working to establish khilafah

মার্কিন স্বার্থে সৌদি নেতৃত্বাধীন নৌ সামরিক জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি! তাহলে কেন আমরা মসজিদুল-আকসাকে মুক্ত করতে উম্মাহ্‌কে নেতৃত্ব দিতে পারিনা?

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

بسم الله الرحمن الرحيم

মার্কিন স্বার্থে সৌদি নেতৃত্বাধীন নৌ সামরিক জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি!

তাহলে কেন আমরা মসজিদুল-আকসাকে মুক্ত করতে উম্মাহ্‌কে নেতৃত্ব দিতে পারিনা?

বাব আল-মান্দেব প্রণালী ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ১৪টি দেশের সমন্বয়ে একটি নৌ সামরিক জোট গঠন করেছে, যেখানে বাংলাদেশ অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেয়া হয়েছে যখন ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং অন্যদিকে, মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধ বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যকে চরমভাবে ব্যাহত করেছে, ফলে এই সমুদ্রপথটি সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের গভীর কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। তাই, বাব-আল-মান্দেব প্রণালী উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে সৌদি আরবের উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দালাল মুহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।

এর পেছনে আমেরিকার ঘৃণ্য পরিকল্পনা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রকৃতিকে পরিবর্তন করা। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্র, ফিলিস্তিন ও ইরানের মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চালাচ্ছে, সেটাকে সে মুসলিমদের মধ্যকার পারস্পরিক যুদ্ধে পরিণত করতে চায়। যাতে করে ক্রুসেডার বাহিনী ও অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্রের উপর চাপ কমে। এই নির্লজ্জ পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে, বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের শাসকেরা ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করতে সামরিক শক্তি ব্যবহার না করে, আমাদের সৈন্যদের নামিয়ে দিচ্ছে এক ফেতনার যুদ্ধে—যেখানে এক মুসলিম আরেক মুসলিমের রক্ত ঝড়াবে!

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির বলেছেন, মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম হিসেবে সৌদি আরবের একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ “নৈতিক ও আদর্শিক কারণে” নিরাপত্তা সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়ে সৌদি আরবের যেকোন অনুরোধে সাড়া দেবে। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে: যখন মুসলিমদের প্রথম কিবলা, রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ ইসরা-মিরাজের স্থান—মসজিদ আল-আকসা আজ অভিশপ্ত ইহুদিদের দ্বারা আক্রান্ত, যখন এর সম্মান ও মর্যাদাকে প্রতিনিয়ত পদদলিত করা হচ্ছে, যখন এই পবিত্র ভূখন্ডের সম্মানিত মুসলিমদের নৃশংস ও নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তখন এই জোট কোথায়? বাংলাদেশ যদি লোহিত সাগরে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত থাকে, তবে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান যখন আক্রমণের শিকার হয় তখন তার নীরব থাকার আদৌ কি কোন নৈতিক ভিত্তি আছে?

হে মুসলিমগণ!

আমেরিকার চাপিয়ে দেয়া এই ধ্বংসাত্মক ফেতনার যুদ্ধে আমাদের সামরিক বাহিনীকে ব্যবহৃত হতে দেয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমাদের দাবী অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এই দাবীই আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি যে, মহিমান্বিত মসজিদুল আকসা ও ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে আমাদের সামরিক বাহিনীর সাহসী সন্তানদের প্রেরণ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বলেন: {هَذَا كِتَابٌ مِنْ مُحَمَّدٍ النَّبِىِّ ﷺ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُؤْمِنِينَ مِنْ قُرَيْشٍ وَيَثْرِبَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ فَلَحِقَ بِهِمْ وَجَاهَدَ مَعَهُمْ أَنَّهُمْ أُمَّةٌ وَاحِدَةٌ دُونَ النَّاسِ} “এটি নবী মুহাম্মদ কর্তৃক কুরাইশ ও ইয়াসরিব (মদীনা) এর মুসলিমদের এবং তাদের অনুগামী যোদ্ধাদের মধ্যকার লিখিত চুক্তি। তারা অন্য সকল মানুষ থেকে আলাদা, তারা সবাই মিলে একটি একক উম্মাহ্‌” [বায়হাকী, আল-সুনান আল-কুবরা]। নিঃসন্দেহে, মুসলিম উম্মাহ্‌ এক এবং পশ্চিমা আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াইও এক ও অভিন্ন। যেখানে ক্রুসেডার ও ইহুদিরা আমাদের রক্ত ঝরাচ্ছে, আমাদের সম্পদ ও ভূখণ্ড দখল করছে—সেখানে একজন মুসলিম কীভাবে অন্য মুসলিমের বুকে অস্ত্র তাক করতে পারে?

আর কেনইবা আমরা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার বর্তমান বিভেদ কিংবা পরাজয় থেকে মুসলিম উম্মাহ্‌‘কে বের করে আনার নেতৃত্বে থাকব না? শত শত বছর ধরে মুসলিম উম্মাহ্‌’র মধ্যে আমরাই তো এক বুদ্ধিমান, সাহসী, নীতিবান ও উদ্যমী জাতি। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ দখলদারদের বিরুদ্ধে জিহাদের অন্যতম কেন্দ্র ছিল আমাদের ঢাকা ও চট্টগ্রাম। আল্লাহ্‌’র অশেষ রহমতে আমরা সবসময়ই ইসলামকে ভালোবেসেছি এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এখন সময় এসেছে দ্বিতীয় খিলাফতে রাশিদাহ্‌ প্রতিষ্ঠা করার—যা পুরো উম্মাহ্‌ এবং এর সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্রুসেডার বাহিনী ও অভিশপ্ত ইহুদীদের বিরুদ্ধে উম্মাহ্‌’র চূড়ান্ত বিজয়কে ছিনিয়ে আনবে, ইনশা‘আল্লাহ্‌।

 

 

হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস