জেগে উঠো বাংলাদেশ: হাসিনার দাসত্বের পথ নয়, বরং আওরঙ্গজেবের বীরত্বের পথই হোক আমাদের আলোকবর্তিকা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

بسم الله الرحمن الرحيم

জেগে উঠো বাংলাদেশ: হাসিনার দাসত্বের পথ নয়, বরং আওরঙ্গজেবের বীরত্বের পথই হোক আমাদের আলোকবর্তিকা

সম্প্রতি দিল্লিতে পতিত যালিম শাসক শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মুসলিমের জন্য এক কঠোর সতর্কবার্তা। এটি আমাদের বিরুদ্ধে চলমান শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

হিন্দুত্ববাদী ভারতের ‘অখণ্ড ভারত’ মতাদর্শই বাংলাদেশ নামক মুসলিম ভূখণ্ডের উপর তাদের আধিপত্যবাদী আচরণ এবং এই অঞ্চলের মুসলিমদের উপর তাদের অব্যাহত নিপীড়নের মূল চালিকাশক্তি। কাশ্মীর থেকে শুরু করে আসাম পর্যন্ত, নিপীড়নের শিকার আমাদের মুসলিম ভাই-বোনেরা আজও আর্তনাদ করছেন। এই মুশরিক রাষ্ট্র গাজায় গণহত্যায় লিপ্ত অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্র ও তার মদদদাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক দিনকে দিন আরও জোরদার করে চলেছে। তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একটি স্বাধীন মুসলিম বাংলাদেশের কোনো স্থান নেই। অথচ, এসব প্রত্যক্ষ করার পরও, আমাদের শাসকগোষ্ঠী অতীতের ভুলগুলোরই পুনরাবৃত্তি করে চলেছে। তারা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার মত কৌশলী চিন্তা না করে, সাময়িক স্বস্তি কিংবা সুবিধার পেছনে ছুটছেন। ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, ইসলামের প্রতি শত্রুতা পোষণকারীদের সাথে সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক যেকোন জোট ও সমঝোতা আমাদেরকে ক্রমান্বয়ে দুর্বল করা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।

রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো রেখে গেছেন: হয় তারা ইসলামের সুমহান বাণী গ্রহণ করে ইসলামী উম্মাহ্‌’র অংশ হবে, নতুবা মুসলিম ভূমি মুক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত যুদ্ধের মুখোমুখি হবে। যারা হুদায়বিয়ার সন্ধির উদাহরণ টানেন, তাদের জানা উচিত সেটা ছিল সাময়িক যুদ্ধ বিরতি। সুলতান আওরঙ্গজেব রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ-এর দেখানো কাঠামোটি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। বৌদ্ধ শাসকেরা যখন মুসলিমদের উপর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তখন তিনি চট্টগ্রামকে মুক্ত করেন এবং আরাকানে বৌদ্ধদের পাঁচশত বছরের পুরোনো সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে দেন। তিনি জানতেন, সাময়িক যুদ্ধ বিরতি অনুমোদিত, কিন্তু স্থায়ী আত্মসমর্পণ কখনোই নয়। আজকে আমাদের শাসকগোষ্ঠী যেখানে ছাড় দিচ্ছেন, আওরঙ্গজেব সেখানে দেখিয়েছেন সাহস; আর আজকের শাসকগোষ্ঠী যেখানে আপসের পথ বেছে নিয়েছেন, আওরঙ্গজেব সেখানে ইসলাম প্রদত্ত সমাধানের নীতিতে অটল ছিলেন।

হে দেশবাসী! আমরা, হিযবুত তাহ্‌রীর এই মুশরিক শত্রুরাষ্ট্রের ব্যাপারে কখনোই নীরব ছিলাম না। ২০০৯ সালে পিলখানা ষড়যন্ত্রের পর থেকে আমরা যালিম হাসিনা ও তার প্রভু মার্কিন-বৃটেন-ভারতের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছি। পনেরো বছরের কঠিন রাজনৈতিক সংগ্রামে আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী গ্রেফতার, গুম, অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছে,  এবং অনেকের শিক্ষাজীবন, পেশা কিংবা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের প্রচারবিমুখ সেইসব বীরেরা নীরবে আড়ালে থেকে নিরলসভাবে জনগণকে জাগিয়ে তোলার কাজ করে গেছেন, আর একই সময়ে আমাদের দলের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে তরুণ প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলেছেন। এরপর যখন ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিস্ফোরিত হলো, তখনও ছাত্র-জনতা ও সামরিক বাহিনীর প্রতি আমাদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। আমরা দাবী করি না, আমরাই এই আন্দোলনের একমাত্র কারিগর; বরং এর প্রকৃত নায়ক ছিল দেশের আপামর জনসাধারণ। তবে যালিমের সিংহাসন কাঁপিয়ে দিতে এবং তার ভারতে পলায়নের প্রেক্ষাপট তৈরিতে আমরা পনেরো বছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান আজ বেহাত হয়ে গেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ইসলামের ন্যায়ের শাসন ব্যবস্থা এবং কাফির-মুশরিক রাষ্ট্রসমূহের আধিপত্যমুক্ত প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের যে স্বপ্ন, তা অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে। কাফির-মুশরিক শক্তিগুলো আবারও তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে তুলছে।

তবে এখনো আশা আছে—আর তা নিহিত রয়েছে আমাদের ঐক্যে। আমরা সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠাবান অফিসারগণ, তরুণ প্রজন্ম, এবং সকল আন্তরিক মুসলিমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমরা একসাথে অসম্পূর্ণ এই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করতে পারি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অন্তরে আজও আওরঙ্গজেবের সেই চেতনা জীবিত আছে—শুধু তা সুযোগের অপেক্ষায়। তারা হচ্ছেন এমন ঈমানদার ও মর্যাদাবান, যারা দুনিয়ার যেকোন শক্তির পরিবর্তে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র প্রতি তাদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাকে বেশী উপলব্ধি করেন।

সাময়িক স্বস্তি বা সুবিধা নামক আপোষমূলক কৌশল ত্যাগ করার সময় এসেছে। মুসলিমদের মর্যাদাকে অবমাননা করে এমন চুক্তি ও সমঝোতা সমূহকে প্রত্যাখ্যান করুন। নিজেদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারে জেগে উঠুন। সমগ্র উপমহাদেশজুড়ে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। এটি কোনো স্বপ্ন নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ও তাঁর রাসূল ﷺ এর প্রতিশ্রুতি: খিলাফত অবশ্যই ফিরে আসবে, নবুয়্যতের আদলে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন: ﴿وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الأَرْضِ…﴾   “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খিলাফত (শাসন-কর্তৃত্ব) দান করবেন…” [আন-নূর: ৫৫]। শত্রুরা যতই এটি অপছন্দ করুক, আল্লাহ্’র বাণীই সর্বদা সত্য ও বিজয়ী হবে। অতএব, খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাজে সর্বশক্তি দিয়ে নিয়োজিত হওয়ার এখনই সময়।

 

 

 

হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস