working to establish khilafah

গাজায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত “আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী”-তে দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে তথাকথিত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার আগ্রহ প্রকাশ মুসলিমদের সাথে চরম বিশ্বাস ঘাতকতা!

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

بسم الله الرحمن الرحيم

গাজায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত “আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী”-তে দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে তথাকথিত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার আগ্রহ প্রকাশ মুসলিমদের সাথে চরম বিশ্বাস ঘাতকতা!

ফিলিস্তিন মুসলিমদের গণহত্যায় অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের মদদদাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য যে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করেছে, তার অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথাকথিত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এদেশের মুসলিমদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার চরম স্পর্ধা দেখিয়েছে। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। ফিলিস্তিনের পবিত্রভূমি থেকে মুসলিমদের উচ্ছেদ করে অবৈধ দখলদার ইহুদীগোষ্ঠীকে প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার অংশীদার হওয়া আল্লাহ্ ﷻ এবং তাঁর রাসূল ﷺ-এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। আল্লাহ্‌ ﷻ বলেন, “মু‘মিনগণ যেন মু‘মিনগণ ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। আর যেকেউ এরূপ করবে তার সাথে আল্লাহ্‌’র কোন সম্পর্ক থাকবে না…” [সূরা আলি-ইমরানঃ ২৮]। এই বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা মুসলিমদের ঈমানী দায়িত্ব। জনগণকে আসন্ন নির্বাচনে পদপার্থী নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদদের নিকট পশ্চিমা কাফির উপনিবেশবাদি শক্তিসমূহের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান দাবী করতে হবে। আর, যেসব রাজনৈতিকগোষ্ঠী মার্কিনীদেরকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

হে দেশবাসী, আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। তাহলে কীভাবে এই ব্যক্তিকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে সহ্য করা হচ্ছে? যখন ভেনেজুয়েলাসহ বিশ্বব্যাপী মার্কিন আগ্রাসনের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবজাতির শত্রুতে পরিণত হয়েছে, দেশবাসী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঔদ্ধত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, তখন অন্তর্বর্তী সরকারের এই হটকারি সিদ্ধান্তকে জনগণ ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।

হে সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠাবান অফিসারগণ! আপনাদের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে, ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করা, আর কাফির উপনিবেশবাদীগোষ্ঠীর সাথে সকল সামরিক জোট প্রত্যাখ্যান করা। কারণ, এসব জোট মুসলিমদেরকে কাফির নেতৃত্বের অধীনে, কুফরের পতাকার নিচে, একটি কুফর সত্তাকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে লড়াই করতে বাধ্য করে—যার সবকিছুই হারাম। মুসলিম নেতৃত্বের এবং ইসলামী পতাকার অধীন হওয়া ছাড়া একজন মুসলিমের জন্য যুদ্ধ করা অনুমোদিত নয়। আহমাদ ও আন-নাসাঈ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ্‌’র রাসূল ﷺ বলেছেন: “তোমরা মুশরিকদের আগুন থেকে আলো গ্রহণ করো না”।আপনাদের রক্তকে এই কুফর যুদ্ধ থেকে পবিত্র রাখতে, আপনাদেরকে অবশ্যই খিলাফত রাষ্ট্রের নেতৃত্বের অধীন হতে হবে এবং এই লক্ষ্যে খিলাফত প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক দল হিযবুত তাহ্‌রীর-এর নিকট শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। আসন্ন খিলাফত আপনাদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন প্রতিহত করতে শক্তিশালী করবে এবং ফিলিস্তিনের মুসলিমসহ নিপীড়িত মানবজাতিকে রক্ষায় আপনাদের গর্জনই তখন যথেষ্ট হবে। আল্লাহ্‌ ﷻ বলেন:

﴿إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنْ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمْ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ …

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ ঈমানদারদের নিকট থেকে তাদের প্রাণ ও তাদের ধন-সম্পদসমূহকে এই বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।  তারা আল্লাহ্‌’র পথে যুদ্ধ করে, যাতে তারা (কখনও) হত্যা করে এবং (কখনও) নিহত হয়…” [সূরা আত-তাওবাঃ১১১]

হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশএর মিডিয়া অফিস