“যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায়”- মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য জুলাই অভ্যুত্থানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

بسم الله الرحمن الرحيم

“যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায়”- মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য জুলাই অভ্যুত্থানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায় বলে মন্তব্য করে এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিনীদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ভারত যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন, তখন এই রাষ্ট্রদূত আমাদের শত্রুরাষ্ট্র ভারতকে মার্কিনীদের সমর্থন ও মদদের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। অথচ, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্তি এবং অন্যতম স্লোগাণ ছিল, “দিল্লি না ঢাকা – ঢাকা, ঢাকা”। এই বক্তব্যের মাধ্যমে এই অঞ্চলে চীনকে নিয়ন্ত্রণ ও খিলাফত ব্যবস্থার উত্থানকে ঠেকাতে মার্কিন-ভারতের কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি পুনব্যক্ত হয়েছে মাত্র, যা আমরা, হিযবুত তাহ্‌রীর ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করে আসছি। আর বাংলাদেশকে তারা এই কৌশলের জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করতে মরিয়া। নিঃসন্দেহে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এরকম বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ। অন্তবর্তী সরকারকে তার এই মন্তব্য বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ করা উচিত। আর দেশের সকল নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মার্কিনী ও তাদের আঞ্চলিক চৌকিদার ভারতের এই হীন স্বার্থের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে, অন্যথায়, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই, তাদেরকে অবশ্যই পতিত হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

হে সচেতন জনগণ!  ভারতের আগ্রাসন মোকাবেলায় যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব করছে তাদের জন্য এটি একটি সতর্ক বার্তা। তাদের উদ্দেশ্যে আমরা এই বিষয়টি আবারও পুনব্যক্ত করতে চাই, মার্কিনীরা তাদের আঞ্চলিক চৌকিদার ভারতকে শক্তিশালী করছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সামরিক জোট (QUAD)-এ ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সুতরাং, যারা ভারতের আগ্রাসন মোকাবেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব করছে, তারা জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিনীদের অনুগত রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবীরা জনগণের ভারতবিরোধী মনোভাবকে ব্যবহার করে এই অঞ্চলে উপনিবেশবাদীশক্তি মার্কিনীদের উপস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশলকে ন্যায্যতা দেয়ার অপচেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম দেশ, যাদের অধিকাংশ তরুণ। এদেশের জনশক্তি, কৌশলগত অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে আমাদের পক্ষে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে নেতৃত্বশীল হওয়া সম্ভব, যার জন্য দরকার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশের জনগণকে হিযবুত তাহ্‌রীর-এর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আল্লাহ্ ﷻ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَتَّخِذُوا الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَتُرِيدُونَ أَنْ تَجْعَلُوا لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا مُبِينًا﴿

“হে মু’মিনগণ! তোমরা মু’মিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা কি আল্লাহ্’র জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ দিতে চাও?” [সূরা আন-নিসা : ১৪৪]।

হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশএর মিডিয়া অফিস