working to establish khilafah

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন: আসন্ন খিলাফতই বিশ্বব্যাপী মার্কিন আগ্রাসনকে রুখে দাঁড়াবে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

بسم الله الرحمن الرحيم

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন:

আসন্ন খিলাফতই বিশ্বব্যাপী মার্কিন আগ্রাসনকে রুখে দাঁড়াবে

হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ, আজ শুক্রবার (৯জানুয়ারী, ২০২৬) বাদ জুম্মা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে, যার শিরোনাম ছিল: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন: আসন্ন খিলাফতই বিশ্বব্যাপী মার্কিন আগ্রাসনকে রুখে দাঁড়াবে। সমাবেশে বক্তাগণের বক্তব্যের মূল সারাংশ ছিল নিম্নরুপ:

বিশ্ব সন্ত্রাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা এবং অন্যান্য লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে নিজের ‘পেছনের উঠান’ বলে মনে করে এবং তাদের সম্পদের উপর তার অধিকার আছে বলে বিশ্বাস করে! ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত ‘Trump Corollary’ নীতিতে বলা হয়— “পশ্চিম গোলার্ধের (উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকার) রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষেত্র অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে এবং এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদ আহরণে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সরাসরি ব্যবহার করা হবে”। এই ‘Trump Corollary’হল ১৮ শতকের ‘Monroe Doctrine’ এর আধুনিক সংস্করণ, যেসময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আমেরিকা মহাদেশের একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ছিল এবং আটলান্টিকের এপারে এসে প্রভাব বিস্তারের কথা কল্পনাও করতে পারত না। সেই পুরনো নীতিকে পুনরায় চালুর  আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আমেরিকায় আগ্রাসীভাবে নিজের আধিপত্য বিস্তার করছে।

এটি প্রথম ঘটনা নয়, এবং যুক্তরাষ্ট্রকে থামানো না গেলে এটিই শেষ ঘটনাও হবে না। আমেরিকার চিরাচরিত কৌশল হলো— হয় তার গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থানকে উসকে দেওয়া, অথবা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একটি নেতৃত্বশূন্যতা সৃষ্টি করা, যা পরে আমেরিকার কোনো এজেন্ট দিয়ে পূরণ করা হয়। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প হলো যুক্তরাষ্ট্রপন্থী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো— যাকে সম্প্রতি নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এবং যার আন্তর্জাতিক পরিচিতি ইচ্ছাকৃতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

হে মুসলিমগণ, হে বিশ্ববাসী! আমরা কীভাবে এখনও আমেরিকাকে বিশ্বের নেতৃত্বদানকারী রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিচ্ছি? যুক্তরাষ্ট্র চরম অহংকার ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছে—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি পদদলিত করছে। বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার মত আমেরিকার আর কোনো আদর্শিক কর্মসূচী অবশিষ্ট নাই। তার প্রচারিত তথাকথিত স্বাধীনতা, গণতন্ত্র কিংবা মানবাধিকারকে সে নিজেই খেয়ে ফেলেছে। গাজা স্পষ্টভাবে তাদের এই কথিত আদর্শের ভ্রান্তি ও দ্বিমুখী নীতিকে উন্মোচন করেছে।

হে মুসলিমগণ! আমেরিকান আধিপত্যের ঘন অন্ধকার থেকে মানবতাকে মুক্ত করার নেতৃত্ব আপনাদের ছাড়া আর কার আছে? পঁচে যাওয়া পুঁজিবাদের বিপরীতে একটি ন্যায়ভিত্তিক বিকল্প একমাত্র আপনাদের কাছেই রয়েছে। ২৮ রজব, ১৩৪২ হিজরীতে খিলাফতের পতন শুধু উম্মাহ্‌’র নয়—সমগ্র মানবজাতির জন্যই ছিল এক গভীর ক্ষতি। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ —এই বর্বর নীতির শাসনে পৃথিবী জর্জরিত। আজ আল্লাহ ﷻ বিশ্ব পরিস্থিতিকে প্রস্তুত করেছেন, যেন আপনারা মানবতার ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব হিসেবে প্রত্যাবর্তন করেন। অতএব, দৃঢ় সংকল্পে নবুয়তের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করুন। আল্লাহ্‌ ﷻ আপনাদের সাহায্য করবেন এবং আপনাদের হাত দ্বারা পৃথিবী হতে অবিচার দূর করবেন। আল্লাহ্‌ ﷻ বলেন:

﴿وَمَا كُنَّا مُهۡلِكِى الۡقُرٰٓى اِلَّا وَاَهۡلُهَا ظٰلِمُوۡن﴾

“…আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করি না যতক্ষণ না তার বাসিন্দারা অত্যাচারী হয়।” (সূরা আল-কাসাস: ৫৯)

 

হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশএর মিডিয়া অফিস