মুসলিম ভূমিগুলোর শাসকেরা আমেরিকার নির্দেশ পালনে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনে সক্ষম, অথচ মুসলিমরা যখন সাহায্যের জন্য আহ্বান জানায় তখন তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে!
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
بسم الله الرحمن الرحيم
মুসলিম ভূমিগুলোর শাসকেরা আমেরিকার নির্দেশ পালনে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনে সক্ষম, অথচ মুসলিমরা যখন সাহায্যের জন্য আহ্বান জানায় তখন তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে!
(অনুবাদকৃত)
ওহী নাযিলের পবিত্র ভূমি মক্কায়, মুসলিমদের কিবলা ও পবিত্র নিদর্শনাদির সন্নিকটে, তিন মুসলিম দেশ—তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব এর শাসকগণ এক সম্মেলনে একত্রিত হয়ে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সম্মেলনের চূড়ান্ত বিবৃতি বা ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও কার্যকর করে তোলা। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বাক্ষরকারী যেকোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে তা তাদের সকলের উপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চুক্তি তিন দেশের মধ্যকার ‘ঐতিহাসিক সম্পর্ক’ ও অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, এবং এর উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করা।
হিযবুত তাহ্রীর-এর কেন্দ্রীয় মিডিয়া অফিস নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিশেষভাবে তুলে ধরছে:
প্রথমত: এই শাসকেরা তাদের সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে ‘ইসলাম’ শব্দটি উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, এবং এর পরিবর্তে তারা কেবল “ঐতিহাসিক সম্পর্কের” কথা উল্লেখ করেছে। ইসলাম ছাড়া আর কোন ইতিহাস এই ভূমিগুলোকে যুক্ত রেখেছিল? এবং তারা কি একসময় খিলাফত নামক একক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল না? এতদসত্ত্বেও তারা তাদের প্রভূ আমেরিকার সামনে বশ্যতা স্বীকার করে এবং অপমানিত অবস্থায় থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তারা তাদের বিবৃতিতে মিথ্যাচার করেছে, কারণ এই বৈঠকে তাদের একত্রিত হওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ ছিল আমেরিকার নির্দেশসমূহের প্রতি তাদের নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তার পরিবর্তে অন্যকিছু দিয়ে শাসন করার অপরাধ, এবং মুসলিম ভূমিগুলোকে খণ্ড-বিখণ্ড করার অপরাধ সংঘটনের পাশাপাশি এই শাসকেরা এখন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে মূলত আমেরিকার নির্দেশই বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে মুসলিম ভূমিগুলোতে আমেরিকার প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার নতুন নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবায়নকে সহায়তা করা হচ্ছে, যাতে চীনের সাথে সংঘাতে এই অঞ্চলকে আমেরিকা একটি প্রবেশদ্বার ও অভিযান পরিচালনার কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। অতএব, এই শাসকেরা স্বেচ্ছায় আমেরিকার হাতিয়ারে পরিণত হওয়াকে মেনে নিয়েছে।
তৃতীয়ত: এই তিন রাষ্ট্রের সামরিক জোট প্রমাণ করেছে, মুসলিম সামরিক বাহিনীগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। অতএব, অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্র যখন নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছিল এবং গাজার মুসলিমরা যখন এসব শাসকদের নিকট সাহায্যের আকুল আবেদন জানাচ্ছিল, তখন তারা তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি সক্ষম ছিল। অথচ, তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল। এমনকি, তাদের মধ্যে কেউ কেউ গাজায় গণহত্যা চালানোরত অবস্থায় অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্রটিকে সমর্থনও জুগিয়েছিল। অতএব, গাজার মুসলিমদের সাহায্যের আহ্বান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে, আমেরিকার সামরিক চুক্তির আহ্বানে আগ্রহের সাথে সাড়া দেওয়ার পর, এই নীচ ও অযোগ্য শাসকদের আত্মসম্মানের শেষ বিন্দুটিও আর অবশিষ্ট থাকল না!
চতুর্থত: আমেরিকা যদি মনে করে, এই জোট বা অন্য কোনো জোটের মাধ্যমে সে খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে প্রতিহত করতে পারবে, তবে তার সেই প্রত্যাশা ব্যর্থ হয়েছে এবং তার নিক্ষিপ্ত তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। উম্মাহ্ তার খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে; এবং আমেরিকা শীঘ্রই দেখতে পাবে, তার সবগুলো দালাল হাওয়ায় বিলীন হয়ে গেছে—যাদের প্রতি তার বিশ্বাস যে তারা তার উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন করে দেবে। উম্মাহ্ তাদেরকে পদদলিত করে পবিত্র ভূমি থেকে অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্রকে সমূলে উপড়ে ফেলার অভিযানে বের হবে, এবং জুলুমকারী, উপনিবেশ স্থাপনকারী এবং সম্পদ লুণ্ঠনকারীদেরকে এমনভাবে মোকাবেলা করবে যাতে তারা শয়তানের কুমন্ত্রণা ও বিভ্রমসমূহ ভুলে যায়—যেগুলোর মাধ্যমে তারা এতদিন নিজেদেরই প্রতারিত করে এসেছে।
পঞ্চম ও সর্বশেষ: আমরা সকল মুসলিম এবং তাদের মধ্যে যারা ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী তাদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানাচ্ছি: আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন, আপনাদের শাসকেরা তাদের বিশাল সামরিক বাহিনী নিয়ে জোট গঠন করেছে—কিন্তু তা আল্লাহ্’র পথে জিহাদের মাধ্যমে মুসলিম ভূখণ্ডসমূহ মুক্ত করতে নয়, কিংবা নবুয়্যতের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্যও নয়। এই শাসকেরা আর কতকাল পরাশক্তিদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আপনাদেরকে এবং আপনাদের সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে থাকবে?! অতএব, এই শাসকদের কবল থেকে মুক্তি পেতে এবং নবুয়্যতের আদলে দ্বিতীয় খিলাফতে রাশিদাহ্ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে হিযবুত তাহ্রীর-এর সাথে কাজ করতে দ্রুত অগ্রসর হোন:
إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ
“যদি আল্লাহ্ তোমাদেরকে সাহায্য করেন, তবে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না” [সূরা আলি ইমরান: ১৬০]
Sunday, 26th Safar 1448 AH
09/08/2026 CE
হিযবুত তাহ্রীর-এর
কেন্দ্রীয় মিডিয়া অফিস