Weekly ISLAMIC VIEWPOINT 105

Weekly 

ISLAMIC VIEWPOINT

….সপ্তাহের সংবাদ পর্যালোচনা 

১০৫ তম সংখ্যা । ৪ নভেম্বর, ২০২৩

এই সংখ্যায় থাকছে :

 

“সাইফুল আজমঃ ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি বিমান গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশি” 

“ইসরাইলকে তুলোধুনো করলেন এরদোগান”

“ফিলিস্তিনে ইজরাইলী হত্যাযজ্ঞ: নিজ দেশের সেনাবাহিনীকে বিক্ষুব্ধ হয়ে ‘কিছু একটা করে ফেলা’ থেকে সতর্ক করল মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি”

“গাজা দখল করা হবে ইসরায়েলের জন্য ‘বড় ভুল’: বাইডেন”

“উল্টো ছিল ইঞ্জিন, আগের দিনই জানানো হয়েছিল ‘দুর্ঘটনা ঘটতে পারে”

“আটকের ক্ষমতা পাচ্ছেন আনসার সদস্যরা, বিল উঠল সংসদে”

“সাইফুল আজমঃ ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি বিমান গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশি” 

খবরঃ

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বিরোধ চলছে কয়েক দশক ধরে। গোটা আরব মিলে ইসরাইলের সঙ্গে এ পর্যন্ত ৩ বার যুদ্ধ হয়েছে। তৃতীয় আরব ইসরাইল যুদ্ধ হয় ১৯৬৭ সালে। তবে এই যুদ্ধে বীরত্ব দেখায় এক বাংলাদেশী। ইসরাইলের বিমান ভূপাতিত করে রেকর্ড করেন তিনি। এমনকি ইসরাইলের ইতিহাসে কোন একক ব্যক্তির হাতে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ বিমান ধ্বংসের রেকর্ড এই বাংলাদেশীর। বাংলাদেশের এই আকাশ যোদ্ধার নাম সাইফুল আজম সুজা। পৃথিবীর মাত্র ২২ জন “লিভিং ইগল” খেতাব পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি একজন। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সাইফুল আজম একটি অনন্য রেকর্ড তৈরি করেন। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ভূপাতিত করেছেন সর্বোচ্চ তিনটি ইসরায়েলি বিমান।  (https://www.youtube.com/watch?v=nG34intSig4)

মন্তব্যঃ

মুসলিম ফাইটার পাইলট সাইফুল আজমের এই সাহসী গল্প প্রমাণ করেছে যে, মুসলিম সামরিক বাহিনী শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শারীয়াহ্‌ বাধ্যবাধকতাকে কখনোই সে যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি/ফলাফলের (Consequences) দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না। বরং মুসলিম সেনাবাহিনী দখলকৃত ইসলামী ভূমিকে শত্রুদের কবল থেকে মুক্ত করাকে সর্বদাই শরীয়াহ বাধ্যবাধকতা (ওয়াজিব) হিসেবে বিবেচনা করেছে। যার ফলে ইসলামী উম্মাহ্‌’র এই অকুতোভয় ও সাহসী বীর সন্তান সাইফুল আজম ব্যাকডেটেড সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে উন্নতমানের সামরিক সরঞ্জামে সজ্জিত শত্রুদেরকে ধরাশায়ী এবং পরাস্ত করার রোল মডেল হয়ে উঠেছিলেন। সে সময়ে ইসরাইলি সুপারসনিকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো সমকক্ষ বিমান আরবদের না থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধের সম্ভাব্য ফলাফল/পরিণতির দিকে চিন্তা না করে ইসরাইলিদের ঠেকাতে শুধুমাত্র সাধারণ মানের “হকার হান্টার’ জঙ্গি বিমান দিয়ে ক্ষিপ্রগতির দুটি ইসরাইলি সুপারসনিক ঘায়েল করেন সাইফুল আজম। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সাইফুল আজম সর্বোচ্চ তিনটি ইসরাইলি বিমান ভূপাতিত করার অনন্য রেকর্ড তৈরি করেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে সাইফুল আজমের মতো অগণিত সাহসী যোদ্ধারা এখনও মুসলিম সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান থাকলেও মুসলিম ভূখন্ডের দালাল শাসকরা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে সামরিকভাবে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাব্য ফলাফল, সহকর্মী কিংবা উচ্চপদস্থ ও অধীনস্ত অফিসারদের প্রতিক্রিয়া এবং এই পদক্ষেপের সফলতার অনিশ্চয়তার ব্যাপারে তাদেরকে প্রতিনিয়ত ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। অথচ মুসলিম ভুমিতে কাফিরদের আক্রমণ ও আগ্রাসনের মুখে শারীয়াহ্‌’র স্পষ্ট ফরজ (ওয়াজিব) বিধান হল উপযুক্ত সামরিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তাদেরকে বিতাড়িত করা। এবং এক্ষেত্রে এইকাজে যাদের ‘সক্ষমতা’ আছে তাদের উপর তথা সামরিক বাহিনীর উপর মূল দায়িত্ব বর্তায়। কিন্তু বর্তমান দালাল শাসকগোষ্ঠী তাদেরকে জাতিসংঘের অধীনে পশ্চিমা কাফিরদের কুফর যুদ্ধে অংশ নিতে ও জীবন দিতে প্রেরণ করছে আর মুসলিমদের সাহায্যের বেলায় তাদেরকে ব্যারাকে বন্দি করে রেখেছে। তাই এরাই সামরিক বাহিনীর শারীয়াহ্‌ হুকুমের দায়িত্ব পালনের পথে প্রধান বাধা।

তাই সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠাবান অফিসারদের মধ্যে যারা মসজিদুল আকসা ও ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিকে অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্রের কবল মুক্ত করার চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও ব্যাকুল হয়ে আছেন তাদেরকে অবশ্যই অনতিবিলম্বে দালাল শাসকগোষ্ঠীকে অপসারণ করে খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিম জাহানের খলিফার নেতৃত্বে আসতে হবে। যিনি দ্রুততার সহিত আমাদের এই সুসংগঠিত ও প্রশিক্ষিত বাহিনীকে অভিযানে পাঠাবেন যাতে অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্রটি দুনিয়া থেকে স্থায়ীভাবে বিলিন হয় এবং মাসজিদুল আক্বসা ও ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমি মুক্ত হয়। আমাদের সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠাবান অফিসারদের তাদের পূর্বসুরী সাইফুল আজম, সালাউদ্দিন আইয়্যুবী, সাইফুদ্দিন কুতুজ এর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। দখলদার ইহুদী সত্ত্বার তথাকথিত অজেয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কল্পকথা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ইতিপূর্বে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার বীর সেনানায়ক সালাহউদ্দিন আইয়ুবিও জেরুজালেম অভিযানের সময় এর ফলাফলের চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হননি যাকে ক্রুসেডাররা সতর্ক করে বলেছিল, “জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হলে আপনার একটি চোখ নষ্ট হতে পারে। উত্তরে সালাহউদ্দিন বললেন: “আমি আল্লাহ্‌’র নামে শপথ করে বলছি, আমি জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হবোই, এমনকি যদি আমাকে জেরুজালেমে অন্ধ হয়েও প্রবেশ করতে হয়!” এমনকি যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, “আপনি মিশর, সিরিয়া এবং অন্যান্য ভূ-খণ্ডের সুলতান তবুও আমরা আপনাকে হাসতে দেখি না, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: যখন বায়তুল মাকদিস, জেরুজালেম ক্রুসেডারদের হাতে বন্দি তখন কীভাবে আমি হাসতে পারি?” 

    –    সিফাত নেওয়াজ 

“ইসরাইলকে তুলোধুনো করলেন এরদোগান”

খবরঃ

গাজা উপত্যকায় ইসরাইল যা করছে, তা কোনো রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের চলমান ভয়াবহ হামলার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলেও অভিহিত করেছেন তিনি। এরদোগান বলেন, বেসামরিক বসতিতে বোমাবর্ষণ, নির্বিচারে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা, ওই অঞ্চলে মানবিক সহায়তা নিয়ে আসা যানবাহনে বাধা এবং এসব কাজকে দক্ষতা হিসাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা কেবল একটি (সন্ত্রাসী) সংগঠনের প্রতিফলন হতে পারে, রাষ্ট্রের নয়। (www.jugantor.com/international/727717/ইসরাইলকে-তুলোধুনো-করলেন-এরদোগান)

মন্তব্যঃ

পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী ও সুপ্রশিক্ষীত সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী নিয়ে গঠিত তুরস্কের সামরিক বাহিনী যেই ব্যক্তির একটি মাত্র আদেশে কয়েক ঘন্টার নোটিসে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে দখলদার ইহুদি বাহিনীকে সত্যিকার অর্থেই তুলোধূনো করে আল-কুদস ও মসজিদুল আক্বসাকে মুক্ত করতে পারে, সেই এরদোগান যখন মুসলিম নারী ও ‍শিশুদের উপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ পরিচালনাকারী ইসরায়েলকে অতি সস্তামানের কথা‘মালা’ দিয়ে আক্রমণ করে তখন মুসলিম উম্মাহ্‌’র জন্য এটা আর সমীচীন থাকে না এরদোগান কিংবা তার মত দালাল শাসকদেরকে আর একমুহূর্তও বরদাস্ত করা। উম্মাহ্‌’র কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে সামরিক সক্ষমতা তৈরী করে তা উম্মাহ্‌’র প্রয়োজনে ব্যবহার না করে যারা জাতিসংঘ কিংবা ন্যাটোতে সাম্রাজ্যবাদীদের হীন স্বার্থরক্ষায় ব্যবহার করে, আর উম্মাহ্‌’র দুর্দিনে মায়াকন্না দেখায় তাদের কাছ থেকে কোন কিছু আশা করাতো দূরে থাক তাদেরকে আর এক মুহূর্তের জন্যও শাসক হিসেবে মেনে নেওয়া নি:স্বন্দেহে একটি অপরাধ। আল্লাহ্‌’র রাসূল (সাঃ) বলেন, “যখন তোমরা কোন মুনকার হতে দেখবে তা হাত দিয়ে প্রতিহত করবে” (সহীহ মুসলিম, আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণিত)।

মুখের প্রতিবাদ তাদের (সেই শাসকদের) জন্য অনুমোদিত নয় যাদের হাতে সামরিক সক্ষমতা বিদ্যমান; মুখের প্রতিবাদ তাদের পক্ষ থেকে উম্মাহ্‌’র প্রতি ক্ষমার অযোগ্য বিশ্বাসঘাতকতা, যারা তাদের হাতে বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতার এক-দশমাংশ বা তারও কম ব্যবহার করলেই আল-আকসা মুক্ত ও পবিত্র হয়ে যায়; মুখের প্রতিবাদ তাদের কাছ থেকে আল্লাহ্‌ আল-আযীম হাশরের দিনে কক্ষনো গ্রহণ করবেন না, যাদের হাতে বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের ঘোষণা বা মসজিদুল আকসার জন্য জরুরি সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করলেই আল-কুদসের অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদিরা (illegal Jewish settlers) বিমান বা নৌপথে পালিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় তাদের ‘আসল’ বাড়িতে চলে যাবে। এরদোগান, সিসি, বিন সৌদ, বাদশা আবদুল্লাহ্‌ ও হাসিনারা যথেষ্ট সময় পেয়েছে উম্মাহ্‌’র জন্য তাদের “সদিচ্ছা” প্রমাণের, কিন্তু তারা কেবলমাত্র পশ্চিমাদের প্রতি তাদের দালালীর অকাট্য প্রমাণই দিয়েছে; তারা আল-আকসা মুক্ত করতে সামরিক বাহিনী পাঠানো দূরে থাক, আল-আকসার জন্য জরুরী সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করতেও ব্যর্থ হয়েছে, যেই আয়োজন ডিফিব্রিলেটর (External Defibrillator) মেশিনের মত মুসলিম উম্মাহ্‌’র হৃদপিন্ডে প্রাণের সঞ্চার করত – পূর্ব থেকে পশ্চিম মুসলিমদের উত্তাল গণজোয়ার বইয়ে দিত, যেই আয়োজন দেখে পশ্চিমা কাফির মোড়লগুলোর শিরদাড়া বেয়ে ভয়ের স্রোত নেমে যেত। এখন উম্মাহ্‌’র প্রয়োজন আবু বকর (রা.)-এর মত একজন খলীফা যিনি খালিদ বিন ওয়ালীদ (রা.)-কে সিরিয়ায় মুসলিম সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক করে পাঠানোর আগে হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “আমি খালিদ-কে ইরাক থেকে তার সৈন্য বাহিনীসহ আশ-শামে (সিরিয়া) পাঠিয়ে রোমানদেরকে তাদের বাবার নাম (পিতৃপরিচয়) ভুলিয়ে দেব!”

    –    রিসাত আহমেদ

“ফিলিস্তিনে ইজরাইলী হত্যাযজ্ঞ: নিজ দেশের সেনাবাহিনীকে বিক্ষুব্ধ হয়ে ‘কিছু একটা করে ফেলা’ থেকে সতর্ক করল মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি”

খবরঃ

মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি তার দেশের সেনাবাহিনীকে বলেছে সে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সমস্যার কুটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাস করে এবং এক্ষেত্রে মিসরকে খুব ‘হিসাব’ কষে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গাজা থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে মিসরের ৩য় ফিল্ড আর্মির চতুর্থ আর্মার্ড ডিভিশনে (সাঁজোয়া ও ট্যাঙ্ক ডিভিশনে) এক জরুরী ইনস্পেকশনে গিয়ে সে বলে, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে জনগণ ও সামরিক বাহিনীকে তাদের ক্ষোভ সংবরণ করতে হবে। সে সতর্ক করে দিয়ে বলে ‘বিক্ষুব্ধ’ ও ‘অতি উৎসাহী’ হয়ে কিছু করা যাবে না এবং ইসরাইলের বিপরীতে মিসরের সামরিক সক্ষমতাকে সে ‘illusion of power’ হিসেবে আখ্যায়ীত করে। (www.middleeasteye.net/news/israel-palestine-war-egypt-sisi-warns-against-actions-anger)

মন্তব্যঃ

হিযবুত তাহরীর-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট ইসলামী মুজতাহিদ শায়খ তাক্বিউদ্দিন আন-নাবহানী (রহ.)-এর সেই বিখ্যাত উক্তি “Israel is the shadow of the traitor Arab rulers” আবারো প্রমাণিত হল সিসির এই বক্তব্যের মাধ্যমে। গাজা থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে মুসলিমদের অন্যতম শক্তিশালী সাঁজোয়া ও ট্যাঙ্ক ডিভিশনকে ফিলিস্তিনে অভিযানে না পাঠিয়ে বিশ্বাসঘাতক সিসি তো বসিয়ে রেখেছেই, আবার সেখানে স্বশরীরে গিয়ে সেনা অফিসারদেরকে হুমকি দিয়ে এসেছে তারা যেন বিক্ষুব্ধ হয়ে নিজ উদ্যোগে ‘কিছু একটা’ করে না ফেলে। সিসি সহ সকল মুসলিম দেশগুলোর শাসকরা যে আসলে পশ্চিমা কাফির রাষ্ট্রগুলোর আজ্ঞাবহ এবং এই দালালদের দিকে সমাধানের জন্য তাকিয়ে থাকলে যে প্রতিবারের মত এবারো প্রতারিত ও আশাহত হতে হবে তা এক’শত ভাগ নিশ্চিত। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল: মুসলিমরা বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বে প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন এবং ফিলিস্তিন নিয়ে বিভিন্ন দাবি জানাচ্ছেন। প্রশ্ন হল এসকল দাবি কার কাছে জানানো হচ্ছে? সময় এসেছে উদ্দেশ্যহীন প্রতিবাদ ও বক্তব্য না দিয়ে বরং সুপরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপের। দাবি জানাতে হবে দেশের সামরিক বাহিনীর অফিসারদের প্রতি যাদের হৃদয় ঈমানে পরিপূর্ণ ও ফিলিস্তিন ও আল-আকসার জন্য যাদের অন্তর ক্ষতবিক্ষত ও তাদের জন্য ‘কিছু একটা করার’ জন্য উদ্বেলিত। তাদের কাছে দাবি জানাতে হবে যেন তারা দেশের বিশ্বাসঘাতক দালাল শাসকগোষ্ঠীকে অপসারণ করে, ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার একমাত্র পথ খিলাফত প্রতিষ্ঠায় ন্যায়নিষ্ঠ দল হিযবুত তাহ্‌রীর-এর নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে। বেশি দেরী হয়ে যাওয়ার পূর্বেই।

শাসক যখন জালিম ও বিশ্বাসঘাতক হয় এবং জনগণের আবেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করে তখন ক্ষমতার করিডোরের প্রভাবশালীদেরকে কিভাবে সংগঠিত হতে হয় তার উদাহরণ আল্লাহ্‌’র রাসূল (সাঃ)-এর সীরাতে (জীবনীতে) বিদ্যমান। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে পরিত্যাগ করতে অস্বীকার করার কারণে ৬১৬ খিষ্টাব্দে তার গোত্র বানু হাশিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষনার লিখিত দলীল যখন আবু জাহাল ও ওয়ালীদ ইবনে মুগীরার নেতৃত্ব কা’বার ভিতরে লটকে দিয়ে বানু হাশিমকে একঘরে ও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল তা মক্কার অধিকাংশ মানুষ কখনোই মানতে পারছিল না। আবার তা প্রতিহত করার সংগঠিত শক্তিও তাদের ছিল না। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর এই কঠিন সময়ে মক্কার হিশাম বিন আমর নামক একজন সাহসী ও চিন্তাশীল ব্যক্তি খাবার বোঝাই উটকে শিআবে আবু তালিবে কাছে রেখে আসতেন যেন মুসলিমদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়। কিন্তু তার মাথায় এই চিন্তা আসল যে এভাবে আর কতদিন? সামান্য উট বোঝাই খাবারে এই অবরুদ্ধ মানুষগুলোর কয়বেলার খাবারইবা হয়। তখন তিনি জুহাইর ইবনে আবি উমাইয়্যা নামক এক প্রভাবশালী কোরাইশী ব্যক্তির কাছে গিয়ে বললেন, “এটা কোন ধরনের কথা যে আপনি পেট ভরে খাবার খাচ্ছেন, আমোদ-প্রমোদ করছেন অথচ বানু হিশামের আপনার ভাই-বোনেরা অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে?” জবাবে জুহাইর বললেন, “আপনি ঠিকই বলেছেন, তাদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। আমারো তাদের জন্য দু:খ হয়; কিন্তু আমরা তো মাত্র দুইজন। পুরো কুরাইশদের বিরুদ্ধে আমারা কী করতে পারি?” তখন হিশাম বললেন, “আমরা একা নই”। তখন জুহাইর বললেন, “আহলে আমি আছি আপনাদের সাথে”। এভাবে হিশাম বিন আমর একে একে জাম’আ বিন আসওয়াদ, মুতঈম ইবনে আদী ও আবু আল বুখতারীর নিকট গিয়ে একই কৌশলে আলোচনা করলেন এবং বললেন “আমরা একা নই” এবং তারা সবাই বললেন, “আহলে আমি আছি আপনাদের সাথে”। তারপর এই পাঁচ সাহসী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে কাবার সামনে হাজির হলেন। হিশাম বিন আমর বাকি কুরাইশ নেতাদেরকে ডেকে কাবার সামনে জড়ো করে বললেন, “আমি এই অবরোধ মানিনা, একঘরে করে রাখার এই দলীল আমি এখনই ছিঁড়ে ফেলব”। আবু জাহাল চিৎকার করে বলে, “হে হিশাম, তোমার সাহস অনেক বেড়েছে! তুমি একা পুরো কুরাইশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছ?” তখন কোরাইশ নেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান নেওয়া বাকি চারজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিশামের সমর্থনে একে একে বলে উঠলেন, “হিশাম ঠিকই বলেছে। এই অবরোধ অন্যায়, আমরা এর অবসান চাই।” তখন আবু জাহাল ও তার সমর্থনকারী কোরাইশ নেতারা বুঝতে পারে এটি পূর্বপরিকল্পিত ও ভয়ে পিছিয়ে যায় এবং এই পাঁচ সাহসী ব্যক্তি একযোগে কাবায় প্রবেশ করে অবাঞ্ছিত ঘোষনার লিখিত দলীলকে ছিড়ে ফেলার জন্য নামিয়ে নিয়ে আসে। অবরুদ্ধ ও গণহত্যার শিকার ফিলিস্তিনের মুসলিমদের মুক্তির কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেশের যালিম ও দালাল শাসকগোষ্ঠীকে অপসারণ করে হিযবুত তাহরীর-এর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী অফিসারদের সংগঠিত হওয়ার এখনই প্রকৃষ্ট সময়। হিশাম বিন আমরের কৌশল অনুসরণ করে তাদের মধ্যে নেতৃত্বশীল ও প্রভাবশালীদের এগিয়ে আসা উচিত, কারণ ন্যায়নিষ্ঠ ও আল্লাহভীরু অফিসাররা কখনোই একা নন, বরং তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ; প্রয়োজন শুধু বুদ্ধিমত্তার সাথে সংগঠিত হওয়া। মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসির বক্তব্য প্রমাণ করে সেদেশের সামরিক অফিসারদের মধ্যে ইসলামের জন্য ‘কিছু একটা করে ফেলার’ তাড়না রয়েছে। সুতরাং, বেশি দেরী হয়ে যাওয়ার পূর্বেই এই দুর্লভ সম্মান অর্জনে দৃঢ়পায়ে অগ্রসর হতে হবে। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন: “(এটি এমন এক অর্জন) যার জন্য প্রতিযোগীদের উচিত প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হওয়া” [সুরা মুতাফ্ফিফিন: ২৬]।

    –    আব্দুল্লাহ্‌ রেজওয়ান

“গাজা দখল করা হবে ইসরায়েলের জন্য ‘বড় ভুল’: বাইডেন”

খবরঃ

ফিলিস্তিনের গাজা দখলের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মার্কিন টেলিভিশন সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন এ সতর্কতার কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি গতকাল রোববার প্রচারিত হয়। সাক্ষাৎকারে বাইডেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, গাজা দখলে ইসরায়েলি কোনো পদক্ষেপ তিনি সমর্থন করবেন কি না। জবাবে বাইডেন বলেন, গাজা দখল করাটা হবে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় ভুল। (www.prothomalo.com/world/usa/8d4e8j9e3t)

মন্তব্যঃ

কোন রাখঢাক না রেখেই ইসরায়েলকে সমর্থন জানানো যুক্তরাষ্ট্র যখন ফিলিস্তিনের জন্য মুসলিম উম্মাহ্‌’র জাগরণ প্রত্যক্ষ করল তখন সে ঘোষণা দিতে বাধ্য হল, ‘ফিলিস্তিনের জলসীমার কাছে যুদ্ধজাহাজ গাজায় হামলার জন্য পাঠানো হয়নি, বরং দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করার জন্য পাঠানো হয়েছে’। এরই ধারাবাহিকতায় বাইডেন বলেছে, গাজা দখল করা হবে ইসরায়েলের জন্য ‘বড় ভুল’। এটি প্রমাণ করে ‘জনমত’ একটি শক্তিশালী মাধ্যম এবং ‘জনমত’কে তারা উপেক্ষা করতে পারে না, কৌশল করে হলেও জনমতকে তারা সমীহ বা সম্মান দেখাতে বাধ্য হয়।

‘ওয়াহান’ (দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা)-কে পরাস্তকারী মাত্র কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি মুজাহিদ ‘আল-আক্বসা ফ্লাড’ অভিযানের মাধ্যমে শুধুমাত্র যে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের দম্ভ ও অপরাজেয়তার মিথ্যা বেলুন চুপসে দিয়েছে তা-ই নয়, বরং বিশ্ব-যালিম আমেরিকা ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের সাম্রাজ্যবাদের ভীতও নাড়িয়ে দিয়েছে। এর জন্যই তরিঘরি করে একের পর এক মন্ত্রীকে ইসরায়েলে পাঠানো, ফোর্ড ক্লাস এয়ারক্রাফ্ট কেরিয়ার স্টাইক গ্রুপকে ভূমধ্যসাগরে ফিলিস্তিনের জলসীমার কাছে মোতায়েনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট বাইডেনসহ ইউরোপের রাষ্ট্রপ্রধানরা সব কাজ ফেলে ইসরায়েলে গিয়ে হাজির! কী এক অভূতপূর্ব ঘটনা! কেবল দুর্বলচিত্তের লোকজনই এই ঘটনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি পশ্চিমাদের সমর্থনকে বড় করে দেখবে ও ইসরায়েলকে সমীহ করার নীতিতে বহাল থাকতে চাইবে, কিন্তু বাস্তব সত্য হল পশ্চিমা কাফির রাষ্ট্রগুলোর প্রধানদের গলা শুকিয়ে গিয়েছে, মনে ভর করেছে অজানা আতঙ্ক এবং তাদের চোখমুখে ফুটে উঠেছে সেই আতঙ্কের ছায়া। এই একই আতঙ্ক তাদের চোখমুখে ফুটে উঠেছিল কায়রোর তাহরীর স্কয়ারে হোসনী মোবারক পতনের আন্দোলনের সময় ও সিরিয়ায় কশাই বাশার ‘আল-খাবিছ’ যখন পতনের দ্বারপ্রান্তে তখনো।

তাহরীর স্কয়ারে মুসলিমদের আন্দোলনের সময় সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দুর্বল ও ভীত কন্ঠে বলেছিল, ‘We need to be very careful about what is happening in Tahrir Square; we need to be careful because we don’t want to see the return of Caliphate in Egypt.’ ঠিক একইভাবে সিরিয়ায় আল-নুসরা ফ্রন্ট ও সমমনা ইসলামপন্থীরা যারা খিলাফত প্রতিষ্ঠাকে তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে ঘোষণা করেছিল তারা যখন দামেস্ক দখল করার দ্বারপ্রান্তে তখনো যুক্তরাষ্ট্র এরকম ছুটোছুটি শুরু করেছিল ও তরিঘরি করে তুরষ্কে পেট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল, যেন তাদের ভাষায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘মডারেট’ শাসকগুলোকে প্রতিষ্ঠিতব্য ‘দামেস্কের খিলাফত’-এর কবল থেকে বাঁচিয়ে রাখা যায়। বাস্তবতা হল, এই মোড়ল রাষ্ট্রগুলো বিশ্বাস করে খিলাফতের পুণঃপ্রতিষ্ঠাকে তারা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না এবং এর প্রত্যাবর্তন অতি সন্নিকটে। এবং তাদের কর্মকান্ড প্রমাণ করে খিলাফতের প্রত্যাবর্তনের পর তাদের প্রধান লক্ষ্য হবে এর পার্শ্ববর্তী মুসলিম ভূমিগুলোর একীভূত (annexation) হওয়াকে বিলম্বিত করা। ‘আল-আক্বসা ফ্লাড’ অভিযানের অভূতপূর্ব সফলতা ও ইসরায়েলের নির্বিচার মুসলিম গণহত্যার পর এই কাফির রাষ্ট্রগুলোর মনে আশঙ্কা যে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে না জানি কোন দেশের ‘মডারেট’ সরকারের পতন হয়ে খিলাফত প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়! না জানি কখন কোনদিক থেকে মুসলিম সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের দিকে তেড়ে আসে! আল্লাহ্‌ যথার্থই পবিত্র কুরআন-এ বলেন, “তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহ্‌’র নূরকে (ইসলামকে) নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহ্‌ তাঁর নূরকে পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেনই, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে” [সূরা আস-সফ: ০৮]।

    –    রিসাত আহমেদ

“উল্টো ছিল ইঞ্জিন, আগের দিনই জানানো হয়েছিল ‘দুর্ঘটনা ঘটতে পারে”

খবরঃ

ঢাকার লোকোশেডে ইঞ্জিন ঘোরানোর যন্ত্র (টার্ন টেবিল) বহু দিন নষ্ট। ঘোরাতে না পেরে ইঞ্জিন উল্টো লাগিয়ে মালবাহী ট্রেন চালানো হয়। উল্টো লাগানো ইঞ্জিনের কারণে চালকের সিগন্যাল দেখতে সমস্যা হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে টার্ন টেবিল দ্রুত মেরামতের তাগিদ দিয়ে রোববার ঢাকার বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলীকে (লোকো) চিঠি দেওয়া হয়। এর একদিন পর সোমবার ভৈরব স্টেশনের আউটারে যাত্রীবাহী এগারসিন্দুর গোধূলি এক্সপ্রেসে উল্টো ইঞ্জিনের মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেছে ১৭ জনের। তবে রেলওয়ে বলছে, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী মালবাহী ট্রেনের চালকের ভুলে দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলের পূর্বাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম সমকালকে বলেন, চট্টগ্রামগামী মালবাহী ট্রেনটিকে স্টেশনে আউটারে থামতে সিগন্যাল দেওয়া হয়। ট্রেনটির লোকো মাস্টার (চালক) সংকেত অমান্য করে স্টেশনে ঢুকে পড়ায় ভৈরব থেকে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী ট্রেনের শেষের তিনটি বগির সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কা লাগে। (samakal.com/bangladesh/article/2310203539/আগের-দিনই-জানানো-হয়েছিল-দুর্ঘটনা-ঘটতে-পারে)

মন্তব্যঃ

ভৈরবে সংঘটিত ট্রেন দুর্ঘটনাটি হঠাৎ সংঘটিত কোন দুর্ঘটনা নয় বরং এটি একটি কাঠামোগত হত্যাকান্ড, যার দায় দায়িত্বজ্ঞানহীন ধর্মনিরেপেক্ষ শাসকগোষ্ঠীও এড়াতে পারেন না। ধর্মনিরেপেক্ষ ব্যবস্থায় ন্যায়-অন্যায়ের ধারণা যেমন সুনির্দিষ্ট নয়, তেমনি শাসকশ্রেণীকে তাদের অন্যায়ের জন্য জবাবদিহিতার প্রতিষ্ঠানিক কাঠামোও খুব দুর্বল। শুধুমাত্র তথাকথিত নির্বাচনের সময় জনগণ শাসকশ্রেনীকে তাদের অপকর্মের জন্য ভোট প্রদান না করে তথাকথিত শাস্তি (!) দেয়ার সুযোগ পায়। তাই ধর্মনিরেপেক্ষ ব্যবস্থায় জনগণের বিষয়গুলো দেখাশুনায় অবহেলা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চস্তর থেকে সর্বোনিম্নস্তর পর্যন্ত দেখা যায়। দুর্ঘটনার পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা প্রদান এবং রেলমন্ত্রী ঘটনাটির পিছনে নাশকতার গন্ধ অনুসন্ধানের মধ্যে তাদের দায়িত্ব পালন সীমিত। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যবস্থাপনাগত ক্রটির বিষয়ে যেমন নাই কোন আত্মসমালোচনা, তেমনি নাই ক্রটিগুলো ঠিক করার কোন তাড়না। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটির চালক দায়িত্ব অবহেলার কারণে শাস্তি পেলেও রেলপথ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল মন্ত্রী এবং জনগণের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল প্রধানমন্ত্রীকে কোন প্রকার শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় নাই। যদিও নষ্ট লোকোশেডে ইঞ্জিন ঘোরানোর যন্ত্র (টার্ন টেবিল), মান্ধাতা আমলের নিম্নমানের সিগনাল ব্যবস্থা, অকেজ ব্রেকিং ব্যবস্থাসহ নানা অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রেল কর্তৃপক্ষই দুর্ঘটনার সকল আয়োজন প্রস্তুত করে রেখেছিল যার দায় রেল মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী এড়াতে পারে না। কিন্তু তারা ক্ষুদ্র রেলকর্মীদের উপর দায় চাপিয়ে নিজেদেরকে দায়মুক্ত রাখতে পারছে, কারণ এই ব্যবস্থায় শাসকের কর্তৃত্ব, দায়িত্ব এবং জবাবদাহিতার মধ্যে ভারসাম্য নাই। দুর্বল রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে জনগণ যদি শাসকগোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে জবাবদিহির সম্মুখিন করতে না পারে তখন শাসক খুব সহজেই তার দায়-দায়িত্ব সাধারণ কর্মীদের উপর চাপিয়ে নিজেদের দায় মুক্ত রাখতে পারে। এই দেশে প্রতিনিয়ত এই ঘটনাই ঘটছে। তাই জনগণ দুঃখ-দুর্দশা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই যাচ্ছে।

ইসলামে কর্তৃত্ব, দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতার মধ্যে রয়েছে পরিপূর্ণ ভারসাম্য কারণ এই ব্যবস্থা এসেছে মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র কাছ থেকে। তিনি (আল্লাহ্‌) মানুষের মানবীয় দুর্বলতা বিচার করে এমন ব্যবস্থা দিয়েছেন যেখানে দায়িত্বশীলদের তাদের কর্মের জন্য দুনিয়া এবং আখেরাতে আল্লাহ্‌’র কাছে জবাবদিহিতা করতে হয়। আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব ইমাম, যিনি জনগণের দায়িত্বশীল তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন …” তাই ইসলামী রাষ্ট্রে শাসক রাষ্ট্রের যেকোন প্রকার অব্যবস্থাপনার পরকালে আল্লাহ্‌’র নিকট কঠিন জবাবদিহিতা এবং দুনিয়াতে শাসকের জবাবদিহিতার জন্য আল্লাহ্‌ প্রদত্ত বিচারিক কাঠামো মাহ্‌কামাতুল মাযালিম আদালতের ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকবেন। শাসকের দায়িত্বের ব্যাপারে খলিফা ওমর (রা.) একদা বলেন, “যদি ফোরাত নদীর কূলে একটি ভেড়ার বাচ্চাও হারানো অবস্থায় মারা যায়, তাতে আমি ভীত হই যে, সেজন্য আমাকে ক্বিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হতে হবে”

    –    মোঃ সিরাজুল ইসলাম   

“আটকের ক্ষমতা পাচ্ছেন আনসার সদস্যরা, বিল উঠল সংসদে”

খবরঃ

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে অপরাধীকে আটক করার ক্ষমতা পাচ্ছেন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা। এ বিধান রেখে ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিল, ২০২৩’ জাতীয় সংসদে তোলা হয়েছে।… প্রস্তাবিত বিলের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যের সামনে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে অপরাধীকে আটক করে অবিলম্বে পুলিশের কাছে সোপর্দ করবে এবং ক্ষেত্রমতো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি; কোনো স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশি এবং মালামাল জব্দ করতে পারবে।’… (https://www.prothomalo.com/bangladesh/m8niunrgym)

মন্তব্যঃ

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি পুলিশী রাষ্ট্র, তার উপর নতুন করে প্রায় ৬১ লক্ষ আনসার সদস্যের পুলিশ বাহিনীর মতো কিংবা কাছাকাছি ক্ষমতা প্রদান তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উপর পুলিশী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের তকমা আরও জোরালো হলো। ১৯৭১ সালে রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই দেশের মুসলিম জনগণের আক্বীদা ও ইসলামের মূলনীতিগুলো উপেক্ষা করে, বরং পশ্চিমা কুফর ধর্মনিরপেক্ষ আক্বীদার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে (যেখানে সার্বভৌমত্ব মানুষের) পরিণত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল এর মাধ্যমেই প্রকৃত ‘স্বাধীনতা’ বা ‘মুক্তি’ মিলবে। কিন্তু স্বাধীনতা চর্চার প্রকৃত বাস্তবতা হলো, এটা একজন চর্চা করলে তা অন্যজনের পরাধীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং দিনশেষে একমাত্র ক্ষমতাবানরাই স্বাধীনতার চর্চা করতে পারে। যেমন, বাংলাদেশে বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার স্বাধীনতার চর্চা, সকল বিরোধী মতের দলসহ দেশের জনগণকে তার পরাধীন বানিয়ে ফেলেছে। এভাবেই সে একজন জনবিচ্ছিন্ন শাসকে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিরোধী মতের দলগুলোসহ দেশের মানুষ এই অবস্থা মেনে নিতে পারেনি। তারা ৫ই মে আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটাসংস্কার আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এই কারণে বর্তমানে নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে আরো কঠোরভাবে দমনের জন্য হাসিনা সরকার নতুন করে আনসার বাহিনীকে এই সকল ক্ষমতা (আটক-তল্লাশি-মালামাল জব্দ) দিয়ে সংসদে বিল পাস করেছে। তাই বলা যায়, এই ব্যবস্থায় সরকার যত জনবিচ্ছিন্ন হয়, রাষ্ট্র ততই পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং শাসকগোষ্ঠীর জনবিচ্ছিন্ন হওয়াটাই বর্তমান ‘স্বাধীনতা’র ধারণা চর্চাকারী ও প্রয়োগকারী রাষ্ট্রসমূহের নিশ্চিত পরিণতি। অর্থাৎ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়াটাই বর্তমান লিভারেল ডেমোক্রেটিক বা উদারতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর গন্তব্য। সেটা আজ হোক বা কাল।

কিন্তু ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সার্বভৌমত্ব শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র। একারণে এখানে শাসক কিংবা জনগণ প্রত্যেকেই আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র দাস ও তাঁর পরাধীন। এখানে শাসক থেকে শুরু করে সকল প্রশাসনিক কর্মচারীগণের শারিয়াহ্‌ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। তাই তাদের তথাকথিত স্বাধীনতা চর্চার বা খেলায়খুশী মত চলার কোন সুযোগ নাই। শারীয়াহ্ নির্দেশিনা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা শাসককে জনমুখী করে তোলে, ফলে এই ব্যবস্থায় শাসক জনগণকে ভালোবাসে এবং জনগণও শাসককে ভালোবাসে। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে উৎকৃষ্ট শাসক হচ্ছেন সেই শাসক, জনগণ যাকে ভালোবাসে এবং তিনিও জনগণকে ভালোবাসেন, জনগণের জন্য তিনি দোয়া করেন এবং জনগণও তার জন্য দোয়া করে…”। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ধারণাটি এই শাসন ব্যবস্থায় ‘জনগণের দেখাশোনা করা’র মহান ও পবিত্র দায়িত্ব থেকে উদ্ভূত। তাই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী (ইসলামী পরিভাষায় এই বাহিনী সুরতাহ নামে পরিচিত) এখানে শাসকের গোলাম হয়ে তার অন্যায় হুকুম পালন করে না, বরং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন সমস্যাসমূহ সমাধান করে। নাগরিকদের শান্তি-শৃংখলা রক্ষার নামে শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় রাষ্ট্রকে এখানে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়োজন পড়ে না।

    –    মো: জহিরুল ইসলাম