারণ এই ব্যবস্থা উম্মাহ্‌’কে সাম্রাজ্যবাদীদের দাসত্বের শৃংখল ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে নাই। সাম্রাজ্যবাদীদের শৃংখল থেকে মুক্তির জন্যে আমাদের অবশ্যই খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খিলাফত রাষ্ট্র ইসলাম ছাড়া অন্য সকল ভ্রান্ত মতবাদকে বুদ্ধিবিত্তিক এবং রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ করে এই আদর্শগুলোর অসাড়তা উম্মাহ্‌’র সামনে উন্মোচন করে দিবে। “সত্য এসেছে, মিথ্যা অপসৃত হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা সেটাতো দূরীভূত হওয়ারই কথা” (বনী-ইসরাঈল, আয়াত ৮১)।

  • মোঃ সিরাজুল ইসলাম